kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জার্মানির ‘ট্রাফিক লাইট জোট’ সরকারের সবুজ বাতি

অনলাইন থেকে

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জার্মানিতে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক নেতা ওলাফ শোলজের নেতৃত্বাধীন তিনদলীয় জোটের শাসন শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে—এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। এই জোট গঠনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেওয়ার মতো একটা ঘটনা এবং তা শুধুই জার্মানির জন্য নয়। জোটভুক্ত সামাজিক গণতন্ত্রী, পরিবেশবাদী ও উদারপন্থী—তিনটি দলের প্রত্যেকেই জোট গঠনে নিজেদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে শোলজ দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের মতো এমন এক নেতার কাছ থেকে, যিনি ১৬ বছর সাফল্যের সঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসামান্য স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মিসেস মার্কেলের চলে যাওয়া মানে তাঁর মধ্য ডানপন্থী সিডিইউ-সিএসইউ জোটকে গ্রহণকাল ও পুনঃ আবির্ভাবের একটি সন্ধিক্ষণ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দেশটির নতুন প্রশাসনকে ট্রাফিক লাইট কোয়ালিশন নাম দেওয়া হয়েছে, কারণ জোটভুক্ত প্রতিটি দলের দলীয় প্রতীকের রং হচ্ছে ট্রাফিক লাইট তথা লাল, হলুদ ও সবুজ। দেশটির সরকারে নতুন জোট এলেও তারা আগের ধারাবাহিকতাই বজায় রাখবে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক, ইউরোপীয় ও প্রতিরক্ষানীতির বিষয়ে। জটিল বিষয় হচ্ছে, ভবিষ্যৎ ব্যয় বৃদ্ধির জন্য অন্য জোটভুক্ত দলগুলোর পাশাপাশি ইইউর বাজেটবিষয়ক চাপও বাড়বে। ফলে নতুন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাওয়া উদারপন্থী দল ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডনার এখন জার্মানির ঐতিহ্যবাহী অর্থনৈতিক গোঁড়ামি ও ঋণ অনীহা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

যেকোনো ধরনের ত্রিমুখী জোটেই এই ধরনের চাপ কিছুটা হলেও বোঝা যায়। তবে এসব চাপ অতিরঞ্জিত বা গুরুত্বহীন—কোনোটাই হওয়া উচিত নয়। যদিও নতুন সরকার এবং ইইউর ঐতিহ্যবাহী কৃচ্ছ্রসাধন ও ঋণ অনীহার জন্য কোনো হঠকারী জার্মান প্রত্যাবর্তন সহজেই টিকবে না, তাই জোটের চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো যতটা অর্জনযোগ্য, তার চেয়ে বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মনে হতে পারে। অবকাঠামো ও জলবায়ু সংকট বিষয়ে গ্রহণ করা পদক্ষেপগুলো চালিয়ে নিতে যে বিনিয়োগের অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাজেট সংযমের সংস্কৃতিকে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ করবে। শেষ পর্যন্ত শোলজ সরকারের পরীক্ষা হবে কিভাবে তারা এই চাপ মোকাবেলা করে।

গত সেপ্টেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত এই জোটের ১৭৮ পৃষ্ঠার একটি বৃহত্তর এজেন্ডা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ‘সতর্কতামূলক অগ্রগতি কর্মসূচি’র কারণে এই এজেন্ডা বাতিল করা উচিত হবে না। লক্ষ্য পূরণের জন্য গ্রিন পার্টিকে অর্থনীতি ও জলবায়ু সুরক্ষায় একটি নতুন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ, একই সময়সীমার মধ্যে যুক্তিসংগত পর্যায়ে কয়লা ব্যবহার বন্ধ করা এবং ২০৪০ সালের মধ্যে গ্যাস ব্যবহার বাদ দেওয়ার গতি বাড়ানোয় কাজ করতে হবে। এ ছাড়া জার্মানিকে ‘অভিবাসনের জন্য একটি আধুনিক দেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিবাসন ও একত্রীকরণ নীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনায় জোটের অঙ্গীকারও সমানভাবে লক্ষণীয়, যা বিশেষ করে ব্রিটেন থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিশ্রুত ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসাপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহজ করা এবং শরণার্থী কোটার বিষয়ে সহায়তা করা। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদারীকরণের মধ্যে রয়েছে, লিঙ্গ রূপান্তর প্রক্রিয়া শিথিল করা, বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য গাঁজা বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ভোটদানের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করা।

শুধু জার্মানি নয়. ইউরোপজুড়েই পুরনো দলীয় আনুগত্য ভেঙে যাচ্ছে, তাই আসন্ন পরিস্থিতি সম্ভাব্য আকার-আকৃতি হিসেবেই এই জোটকে দেখা উচিত। কারণ বরাবরের মতোই সবচেয়ে সেরা পরিকল্পনাগুলো তাত্ক্ষণিক ঘটনাগুলোর কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। জার্মানির কভিড সংক্রমণ হার এই মাসে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে এবং কিছু রাজ্যে তিক্ত লকডাউন ও বাধ্যতামূলক টিকাকরণ আলোচ্য সূচিতে উঠে এসেছে। শোলজ ও তাঁর সরকার মধুচন্দ্রিমার বিলাসিতা বেশিদিন উপভোগ না-ও করতে পারেন।

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান (যুক্তরাজ্য)

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ



সাতদিনের সেরা