kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ওমিক্রন: নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা চাই

গ্যাবি হিন্সলিফ

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমরা অবশ্যই লকডাউনে ফিরে যাইনি, এমনকি এর কাছাকাছিও কিছু ঘটেনি। কিন্তু এর পরও আমরা ফের অনিশ্চয়তার একটি খরগোশ গর্তে ঢুকে যাচ্ছি—সেই পরিচিত জগতে, যেখানে মনে হবে প্রতিটি পরিকল্পনাই ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যেহেতু আমরা এখনো দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্রুত বিস্তার ঘটা কভিড-১৯-এর ওমিক্রন ভেরিয়েন্টটি সম্পর্কে খুব বেশি জানি না; তাই এর সম্পর্কে উদ্বেগের তথ্যগুলো মিথ্যা বিপত্সংকেত না-ও হতে পারে—এমন একটা আশা এখনো জিইয়ে আছে। সম্ভবত এটাই সত্য হবে, ধরনটি যে পরিমাণ আতঙ্ক ছড়িয়েছে তার চেয়ে কম সংক্রামক হবে, বিশেষ করে টিকাদানে এগিয়ে থাকা দেশগুলোতে। এটি সত্যি সত্যি বড় ইস্যু হবে কি না তা জানা কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার মাত্র। তবে যতক্ষণ না আমরা জানি, এর বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

ওমিক্রনকে কেন্দ্র করে যা-ই ঘটুক, বাস্তবতা হলো এর মধ্যেই ব্রিটেন তার ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) ড্যাশবোর্ডে লালবাতি জ্বালিয়ে কভিডের বিদ্যমান সংক্রমণ ঢেউয়ের মধ্য দিয়ে শীতকালে প্রবেশ করছে। জরুরি বিভাগের বাইরে অ্যাম্বুল্যান্সের সারিবদ্ধ দৃশ্যগুলো হাসপাতাল পরিস্থিতির এমন একটি লক্ষণ, যা কভিড-বহির্ভূত রোগীদের জমে থাকা চিকিৎসা ও সামাজিক সেবার ক্রমবর্ধমান সংকটের লড়াইয়ের কথা বলছে। এই দৃশ্য আরো বিধি-নিষেধ আরোপে প্ররোচনা দিতে পারে যে শুধু কভিডে মৃত্যু নয়; বরং ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের ফলে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা চাপের মধ্যে পড়বে এবং এ চাপ সামলাতে না পারলে চিকিৎসাযোগ্য অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় জরুরি সেবার অভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হবে। ফলে একটি ঘাতক ভাইরাসের অন্তর্নিহিত আতঙ্কের চেয়েও আরো বিমূর্ত হুমকি তৈরি হতে পারে এবং তা বয়ে বেড়ানোর জন্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পক্ষে আরো জটিল হবে।

গত সপ্তাহে লকডাউনের আশঙ্কায় হল্যান্ডে দাঙ্গার পর ইংল্যান্ডের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) ক্রিস হুইটি স্থানীয় সরকার সংস্থাকে বলেছেন, এখন তাঁর সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হচ্ছে যদি আরো বিধি-নিষেধের প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি তাঁর লোকদের কাছে পাবেন কি না। তবে এটা দৃশ্যত বিস্ময়কর যে বারবার ব্রিটেনবাসীরা তাদের জীবনে কঠোর সীমাবদ্ধতা সহ্য করতে বেশি ইচ্ছুক প্রমাণিত হয়েছে। অথচ এটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তবে এই শীতে যদি আরো বেদনাদায়ক বিধি-নিষেধের প্রয়োজন হয়, তাহলে এটাকে কুিসত যুক্তি বলে মনে করার কারণ রয়েছে।

টিকার আগে লাখ লাখ মানুষ কভিডে মারা যাবে বলে ভয় ছিল; কিন্তু টিকা আমাদের সাহসী করে তুলেছে। টিকাই এবারের শীতকে গতবারের থেকে আলাদা করেছে। এখন এই সময়ে একটি সরকার যদি পাব, রেস্তোরাঁ বা সামাজিকতা বন্ধের চেষ্টা করে, তাহলে টিকা পেয়েও আতঙ্ক দূর না হওয়ায় মানুষকে ক্রোধের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। কারণ তারা মনে করবে, তারা তাদের কাজ করেছে, চাকরি পেয়েছে; তাহলে কেন তারা তাদের জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে বসে থাকবে?

ইউরোপে কভিড-১৯-এর বর্তমান ঢেউ টিকাবিহীন মানুষের ওপরই ক্রমবর্ধমান আঘাত হানছে। অস্ট্রিয়ায় গত মাসে টিকাবিহীন ব্যক্তিদের লকডাউন করে রাখা হয়। লাটভিয়ায় যেসব আইন প্রণেতা টিকা প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাঁদের নতুন আইন প্রণয়নে ভোট দিতে ও বিতর্কে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে টিকাবিহীন লোকদের বলা হয়েছে যে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে, যা দায়িত্বহীনতার শাস্তি।

এখন পর্যন্ত বিষয়গুলো খুব তাত্ত্বিক বলে মনে হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক মানুষ ওমিক্রনের প্রতি বিশ্বের বাকি অংশের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে বিস্মিত। সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমরাও পেছন ফিরে তাকিয়ে উদ্বেগের জন্য লজ্জা বোধ করব। তবে যা-ই ঘটুক, টিকা-পরবর্তী যুগের দ্বিধাগ্রস্ততার ওঠানামা সম্পর্কে এখন থেকেই চিন্তা-ভাবনা শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর শুধু ভাইরাস থেকে নয়, এর ক্ষতি ও বিভ্রান্ত করার অস্বাভাবিক ক্ষমতা থেকেও এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হবে। এই মহামারি প্রায় দুই বছর ধরে আধুনিক অর্থনীতি ও সমাজের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আমরা যা ভেবেছিলাম, যা জেনেছিলাম, তার অনেক কিছুই তছনছ করে দিয়েছে।

 

লেখক : দ্য গার্ডিয়ানের (যুক্তরাজ্য) কলামিস্ট

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত লেখকের নিবন্ধের সংক্ষেপিত ভাষান্তর



সাতদিনের সেরা