kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অনিশ্চয়তা নিয়ে ওমিক্রন মোকাবেলা

ডেভিড স্পিগেলহল্টার ও অ্যান্টনি মাস্টার্স

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দক্ষিণ আফ্রিকা ও বতসোয়ানায় বিজ্ঞানীদের শনাক্ত করা করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনটির বিশ্লেষণ নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। এর মধ্যেই আরো বেশি হারে ছড়িয়ে পড়া, গুরুতর অসুখের কারণ এবং কভিড চিকিৎসা ও টিকার কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার মতো ভয়গুলো বাড়ছে।

দুটি কারণে ধরনটিতে অতিরিক্ত সংক্রমণের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রথমত, একটি শক্তিশালী মৌলিক প্রজনন হার (আর-সংখ্যা) থাকায় সংক্রমণের ক্ষেত্রে ধরনটির সহজাত ক্ষমতা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এটা ঠিক যে মহামারির ২০ মাস পর এসে করোনাভাইরাসের আর-সংখ্যাটি একটি কাল্পনিক ধারণায় পরিণত হয়েছে। মূল বন্য প্রকৃতির ভাইরাসটির আর-সংখ্যা ছিল প্রায় ৩। পরে ডেল্টার ছিল প্রায় ৬ এবং সম্ভবত ওমিক্রনের আরো বেশি হবে।

দ্বিতীয়ত, এটি এমন একটি ধরন, যা টিকা বা অতীত সংক্রমণ থেকে প্রাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (ইমিউনিটি) আরো ভালোভাবে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা দেখাতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজনের কভিড-১৯ টিকার দুই ডোজ দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে এরই মধ্যে তিনটি বড় ঢেউ এবং ২০২০ সালের মে মাস থেকে অতিরিক্ত দুই লাখ ৭০ হাজার স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া দেশটিতে বিদ্যমান প্রতিরোধ ক্ষমতার দেয়াল সত্ত্বেও নিশ্চিত সংক্রমণ ও শনাক্তের হার উভয়টিই বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের অতিরিক্ত সংক্রমণ এই দুটি কারণের মিশ্রণে ঘটতে পারে। কিন্তু ধরনটির প্রতিরোধ ক্ষমতা ফাঁকি দেওয়ার অতিরিক্ত ক্ষমতা উদ্বেগজনক।

কিছু দাবি করা হচ্ছে যে ওমিক্রন সংক্রমণ মানে মৃদু উপসর্গ। কিন্তু সংক্রমণের তুলনায় হাসপাতালে যাওয়ায় পার্থক্য দিয়ে এর সম্পর্কে দ্রুত মূল্যায়ন করা কঠিন। আবার দক্ষিণ আফ্রিকার গোটেং প্রদেশে শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তিও বাড়ছে। কৌতূহলের বিষয় হলো, অতিরিক্ত সংক্রমণ সক্ষমতা মানে প্রজন্মের পর প্রজন্মে আক্রান্তের ঘটনা বেশি হবে এবং এমনকি একটি অংশের হাসপাতালে না যাওয়ার ফলে এখন ভর্তি বাড়তে পারে। সুতরাং অপেক্ষাকৃত দ্রুত বিশ্লেষণ এই ইঙ্গিত দেয় যে ধরনটির প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে পুনঃসংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি হবে।

এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে মৌলিক অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য অপেক্ষার সময়টিতে সতর্ক থাকা যুক্তিসংগত। গত ক্রিসমাস নষ্ট করে দেওয়া আলফা ধরনের মতো এই ধরনটির অগ্রগতি মোটামুটিভাবে পিসিআর পরীক্ষার ফলাফলের কাঠামো পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি জানিয়েছে, বিজ্ঞানীদের বাহিনী এরই মধ্যে ২০টি গবেষণার পরিকল্পনা করছেন।

ভাইরাসটির দক্ষিণ আফ্রিকান জিনবিন্যাসে ধরনটির দ্রুত আধিপত্য বিস্তারের বিবেচনায় ওমিক্রন যুগ শুরু হয়ে গেছে।

লেখক : ডেভিড স্পিগেলহল্টার কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনঝুঁকি নির্ণয় কেন্দ্রের অধ্যাপক এবং অ্যান্টনি মাস্টার্স রয়াল স্ট্যাটিস্টিক্যাল সোসাইটির পরিসংখ্যান দূত

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান (যুক্তরাজ্য)

 



সাতদিনের সেরা