kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধে উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে

অ্যাইলিন গেটি ও রেবেকা রকফেলার

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এক শতাব্দী আগে জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আমাদের দুই পরিবার। আমেরিকার সরকার এর প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে সাদরে গ্রহণ করেছিল এবং এর বিকাশের জন্য অবকাঠামো ও উৎপাদনে অপরিহার্য বিনিয়োগ করেছিল। আমাদের নিজস্ব ইতিহাস আমাদের জনসমক্ষে স্বীকার করতে বাধ্য করে যে জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন ও পোড়ানো আমাদের গ্রহের জীবনকে হত্যা করছে। এটা অনেক বছর ধরেই আমরা জানি।

বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালে জীবাশ্ম জ্বালানি বিশ্বব্যাপী ৮৭ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। এটা কালো, বাদামি, আদিবাসী ও দরিদ্র সম্প্রদায়কে অতিমাত্রায় প্রভাবিত করেছে বলে এমনটা ঘটেছে। শুধু মানুষের জীবনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই গ্রীষ্মের রেকর্ড মাত্রার দাবদাহের কারণে কানাডীয় উপকূলের ১০০ কোটির বেশি সামুদ্রিক প্রাণী মারা গেছে।

জীবাশ্ম জ্বালানি একটা অতীত প্রযুক্তি। বিগত যুগের শেষ দিকে যখন আমরা বিশ্বাস করতাম যে আমরা চাইলেই প্রকৃতির ওপর শক্তি প্রয়োগ এবং সব জীবিত প্রাণীর সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানকে অস্বীকার করতে পারি।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্ত সরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, জলবায়ুজনিত কিছু প্রভাব এরই মধ্যে অপরিবর্তনীয় হয়ে গেছে এবং আমরা শুধু তাত্ক্ষণিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই সবচেয়ে গুরুতর পরিণতি এড়ানোর আশা করতে পারি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রতিবেদনটিকে মানবতার জন্য ‘লাল সংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন। ভয়ংকর বাস্তবতা হলো নিষ্ক্রিয়তা, এমনকি আধাখেচড়া পদক্ষেপ অগণিত জীবনের অবসান ঘটাবে। এর পরও মার্কিন কংগ্রেস এখন পর্যন্ত মানবতার প্রতি হুমকি প্রদর্শনকারী জলবায়ু জরুরি অবস্থা মোকালেবায় আন্তরিকভাবে সাড়া দিচ্ছে না।

বিতর্কের আর অবশিষ্ট কিছুই নেই। কী করা দরকার সে বিষয়ে বিজ্ঞানের অবস্থান পরিষ্কার এবং অনেক কম্পানিও এর মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তাই শুরু করার জন্য কংগ্রেসকে অবশ্যই একটি নতুন জ্বালানি যুগে প্রবেশে সহায়তা করতে হবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি কম্পানিগুলো যে মাত্রায় সমর্থন পেয়েছিল, একটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি যুগের জন্যও একই মাত্রার সমর্থন প্রয়োজন হবে। এ জন্য নতুন শোধনাগার ও কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্থাপিত লাইন-৩-এর মতো পাইপলাইনসহ জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলনে অন্যান্য অবকাঠামোর সমাপ্তি ঘটাতে হবে। আর জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বিপজ্জনক দূষণ এবং উষ্ণতা নির্গমন প্রতিরোধী একটি দ্রুত পরিচালনাযোগ্য রূপান্তর ঘটাতে হবে, যা জলবায়ু সংকটের ভয়াবহতা প্রতিরোধ করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে আমাদের ভবিষ্যেক নিরাপদ করতে হবে, যাতে আমাদের সম্প্রদায় ও গ্রহ টিকে থাকতে পারে।

আগামী সপ্তাহগুলোয় জীবাশ্ম জ্বালানিশিল্পের প্রতি মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের সব ধরনের সমর্থন বন্ধ করতে কংগ্রেসকে অবশ্যই বাজেট সমন্বয় বিলকে কাজে লাগাতে হবে। প্রতিবছর আমাদের করদাতাদের অর্থের দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার ভর্তুকি আকারে সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানি কম্পানিগুলোর কাছে যায়। এটা জলবায়ু সংকটের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী শিল্পগুলোর প্রতি সরকারি সহায়তার বিশাল হিমশৈলের একটা অংশ মাত্র।

স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউটের গবেষণায় জানা গেছে যে ট্যাক্স কোডের ৯৬ শতাংশের বেশি ভর্তুকি সরাসরি মুনাফায় যুক্ত হয়। গত বছর যখন বড় বড় জীবাশ্ম জ্বালানি কম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মহামারি পুনরুদ্ধার বিল কেয়ারস অ্যাক্টের অধীনে ৮২০ কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছিল এবং তখনো তাদের ১৬ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছিল। তাই করের টাকায় মানুষকে সহায়তা করা দরকার, দূষণকারীদের নয়।

নীতি পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই এই পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগকে আরো নিবিড় করার পথ খুঁজতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার বৈশ্বিক উদ্যোগকে অবশ্যই প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সংযোগের বিষয়টি স্বীকার করে নিতে হবে এবং একে অপরের ও প্রাকৃতিক বিশ্বের সঙ্গে আমাদের ভালোবাসা ও সংযোগকে আবার জাগিয়ে তুলতে হবে। আর আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে এই পরস্পর সংযুক্তি নিজেই একটি প্রাকৃতিক সম্পদ, যেখানে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

আমরা দুজন অত্যন্ত সচেতন যে তেলশিল্পের মধ্য দিয়ে আমাদের পরিবারিক ইতিহাস আমাদের অসামান্য বিশেষাধিকার দিয়েছে। এই অগ্রাধিকারই আবার এমন এক বিশ্বে আমাদের অবদান রাখার সুযোগ দিচ্ছে, যেখানে সবারই উন্নতির সুযোগ রয়েছে। আমরা আরো অনেকের সঙ্গে যোগ দিচ্ছি, যাঁরা আমাদের নির্বাচিত নেতাদের বিজ্ঞান মেনে চলা এবং মৌলিক সত্যটি বোঝার জন্য অনুরোধ করছেন যে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’ (আরো উন্নত পুনর্নির্মাণ) কাজটি করতে পারব না, যতক্ষণ না ‘বিল্ড ব্যাক ফসিল-ফ্রি’ (আবার ফসিলমুক্ত ব্যবস্থা) করতে না পারি। আমাদের এবং বিশ্বকে একটি নিরাপদ এবং আরো ন্যায়সংগত ভবিষ্যতের দিকে চালাতে আমরা অসামান্য আমেরিকান উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও সম্পদকে কাজে লাগাতে পারি।

লেখকদ্বয় : আমেরিকার পেট্রোলিয়াম খাতের দুই প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী গেটি ফ্যামিলি ও রকফেলার ফ্যামিলির সদস্য

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান (যুক্তরাজ্য)

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ

 



সাতদিনের সেরা