kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

১৭ মে : ঐতিহাসিক তাৎপর্যময় দিন

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



১৭ মে : ঐতিহাসিক তাৎপর্যময় দিন

সূর্যের চারদিকে পৃথিবীসহ সব গ্রহ-উপগ্রহ ঘুরছে। উল্টোটি কখনো হয়নি, হয় না। কারণ সূর্যের ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহ সূর্যের দ্বারা প্রভাবিত।

বিজ্ঞাপন

একবার ভাবুন, সূর্যের এই ক্ষমতার যদি হেরফের হয়, তাহলে কী প্রলয়কাণ্ড ঘটতে পারে।

সূর্যের মতোই রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে রাজনীতি। দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, জনকল্যাণ, সুশাসন, গণতন্ত্রসহ যা কিছুই বলি, তার সব কিছুর ভালো-মন্দ রাজনীতির ওপর নির্ভরশীল। তবে রাজনীতির বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু বটমলাইন হচ্ছে, জনজীবন ও জনকল্যাণের যত সূচক আছে, তা দেখেই শুধু বিচার করা যাবে কোন রাজনীতি সঠিক, আর কোনটি নয়। এক ভৌগোলিক এলাকার সব রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য অন্য এলাকার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় না। কারণ মাটি, মানুষ, জলবায়ু এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে একেক এলাকায় একেক রকম সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটে, আর নিজস্ব সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রাজনীতিই শুধু একটি দেশের জন্য মানানসই হতে পারে; ইমপোর্টেড পলিটিকস বা আমদানীকৃত রাজনীতির দ্বারা জনমানুষের কল্যাণ হয় না, গোষ্ঠীতন্ত্রের কবজায় চলে যায় রাজনীতি।

বাংলার মাটি, মানুষ, আলো-বাতাস ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজনীতির সর্বপ্রথম উদ্ভাবক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই রাজনীতির শক্তিতেই মাত্র ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তির পথে অসামান্য অর্জনের এই রাজনীতিকে বাংলাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি সাংবিধানিক ব্যবস্থা তৈরি করেন। বাহাত্তরের সংবিধানই তার প্রমাণ।

হাজার বছরের বিদেশি শাসন এবং সেই শাসনের ফলে দেশের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া একটা প্রবল প্রতাপশালী ও বাঙালি সংস্কৃতির চরম বিরোধী অসাম্প্রদায়িক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, যারা বিদেশি শাসকদের পদলেহনের মাধ্যমে বিপুল ধনসম্পদের মালিক শুধু নয়, চলমান বৈশ্বিক ক্ষমতাবলয়ের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েছে, তাদের সব ষড়যন্ত্রের বাধা অতিক্রম করে আকাঙ্ক্ষিত রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন ছিল, বঙ্গবন্ধু সেই সময়টুকু পেলেন না। ঘটে গেল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। একচ্ছত্র ক্ষমতায় আবির্ভূত হলেন প্রথম সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি প্রধান সামরিক শাসক হিসেবে সামরিক আদেশ দ্বারা বাংলা, বাঙালি, বাংলার জলবায়ু ও ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত রাজনীতির সব বৈশিষ্ট্য দাড়ি-কমাসহ বাহাত্তরের সংবিধান থেকে বাতিল করে দিলেন। ফিরে এলো ভিন্ন ভৌগোলিক এলাকায় উদ্ভূত রাজনীতি, যার অন্য নাম পাকিস্তানপন্থী ও সামরিক স্টাইলের রাজনীতি, যা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশের মানুষ জিয়াউর রহমানের ভেতরে আইয়ুব খানের চেহারা দেখতে পেল। ফল যা হওয়ার সেটাই হলো। শুরু হয় ক্যু-পাল্টা ক্যু এবং খুনাখুনি ও রক্তাক্তের রাজনীতি। যার এক পর্যায়ে জিয়াউর রহমানও নিহত হলেন। কিন্তু ভিনদেশি রাজনীতির এমনই পরিণতি যে একজন সিটিং রাষ্ট্রপতি নিহত হলেন, তার বিচার কেউ চাইল না, কোনো তদন্ত হলো না, যদিও পরবর্তী সময়ে জিয়ার উত্তরসূরিরা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, জিয়ার প্রবর্তিত ভিনদেশি রাজনীতির কবল থেকে বাংলাদেশ আজও মুক্ত হতে পারছে না।

রাজনীতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এবং তার সঙ্গে জড়িত ঘটনাবলির কথায় এখন আসা যাক। ১৯৭৫ সালের পর প্রচণ্ড রাজনৈতিক ঝড়ে পতিত আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালের জাতীয় কাউন্সিলে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসূরি শেখ হাসিনা দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তখন বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিটা কেমন ছিল। বাবা, মা, ছোট ভাই শিশু রাসেলসহ পরিবারের সব সদস্যের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির নিদারুণ বেদনাময় হৃদয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি যখন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগ দমনের জন্য পাকিস্তান সময়ের চেয়েও ভয়াবহ খড়্গহস্তে দণ্ডায়মান। নিজ পিতার বাড়ি ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় শেখ হাসিনা প্রবেশ করতে পারলেন না। বলা হলো, সামরিক আইনের হুকুম আছে, প্রবেশ করা যাবে না। জিয়াউর রহমান তত দিনে সামরিক আইনের ফরমান দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বলতে যা বোঝায় সেটিকে কবরস্থ করে ফেলেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের অন্তর থেকে সেটিকে মুছে ফেলতে পারেননি। অন্তরে থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক আইডেনটিটি জয় বাংলা এবং বঙ্গবন্ধু প্রকাশ্যে উচ্চারণ করার সাহস কারো ছিল না।

জিয়া শুধু একাত্তরের পরাজিত এবং নিষিদ্ধ জামায়াতসহ সব পাকিস্তানপন্থী দলকে শুধু রাজনীতি করার সুযোগ দিলেন তা-ই নয়, বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় উগ্রবাদ বিস্তারে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নেটওয়ার্কিংয়ের সহায়তায় হাজার হাজার কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার অবারিত দ্বার খুলে দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চরম ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী সৃষ্টির সুযোগ উন্মুক্ত হয়, যা এরশাদের সময় পরিপূর্ণতা লাভ করে এবং এখনো অব্যাহতভাবে চলছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনা প্রতিষ্ঠায় এমন কোনো পদক্ষেপ নেই যা তিনি গ্রহণ করেননি। লক্ষ্য, বাংলাদেশ যেন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আদর্শের প্রধান ধারক ও বাহক ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র আর কখনো হতে না পারে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবাহী একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগকে ছিন্নভিন্ন করার কূটকৌশল গ্রহণ করা হয়। আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধারা সর্বত্রই অবহেলিত ও অবাঞ্ছিত। এ ধরনের একটা বিপর্যয়মুখী পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা।

জিয়াউর রহমানের রক্তাক্ত মৃত্যুর পথ ধরে ক্ষমতায় আসেন দ্বিতীয় সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ। তিনি জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতা শুধু অব্যাহত নয়, সেই ধারাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছেন। সংবিধানকে কলঙ্কিত করেছেন। তাতে রাজনীতি ও ধর্ম—দুটিরই চরম ক্ষতি হয়েছে। মানুষের মুখে মুখে তখন শোনা যেত, বাংলাদেশে চলছে হুন্ডা আর গুণ্ডা বাহিনীর রাজনীতি। সুতরাং লেখার শুরুতে যে কথা বলেছি, ভিনদেশি ইমপোর্টেড ভিন সংস্কৃতির অচল দুর্বল রাজনীতির কারণে দেশের সব কিছু মুখ থুবড়ে পড়ে। এই ধরনের প্রবল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘরের ও বাইরের শত্রুর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শসংবলিত রাজনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামে নামেন শেখ হাসিনা। ১৯ বার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড আক্রমণের প্রধান টার্গেট ছিলেন তিনি।

কিন্তু শেখ হাসিনার অপরাধটা কী। অপরাধ কিছুই না। তারা জানে শেখ হাসিনা রাজনীতিতে থাকলে তাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশকে পাকিস্তানপন্থী সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানো সম্ভব হবে না এবং রাষ্ট্রক্ষমতার স্বাদও তারা ভোগ করতে পারবে না। দুই সামরিক শাসকের উত্তরসূরি জামায়াত, হেফাজত ও ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী তো সম্মিলিতভাবে আছেই, তার সঙ্গে কিছুটা ছদ্মবেশী আরেকটি ভিন্ন গোষ্ঠী আছে, যারা শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে বিদায় করতে অত্যন্ত উদগ্রীব। তাদের মধ্যে জনবিচ্ছিন্ন ও নামসর্বস্ব কিছু রাজনৈতিক নেতা, অর্থনীতিবিদ, সিনিয়র সাংবাদিক, ব্যাংকার, এনজিও এবং অন্যান্য পেশারও কিছু লোক আছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল এবং নিজ নিজ পেশায় সুপ্রিতিষ্ঠিত। বৈশ্বিক অঙ্গনের শক্তিবলয়ের সঙ্গে একটা যোগাযোগ এবং সেখানে সহজ প্রবেশাধিকার রয়েছে। এটাকে তারা কাজে লাগায়।

