kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

জনগণের জন্য রাজনীতি

হায়দার মোহাম্মদ জিতু

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জনগণের জন্য রাজনীতি

বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতি যতটা সমৃদ্ধ, যতটা প্রশান্তির, ততটা বিশ্বের আর কোথাও কোনো স্থানে নেই। এই গ্রামীণ সংস্কৃতির একটা বিশেষ আঙিনাজুড়ে আছে চায়ের দোকান, পিঠা বিক্রির উনুন, রোদ পোহাবার খোলা জায়গা। এসব স্থানে আজও খুনসুটি হয়, তর্ক হয়, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে গ্রামীণ জনপদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পাল্লা নির্ধারিত হয়। যদিও গ্রামীণ আবহ বলতে আগে যে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, চিকিৎসাসহ নানা স্বল্পতার কথা চোখে ভাসত, তা এখন আর নেই।

বিজ্ঞাপন

বাঙালি বহুকালের সংঘাতসম রাজনৈতিক সংস্কৃতি হটিয়ে রাজনীতিকে উন্নয়ন এবং নৈতিক দায়বদ্ধতার কাতারে নিয়ে এসেছে।

যদিও এ কারণে সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক কারবারিরা বেশ বেকায়দায় পড়ে গেছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমস্যা জিইয়ে মুনাফা লাভের রাজনীতি এবং জনগণকে জিম্মি করার রাজনীতিকে নির্বাসিত করেছেন। এ জন্য অবশ্যই মূল কৃতিত্ব বাংলার জনগণের। কারণ তারা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে সরে উন্নয়নের রাজনীতিকে গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুনেরে ভালোবেসেছেন।

এই নতুনেরে ভালোবাসার ফলস্বরূপ বিশ্ব উন্নয়নসূচকসহ জনগণের স্বপ্নযাত্রায় দেশ এগিয়েছে দুর্দান্ত প্রতাপের সঙ্গে। দেশের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ বেড়ে দুই হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের ঝোড়ো হাওয়ার ভেতরেও গেল অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গ্রহণযোগ্য এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও ধরে রেখেছে। শুধু তা-ই নয়, বিদেশি সাহায্য অর্থাৎ অনুদান এবং ঋণের ওপর দেশের নির্ভরশীলতা কমিয়েছে। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি সহায়তায় অনুদানের পরিমাণ কমে ৫.৯৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১৯৭১-৭২ অর্থবছরটিতে ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ৮৪ থেকে ৮৬ শতাংশ।

এর বাইরে রেমিট্যান্সকেন্দ্রিক যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সেটাতেও উন্নতি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরটিতে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিমাণ ২৪.৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিদ্যুত্ব্যবস্থাকে উন্নীত করে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে আগামী দিনে দেশ বিদ্যুৎ রপ্তানির দিকে যাবে। এ ছাড়া এই ১৩ বছরে দেশ সমুদ্রসীমা জয়, ছিটমহলের মতো গভীর অথচ সাংঘর্ষিক সমস্যাকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সমাধান করেছেন।

মাথাপিছু আয় ৭১০ মার্কিন ডলার থেকে দুই হাজার ৫৫৪ ডলারে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক বিলিয়ন ডলার থেকে প্রায় ৪৬ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৩৪ থেকে ২০.৫ শতাংশে নামিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্যের বিষয়ে ব্যক্ত করেছেন আগামী ১০ বছর দেশ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে বিশ্ব শক্তি আমেরিকার চেয়েও তা কমিয়ে আনবেন। আর এটা ভীষণ দুঃসাধ্য কিছুও নয়। কারণ তাদের দারিদ্র্যের হার প্রায় ১৮ শতাংশ।

আনন্দের বিষয় হলো, এমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন যুদ্ধের পরও দেশ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লড়াইও জারি রেখেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিও মোকাবেলা করেছে। বৈশ্বিক ইতিহাসে ডিজিটাইজেশনের কল্যাণে মানুষকে ঘরে রেখেই খাবার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছে। শুধু মুঠোফোনে এক বার্তা পাঠিয়েই খাবার পেয়েছে খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী জনগণ, যা করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব ইতিহাসে দেশের জন্য গৌরবের, মানুষের জন্য আত্মবিশ্বাসের।

বিস্তৃত অর্থে বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশগুলো যেখানে এই পরিস্থিতিতে জীবন এবং অর্থনীতি সামাল দিতে টালমাটাল হয়েছে, খেই হারিয়ে ফেলেছে, জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে, সেখানেও শেখ হাসিনা বিস্ময়করভাবে সফলতা দেখিয়েছেন। বৈশ্বিকভাবে সাফল্যের উদাহরণ রচনা করেছেন।

দিন দিন আরেকটি নির্বাচনের আবহ আসতে শুরু করেছে এবং সেটাকে সামনে রেখে এরই মধ্যে অনেকেই ইনিয়ে-বিনিয়ে অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বাঙালি যে উন্নয়নের রাজনীতি এবং জনগণের জন্য নিবেদনের রাজনীতি চর্চা শুরু করেছে, সেটাকে কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে। এ ক্ষেত্রে সবার ঐক্যবদ্ধ আচরণ আবশ্যক। কারণ ভৌগোলিক সীমানার ক্ষেত্রেও এ দেশের অবস্থান মারাত্মক অবস্থানে। এ জন্য ষড়যন্ত্রের সীমানাও অজস্র। তাই এখন প্রয়োজন প্রবল জাতীয়তাবোধ এবং জাত্যভিমানের চর্চা।

 লেখক : প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ

[email protected]



সাতদিনের সেরা