kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আর্থ-সামাজিক উন্নতির স্বীকৃতি এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার

নিরঞ্জন রায়

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আর্থ-সামাজিক উন্নতির স্বীকৃতি এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেশকে নিয়ে গেলেন আরো এক অনন্য উচ্চতায় জাতিসংঘের কাছ থেকে এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেণ্ট গোল) অগ্রগতি পুরস্কার লাভের মধ্য দিয়ে। এই পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর সফল নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের এক অনন্য স্বীকৃতি। কিন্তু তার চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হলো জাতিসংঘের এসডিজি সংক্রান্ত সভায় এই পুরস্কারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করার বিষয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন অব দ্য ডে’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির মধ্যেও এসডিজি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে সেই সঞ্চালক আরো উল্লেখ করেন যে এই পুরস্কার হচ্ছে এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে জোরালো দায়িত্ব পালনের একটি প্রমাণপত্র। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সভার একটি অনুষ্ঠানে যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে পুরস্কৃত করে এভাবে উচ্চৈঃস্বরে প্রশংসা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশের ভাবমূর্তি চলে যায় অনন্য এক উচ্চতায় এবং আমাদের মনটাও গর্বে ভরে যায়।

এ কথা আজ সর্বজনবিদিত যে টানা এক যুগেরও বেশি সময় দেশ শাসনের সুযোগ পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির যে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন তারই প্রতীকী স্বীকৃতি জাতিসংঘের এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন স্বীকৃতি এটিই প্রথম নয়। এর আগে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে অন্যতম সফল এবং অনুকরণীয় তিনজন মহিলা সরকারপ্রধানের একজন নির্বাচিত হয়েছেন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফোর্বস ম্যাগাজিনসহ অনেক আন্তর্জাতিক মাধ্যমেই তিনি বিশ্বের সেরা নেতৃত্বের একজনের স্বীকৃতি পেয়েছেন। আমাদের দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নতিসহ এমন সব যুগান্তকারী অর্জন সাধিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, সে তুলনায় এই স্বীকৃতি তাঁর জন্য তেমন কিছুই নয়। কিন্তু যে মুহূর্তে জাতিসংঘ এই পুরস্কারটি প্রদান করল সেই সময়ের এবং বিরূপ বিশ্বপরিস্থিতির বিবেচনায় এই পুরস্কার অতীতের যেকোনো সময়ের পুরস্কার ও স্বীকৃতির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নতিতে অনেকে ঈর্ষান্বিত হয়ে তা ম্লান করে দিতে দেশ-বিদেশে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছেন। এমনকি সারা বিশ্ব আজ দেড় বছরের অধিক সময় ধরে করোনা অতিমারিতে বিপর্যস্ত হয়ে আছে। এই মহামারি সামাল দিতে গিয়ে বিশ্বের উন্নত-অনুন্নত সব দেশের সরকারপ্রধানেরই দিশাহারা অবস্থা, সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথেষ্ট সফলতার সঙ্গে সর্বনিম্ন জান-মালের ক্ষতি মেনে নিয়ে এই মহামারি সামলে চলেছেন। বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞই এই করোনা মহামারি ম্যানেজ করার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আমাদের দেশকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে থাকেন। অথচ এই প্রশংসনীয় কাজও অনেকের কাছে গাত্রদাহের কারণ হয়ে দেখা দেয় এবং তারা এই সফলতা ম্লান করে দিতে দেশে-বিদেশে অপপ্রচার চালিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি সফলতার বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল যেখানে সব সময়ই তৎপর, সেখানে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কারে ভূষিত করার গুরুত্ব নিঃসন্দেহে অপরিসীম।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমসাময়িক অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার চেয়ে অনন্য এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি এরই মধ্যে সেই যোগ্যতার স্বাক্ষরও রেখেছেন যথেষ্টই। কারণ বিশ্বের অন্য কানো দেশ পরিচালনার চেয়ে বাংলাদেশ পরিচালনা করা অনেক কষ্টসাধ্য এবং বলা যায় এক ধরনের অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো কাজ। বিশেষ করে উন্নত দেশের সঙ্গে তো কোনো তুলনাই চলে না। সেসব দেশে উন্নত পদ্ধতি এবং একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু আছে। নেই কোনো প্রতিবন্ধকতা, না আছে বিরোধিতার নামে বিরোধিতা। বিশ্বে বাংলাদেশই হয়তো একমাত্র দেশ, যেখানে দেশের অর্জন ও সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশে একটি মহল ক্রমাগত ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে। এ রকম বৈরী পরিবেশ মোকাবেলা করে সফলভাবে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া বিশ্বে আর কোনো রাষ্ট্রনায়কের আছে বলে মনে হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এত কিছু বৈপরীত্য, প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা এবং সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে সফল নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে গেছেন। এখানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষত্ব এবং বিশ্বের অন্যান্য সরকারপ্রধানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা এবং অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হয়তো হয় না। কেননা তিনি একটি উন্নয়নশীল দেশের প্রধানমন্ত্রী। শক্তিশালী দেশের সরকারপ্রধান না হলে বিশ্বনেতৃত্বে স্থান করে নেওয়া খুব সহজ কাজ নয়। এর পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা এবং অর্জন এতটাই বেশি যে বিশ্ব গণমাধ্যম নানাভাবে আলোচনা করতে বাধ্য হয়েছে এবং অনেকে নানাভাবে স্বীকৃত প্রদান বা পুরস্কৃতও করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের জাতিসংঘ কর্তৃক এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার আরেক অনন্য স্বীকৃতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নতি সাধিত হয়েছে এবং তার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বিশ্বদরবারে প্রশংসিত এবং পুরস্কৃত হয়েছেন তাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশের মানুষ যেমন সরাসরি অর্থনৈতিক উন্নতির সফলতা ভোগ করছে, তেমনি আমরা প্রবাসীরাও দেশের সুনামের সুবিধা ভোগ করছি। এখন আমরা বাংলাদেশি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের পরিচয় দিতে পারি। এমন একসময় ছিল যখন বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট দেখলে কোনো দেশ ভিসা দিতে বা প্রবেশ করতে দিতে নানা বাহানা করত এবং সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখত। সেদিন বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন বাংলাদেশিরা বিদেশের মাটিতে নিজেরা রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েও প্রতিবেশী দেশের নামে চালাত। এখন আর সেদিন নেই। এখন বাংলাদেশি গার্মেন্ট শুধু নয়, রীতিমতো বাংলাদেশি গ্রোসারি আইটেম এখানকার মূলধারার রিটেইল স্টোরে দেদার বিক্রি হচ্ছে। বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার বা ঢাকার কাবাব হাউস এখন টরন্টোর রাস্তায় রাস্তায়। আমরা এখন বিশ্বের যেকোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে মাথা উঁচু করে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিয়েই অংশগ্রহণ করি। আমি প্রতিনিয়ত কিছু অর্থ ও ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত সেমিনারে অংশ নিই এবং সেসব অনুষ্ঠানে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উপস্থাপন করতে একদিকে যেমন গর্ব বোধ করি, অন্যদিকে তেমনি অন্যদের আগ্রহের জায়গাও বেড়ে যায়। কারণ উপস্থিত অনেকেই বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নতির বিষয়ে জানতে চায়। এর সব কিছুই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের কারণে, যার স্বীকৃতি তিনি আগেও অনেক পেয়েছেন, আজও পেলেন এবং ভবিষ্যতেও পাবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন এবং আগাম শুভ জন্মদিন।    

 লেখক : ব্যাংকার, টরন্টো, কানাডা

[email protected]



সাতদিনের সেরা