kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ওমিক্রন : ভরসা টিকায়ই

অনলাইন থেকে

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই পর্যন্ত এটা পরিষ্কারভাবে জানা হয়ে গেছে যে যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ধনী দেশে কভিড-১৯ সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলো টিকাবিহীন লোকদের মধ্যেই বেশি ঘটছে। গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইংল্যান্ডে টিকা না নেওয়া ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৩৪ হাজার ৪৭৪ জন মানুষ কভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একই সময়ে দুই ডোজ টিকা নেওয়া চার হাজার ৩০৮ জন কভিডে মারা গেছে। যুক্তরাজ্যে কভিড রোগীদের হাসপাতালে ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪০ হাজার কভিড রোগীর মধ্যে ৮৪ শতাংশই টিকাবিহীন এবং মাত্র ৩ শতাংশ দুই ডোজ টিকা নেওয়া।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে দেখা গেছে, কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে তুলনামূলকভাবে টিকা কম নেওয়ার কারণ হচ্ছে আতঙ্ক। কভিড-১৯ শিশুদের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও যুক্তরাজ্যে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে টিকা গ্রহণের হার ৩৯.১ শতাংশ এবং এক ডোজ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা নেওয়ার হার ৬৭.৪ শতাংশ। তবে ওমিক্রন ধরনটি আসার সঙ্গে সঙ্গে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তা হলো বিদ্যমান টিকাগুলো এর বিরুদ্ধে কম কার্যকর হতে পারে। আর এটিই টিকা গ্রহণের বিষয়টিকে আরো জরুরি এবং টিকা নেওয়া ও না নেওয়ার পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ইংল্যান্ডের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক জোনাথন ভ্যান-ট্যামের নেতৃত্বে গত সোমবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়, ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা প্রথম ডোজ নেওয়ার ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দরকার হবে। এ ছাড়া বড়দিনের আগে আরো কম বয়সী বাচ্চাদের টিকা দেওয়া হবে কি না সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের জন্য ফাইজার বা বায়োএনটেকের টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে)। যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের বুস্টার ডোজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে দুই সপ্তাহ আগেও তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ৪০ বছরের অধিক বয়সীদের জন্যই সংরক্ষিত ছিল। যাঁদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত (চতুর্থ ডোজ) বুস্টার টিকা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আর বিলম্বে হলেও গর্ভবতী নারীদের টিকা দেওয়ার পরামর্শে জোর দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক ভ্যান-ট্যাম ও অন্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এভাবে টিকা প্রদানের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবর্তিত ভাইরাসটি থেকে ‘এগিয়ে থাকার’ চেষ্টা করা এবং সতর্কতামূলক নীতি অনুযায়ী আচরণ করা (যদিও যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় এক ডজন ওমিক্রন কেস শনাক্ত হয়েছে এবং আরো কয়েক শ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে)। এই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে নতুন বিধিমালার প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়। আগে যেখানে রোগীদের ভেন্টিলেশন উপেক্ষা করা হয়েছিল, এখন এ বিষয়ে মনোযোগ প্রয়োজন।

ওমিক্রন ধরনটি ডেল্টা ধরনের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক না-ও হতে পারে—এমন সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের সুযোগটি ব্রিটিশ মন্ত্রীদের সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। তাঁদের উচিত টিকা গ্রহণের আহ্বানকে আরো শক্তিশালী করা এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী থেকেই তা শুরু করা দরকার। প্রবীণ রাজনীতিবিদদের এখন ব্যাকবেঞ্চে থাকা উদারতাবাদী নেতাদের বাদ দিয়ে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। অনলাইনে টিকার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁদের অবশ্যই আরো বেশি কিছু করতে হবে। এ জন্য ফেসবুক ও অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া বিপজ্জনক টিকাবিরোধী প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবির পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য ও পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের মিথ্যাচারের মোকাবেলাও করতে হবে।

মহামারি শেষ হয়নি। আবারও বিপদের মাত্রা বাড়তে পারে। বুস্টার ডোজ সরবরাহের পাশাপাশি টিকা প্রদানের হার বৃদ্ধি এখন অবশ্যই যুক্তরাজ্য সরকারের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার হতে হবে। তবে বিশ্বকে টিকা দেওয়ার প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করার জন্যও সরকারের যথাসাধ্য চেষ্টা থাকতে হবে।

 

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান (যুক্তরাজ্য)



সাতদিনের সেরা