kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

অনলাইন থেকে

শিল্পায়নের চ্যালেঞ্জগুলো অনেক বড়

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানুষই সম্ভবত আমাদের ছায়াপথের একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী। তাই আমাদের সভ্যতা ধ্বংস হলে সেটা হতে পারে একটি ছায়াপথীয় বিপর্যয়। পদার্থবিজ্ঞানী, বিজ্ঞানবিষয়ক টিভি উপস্থাপক ও একসময়ের সংগীতশিল্পী অধ্যাপক ব্রায়ান কক্স আসন্ন কপ২৬ উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের এভাবেই সতর্ক করেছেন।

বিবিসি টুর নতুন সিরিজ ইউনিভার্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বিজ্ঞানী বলেন, সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর মনে হয়েছে, ‘পৃথিবীতে মানুষ ও বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্বই হতে পারে প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া একটি বিস্ময়কর ঘটনা। আর এটা এমন একটা বিষয়, যা বিশ্বনেতাদের জানার প্রয়োজন হতে পারে।’

মহাবিশ্বে তথাকথিত ‘গোল্ডিলক্স তত্ত্বের’ ধারণাটি নিয়ে অনুসন্ধান চালান ব্রায়ান কক্স। এই তত্ত্বে মনে করা হয়, ‘সূর্যের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে ছায়াপথে আমাদের গ্রহের যে অবস্থান এবং কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবী সৃষ্টিকারী ঘটনাগুলো শুধু অর্থপূর্ণ জীবনকে প্রস্ফুটিত ও বিকশিত করার জন্যই স্থির করা হয়েছে।’ কক্স বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত যা আবিষ্কার, এসবের একটা যুক্তিসংগত অনুমান হচ্ছে ছায়াপথগুলোতে কোনো সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।’

ঠিক এ কারণেই জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় রাজনীতিবিদদের জন্য এই আবিষ্কার খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কক্স। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি মাঝে মাঝে এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। আমি বলব, যদি আমাদের সভ্যতাই টিকে না থাকে, তা যে কারণেই  হোক না কেন এবং এটি গ্রহের বাইরের কোনো ঘটনার দ্বারা অথবা আমাদের নিজস্ব পদক্ষেপের কারণেই হোক, যেমন পারমাণবিক যুদ্ধ—নিজেদের ওপর আঘাত করার জন্য যাকে কেউ বোতামটা টিপে দিতে, তাহলে একটি ছায়াপথের ‘অর্থ’ চিরকালের জন্য মুছে যাবে।’ এই বিজ্ঞানী মনে করেন, অর্থপূর্ণ ছায়াপথের ধারণাটি উপলব্ধি করা হবে বিশ্বনেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ব্রায়ান কক্স বলেন, ‘আমি জীববিজ্ঞান সম্পর্কে যত  বেশি শিখি...আমি তত বেশি বিস্মিত হই যে আমরা আসলে এখনো কিভাবে টিকে আছি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করেন,  আকাশগঙ্গা ছায়াপথে পৃথিবীর মতো প্রায় ২০ বিলিয়ন গ্রহ রয়েছে। তাই আমরা আশা করতে পারি যে প্রাণের অস্তিত্ব সবখানেই থাকতে পারে। আমি যেসব জীববিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলি তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই তাতে একমত হলেও তাঁরা মনে করেন এটা বড়জোর স্লাইম আকারে থাকতে পারে। আমরা একটি হিংস্র মহাবিশ্বে বাস করি এবং অবিচ্ছিন্ন শৃঙ্খলে থাকার জন্য যথেষ্ট স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রিত একটি গ্রহের ধারণাই কেবল আপনি করতে পারেন।’

কক্স বলেন, ‘অর্থ আমাদের মনে বিদ্যমান, তাই পৃথিবীর মৃত্যু হলে (গ্যালাক্সির) অর্থকে মুছে ফেলতে পারে। আপনি যদি স্বীকার করেন সেই অর্থটা এমন কিছু, যা যথেষ্ট জটিল জৈবিক যন্ত্র থেকে উদ্ভূত হয়, তাহলে সেই মেশিনগুলোর একমাত্র জায়গা এই পৃথিবী। সেটাই যদি হয়, তাহলে এটা বলাই উচিত যে এই গ্রহটি এখানে না থাকলে আমরা একটি অর্থহীন ছায়াপথে বাস করতাম। এ কারণেই প্রাণ ও বুদ্ধিমান প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য থাকে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রেট ফিল্টার’ নামে একটি ধারণা রয়েছে, যাতে মনে করা হয় যে ‘সভ্যতার দীর্ঘ জীবন  নেই। এটা হতে পারে যে সভ্যতার জন্য শিল্পায়নের চ্যালেঞ্জগুলো অনেক বড়। এর বিপরীতে আমাদের প্রজ্ঞা প্রকৃতপক্ষে আমাদের জ্ঞান বা সামর্থ্যের চেয়ে পিছিয়ে এবং আমরা মহাকাশগামী সভ্যতায় এই রূপান্তরগুলো পরিচালনা করতে সক্ষম নই। জলবায়ু আরো একটি চ্যালেঞ্জ। জ্ঞান ও সামর্থ্য অর্জনের পথে সভ্যতাকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় এবং এটি হতে পারে যে সভ্যতার জন্য একটি প্রাকৃতিক জীবনকাল রয়েছে।’

দ্য গার্ডিয়ানে (যুক্তরাজ্য) প্রকাশিত তারা কোনলানের বিজ্ঞানবিষয়ক লেখা অবলম্বনে আফছার আহমেদ



সাতদিনের সেরা