kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

অস্তিত্বের প্রয়োজনেই প্রকৃতির প্রতি সহানুভূতি দরকার

অনলাইন থেকে

২২ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘উদ্ভিদ অন্ধত্ব’ পরিভাষাটি ১৯৯৮ সালে গড়ে উঠেছিল। মূলত মানুষ হিসেবে আমাদের চারপাশের উদ্ভিদজীবনকে দেখতে না পারার সাধারণ প্রবণতাকে বোঝাতেই পরিভাষাটির জন্ম হয়। সমস্যাটির একটি বোধগম্য ভিত্তি আছে। কারণ বিভিন্ন বিষয় বা বস্তুর পার্থক্য নির্ণয় করতে গিয়ে মানুষের মস্তিষ্ক বিবর্তিত হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

পরে মস্তিষ্ক হুমকি আছে বা হুমকি নয়—এই ভিত্তিতে বস্তুর পার্থক্য তৈরি করে।

উদ্ভিদজগতে দেখা যায়, আক্রমণ করার আশঙ্কা নেই এমন গাছপালা একত্র হয়ে একটি পটভূমি রচনা করে, যেন একটি সবুজ পর্দা পেছনে রেখে নাটকের প্রদর্শনী। মানুষ জানেই না যে অনেক উদ্ভিদ, বিশেষ করে বৃক্ষ মানুষের সঙ্গে একটি ভিন্ন টাইমস্কেল রেখে টিকে থাকে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো ব্রিটেনের অর্ধেক শিশুই বিছুটির মতো ঔষধি গাছ, বেরিজাতীয় ফল গাছ কিংবা ব্লুবেলের মতো ফুলের গাছ চিনতে পারে না। এ নিয়ে যেসব শিশুকে প্রশ্ন করা হয়েছে, দেখা গেল তাদের ৮২ শতাংশই ওকগাছের পাতা চেনে না।

উদ্ভিদ অন্ধত্ব কিছুটা হলেও ঘুচে লকডাউনের সময়। লকডাউনের সময়ে এসব গাছপালার যত্ন নেওয়া রীতিমতো দর্শনীয় বিষয় হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে এসব গাছপালা কিভাবে নিজেদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ গড়ে তুলে তা নিয়েও মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

বিষয়টি উঠে এসেছে পিটার ওহলবেনের ‘দ্য হিডেন লাইফ অব ট্রিস’ নামের বেস্টসেলার বইয়ে। তিনি বইটিতে দেখিয়েছেন, গাছপালা কিভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে, পরস্পরের যত্ন নেয় এবং তারা নিজেদের সামাজিক নেটওয়ার্ক ‘উড-ওয়াইড ওয়েব’-এর অংশ।

‘দ্য গ্রিন প্লানেট’ সিরিজ এই বিষয়গুলো নিয়েছে এবং তাতে বিস্ময়কর নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের গতির সঙ্গে মিলিয়ে উদ্ভিদের টাইমস্কেলকে সংক্ষিপ্ত করে দেখিয়েছে। এর সঙ্গে স্যার অ্যাটেনবরোর নাটকীয় বর্ণনা তো আছেই। সিরিজের প্রথম পর্বে রেইনফরেস্ট সম্পর্কে জানা গিয়েছিল, যা পৃথিবীর ৬ শতংশজুড়ে থাকলেও জীববৈচিত্র্যের ৮০ শতাংশের বেশি ধারণ করে।

প্রযুক্তির সাহায্যে উদ্ভিদের কর্মকাণ্ডের এই প্রদর্শনী একটি অবিশ্বাস্য রকমের ফলপ্রসূ প্রচেষ্টা।

এই উপস্থাপনাটি আবাসস্থল সংকোচন সমস্যারও একটা স্পষ্ট উদাহরণ, যা প্রয়াত বাস্তুসংস্থান বিশেষজ্ঞ টমাস লাভজয় তাঁর গবেষণায় দেখিয়ে গেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, যখন আর টিকে থাকতে পারে না, তখন বাস্তুতন্ত্রগুলো (ইকোসিস্টেমস) সংকুচিত হতে পারে। তাই বন্য প্রাণীদের করিডরের মতো উদ্ভিদ করিডরগুলোও প্রজাতিগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে পারে; যদি উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া হয়, তারা নিজেরাই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারে। দ্য গ্রিন প্লানেট তার নিজস্ব যুক্তি প্রণয়নের মাধ্যমে এই বাধ্যবাধকতাকে স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে।

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান (যুক্তরাজ্য)

 



সাতদিনের সেরা