kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

নিরাপদ প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা

মো. ইউসুপ ফারুক

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নিরাপদ প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা

অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বিশ্ব এখন প্রযুক্তির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। করোনা মহামারির আগে প্রযুক্তির যে ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছিল, করোনা প্রাদুর্ভাবের পর তা আরো উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে আমরা যে কাজই করি না কেন, তার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে প্রযুক্তি জড়িত। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এরপর প্রযুক্তি আমাদের জন্য কী নিয়ে অপেক্ষা করছে?

প্রযুক্তি মানুষের সামনে তথ্যের অসীম সম্ভাবনাময় দুয়ার উন্মোচন করেছে।

বিজ্ঞাপন

মানুষ এখন সহজে যেকোনো তথ্য লাভ করতে পারে এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এখন মানুষ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেও পুরো বিশ্বের তথ্য লাভ করতে পারছে শুধু ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির কল্যাণে। তবে আমরা যাতে নিরাপদে একে অন্যের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারি এবং এ ক্ষেত্রে কোনো কিছু যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

একটি তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৫ লাখ (+১১.৬ শতাংশ)। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সাইবার অপরাধও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের সমাজে যেসব অপরাধ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে সাইবার বুলিং, সাইবার প্রতারণা এবং পাইরেসি। এসব অপরাধ অসংখ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে।

নির্দ্বিধায় বলা যায়, বর্তমানে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, এমনকি জাতীয় নিরাপত্তাও ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কৃষক থেকে শুরু করে শিক্ষক পর্যন্ত—সর্বস্তরের মানুষ নেটওয়ার্কিংয়ের এই ভার্চুয়ালজগতে প্রবেশ করেছে। তবে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী থাকা সত্ত্বেও বেশির ভাগ মানুষেরই ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা বাড়ানো দরকার।

সাইবার নিরাপত্তা সারা বিশ্বেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাপ্লাই চেইনে ব্যাঘাত থেকে শুরু করে র‌্যানসমওয়্যার হামলা পর্যন্ত সাইবার অপরাধীরা ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে এবং বিভিন্ন নিত্যনতুন উপায়ে হামলা করছে। কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সাইবার নিরাপত্তা খাতে দক্ষতাসম্পন্ন পর্যাপ্ত জনবল নেই এবং চাকরির বাজারে এসব পদ ফাঁকা পড়ে থাকে।

চাকরির বাজারে সাইবার নিরাপত্তায় অভিজ্ঞ শ্রমশক্তির চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্তমানে এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঘাটতি দূর করতে এগিয়ে আসতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রগ্রাম চালু, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রগ্রাম, শিক্ষানবিশ, সার্টিফিকেশন এবং সরকারি প্রগ্রাম।

সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে চলেছে। বিশেষত, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের জীবনের সব ক্ষেত্রকে ডিজিটালের আওতাভুক্ত করার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের সহায়তা প্রদানে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

একক প্রচেষ্টায় সাইবার নিরাপত্তা খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দেশের চাহিদা অনুযায়ী সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক দক্ষতা ও প্রগ্রাম তৈরিতে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নন-প্রফিট, সরকারি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাধারণ প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করতে হবে এবং বিদ্যমান প্রযুক্তিভিত্তিক উপকরণগুলো যাতে সবাই ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি অনুধাবন এবং তা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে মাইক্রোসফট অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সঙ্গে অংশীদারি করেছে। এর মাধ্যমে শুধু নির্দিষ্ট কিছু দেশের দক্ষ জনবলের অভাব নিয়েই পূর্ণাঙ্গ গবেষণা করা হবে না, একই সঙ্গে মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বড়সড় ঝুঁকি থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে ধারাবাহিক এবং টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থী, ক্যারিয়ার পরিবর্তনে আগ্রহী ব্যক্তি অথবা আইটি প্রফেশনাল, যাঁরা সাইবার নিরাপত্তায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাঁদের প্রশিক্ষণ প্রদানে ও দক্ষতা বিকাশে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কনটেন্ট সহজলভ্য করতে হবে।

একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত জ্ঞান প্রদানের জন্য আরো দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক প্রয়োজন। যথাযথ পাঠক্রম প্রদানের জন্য মাইক্রোসফট বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারি করছে।

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জটিল ও নবতর উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠছে। এর ফলে পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাইবার হামলা প্রতিহত করতে এবং প্রতিষ্ঠান ও মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করতে হবে এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে জনবল বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তাই সুস্থ ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণে মনোনিবেশ করতে হবে।

 লেখক : ম্যানেজিং ডিরেক্টর

মাইক্রোসফট বাংলাদেশ



সাতদিনের সেরা