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় তাদের বলা হয় অলিগার্ক ও অলিগার্কি, অর্থাৎ গোষ্ঠী ও গোষ্ঠীতন্ত্র। তাদের কাছে গোষ্ঠীর স্বার্থই মুখ্য, বাকি সব গৌণ। সঠিক রাজনীতি থেকে তারা কোনো দিন ক্ষমতার স্বাদ নিতে পারবে না। ভোটে দাঁড়ানোর সাহস নেই। কারণ জামানত তো যাবেই, ভোটের বাক্সে এক হাজার ভোট পড়বে কি না সন্দেহ। তাই দেখা গেল, ২০০৭-০৮ মেয়াদের অবৈধ সরকারের পেশিশক্তিবলে বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টায় তারা প্রথম ও প্রধান টার্গেট করে শেখ হাসিনাকে। তাদের জেল, জুলুম ও হত্যার হুমকিকে সেদিন শেখ হাসিনা উপেক্ষা করেছেন। দেশ, দেশের মানুষ, রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে রক্ষা করার জন্য সব হুমকিকে উপেক্ষা এবং নিজের জীবনের ওপর বাজি ধরে ২০০৭ সালের ৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তাই ১৯৮১ সালের ১৭ মে যেমন, ঠিক তেমনি ২০০৭ সালের ৭ মে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যময় দিন ও টার্নিং পয়েন্ট।

২০০৭-০৮ মেয়াদে দেখা সেই গোষ্ঠীকে আবার ২০১২-১৩ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ বাতিলের ঘটনার সময় একই রূপে দেখা যায়। শেখ হাসিনাকে হেয় করার জন্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাপী তোড়জোড় শুরু করে। হাবভাব দেখে মনে হয়েছে, এবার তারা শেখ হাসিনাকে দেখে নেবে। কিন্তু কানাডার ফেডারেল আদালতের রায়ে যখন বলা হলো, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি, তখন তারা চুপসে গেল। কিন্তু তারা বসে নেই। ৫১ বছরের ইতিহাসে কোন শাসক দেশের জন্য কী করেছেন। দুই সামরিক শাসক এবং তাঁদের নতুন প্রতিভূরা দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। দেশের কোনো একটি বৃহত্তর স্বার্থ ও লক্ষ্য তাঁদের দ্বারা অর্জিত হয়নি। বড় জাতীয় ও আন্তর্দেশীয় একটি সমস্যাও তাঁরা সমাধান করতে পারেননি। কিন্তু শেখ হাসিনা পিতার মতো সব হুমকি উপেক্ষা করে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন বলেই আজ আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি। তাঁর শক্তিশালী নেতৃত্বের গুণে ১৭ কোটি মানুষের দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রত্যেক মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ, বাড়ির সামনে পাকা রাস্তা। খেটে খাওয়া কৃষক, শ্রমিকের ঘরেও এখন ফ্রিজ, টেলিভিশন। গায়ে কাপড়, পায়ে জুতা-স্যান্ডেল। নতুন প্রজন্মের জন্য অসীম সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত। বাংলাদেশকে এখন আর কেউ পরবর্তী আফগানিস্তান বলতে পারে না। দেশের অভ্যন্তরে ও বৈশ্বিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার ভূমিকা এখন অনন্য উদাহরণ।

২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এবং শেখ হাসিনা প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে মাত্র দেড় বছরের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ২১ বছরের ঘনীভূত সশস্ত্র বিদ্রোহের যেভাবে শান্তিপূর্ণ পন্থায় সমাধান করেছেন, তার উদাহরণ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। ভয়ংকর ভ্রাতৃঘাতী রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে শুধু তা-ই নয়; ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ মিলে পাল্টাপাল্টি গোপন প্রক্সি যুদ্ধের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তাতে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শান্তি ভঙ্গের কারণ হয়ে উঠেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিদ্রোহ। সুতরাং পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রেখেছে। তাই এ জন্য শেখ হাসিনা নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে পারতেন। কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কারও এখন বিতর্কের মধ্যে পড়ে গেছে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা এবং ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়সহ প্রতিবেশীর সঙ্গে অন্যান্য বিরোধ শান্তিপূর্ণ পন্থায় নিষ্পত্তিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সাহস ও গভীর দূরদৃষ্টির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণের প্রতিফলন ঘটেছে। বিশ্বের সব বড় শক্তিকে একই সময়ে উন্নয়নের অংশীদার করতে পারায় বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের পরিচয় পেয়েছে। একটা বুলেট পেছনে পেছনে ধাওয়া করাকে উপেক্ষা করে আজকে তিনি বাংলাদেশকে যেখানে এনেছেন, তার পেছনে নিজের প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করেছে ধমনিতে বহমান রক্ত, পিতার রক্ত। কারণ রক্ত কথা বলে।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

[email protected]

 



সাতদিনের সেরা