kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে শক্তিশালী চুক্তি নিশ্চিত হোক

অনলাইন থেকে

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জলবায়ু সংকটের বৈশ্বিক বাস্তবতা তীব্র মাত্রায় খুব কমই দেখা দিতে পারে। তবে মূল বিষয়টি পরিষ্কার, যেমন—পশ্চিম জার্মানিতে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় প্রায় ২০০ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, মধ্য চীনের হেনান প্রদেশে মারা গেছে অন্তত ৫০ জন এবং প্রবল বর্ষণের কারণে প্রায় চার লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, পশ্চিম কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দফায় দফায় আসা জ্বলন্ত তাপপ্রবাহ ক্রমবর্ধমানভাবে দাবানলের জ্বালানি জোগাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী আলজেরিয়া থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত লোকজন খরার হুমকির মুখে পড়েছে, যা তাদের আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং সংঘাতেরও সূত্রপাত ঘটাচ্ছে। মোটকথা, এই গ্রহের কোনো লুকানোর জায়গা নেই।

গ্লাসগোতে আগামী ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘের কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে দেশগুলোর একত্র হওয়ার আর ১০০ দিন বাকি। ১৯০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতা সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকার এই শীর্ষ সম্মেলনকে বিশ্বের শেষ সেরা সুযোগ বলে অভিহিত করেছে। এটিই সত্য। তবে কর্মযজ্ঞ ও টেকসই প্রচেষ্টার চেয়ে এ ধরনের কথাবার্তা বলা অনেক সহজ। বিশেষ করে যখন বরিস জনসন এখানে সংশ্লিষ্ট এবং শেষ সেরা সুযোগটি হারানোর মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি দাঁড়াচ্ছে তা হলো যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের সরকারগুলো উচ্চাভিলাষী কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছাড়াই গ্লাসগোতে যাচ্ছে, যা কপ২৬-কে একটি যথার্থ মোড় নিতে সহায়তা করতে পারে। এটি বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধের যুদ্ধে কাজে লাগবে।

সম্প্রতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের ৯০ শতাংশের বেশি প্রতিনিধিত্ব করা জি২০-ভুক্ত দেশগুলোর পরিবেশমন্ত্রীরা নেপলে বৈঠক করছেন। সমাবেশটির আসন্ন কপ২৬-এর পথে একটি দুর্দান্ত স্প্রিংবোর্ড (উল্লম্ফন সহায়ক) হিসেবে কাজ করা উচিত ছিল। তবে দৃঢ় ও যৌথ নীতি প্রতিশ্রুতির বিষয়ে বৈঠকটি সংক্ষিপ্ত হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা তৈরি করা যেত। সমস্যার মূলে রয়েছে ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের নেট জিরো অর্জনে পদক্ষেপ ও সময়সূচি নিয়ে জি২০ একমত না হওয়ার ব্যর্থতা। এটি একই সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ করার একটি উচ্চাভিলাষী বৈশ্বিক লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, বৈঠকে উষ্ণতা বৃদ্ধি সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি পছন্দনীয় হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মন্ত্রীরা স্বীকার করেছেন।

এটি অগ্রহণযোগ্য, তবে মহামারি থেকে অর্থনৈতিকভাবে পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করা এক বিশ্বের বৈশিষ্ট্য বটে। বর্তমান জলবায়ু লক্ষ্য পূরণের জন্য যা দরকার, তার চেয়ে বিশ্বের সরকারগুলোর পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন যেখানে কমে আসার কথা, সেখানে ২০২৩ সালে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। ফলে পৃথিবীর নেট জিরো অর্জনের পথ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। সেই ব্যর্থতা কিছুটা অর্থনীতি ও কিছুটা রাজনীতিতে নেমে আসবে। অতীতের মতো আজও ব্যাপকভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় দেশগুলো প্রায়ই খেলার চেয়ে ভালো চাল দেওয়া নিয়ে কথা বলে। গত বৃহস্পতিবার অ্যাঙ্গেলা মার্কেল যেমন জার্মানির রেকর্ড সম্পর্কে স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা বর্তমান গতি অব্যাহতি রাখতে পারি না, বরং আমাদের গতির মাত্রা বাড়াতে হবে।’

কপ২৬ আয়োজক দেশ হিসেবে ব্রিটেন যে যথেষ্ট কাজ করেছে, তা বলার খুব একটা সুযোগ নেই। কাজটি করা এখনো জরুরি। ব্রাজিল ও ভারতের মতো বড় উন্নয়নশীল দেশগুলো আলোচনার টেবিলে না থাকলে চুক্তি করাটা কঠিন। এই দেশ দুটি জানে যে তাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা রয়েছে। চীন এখনো সবচেয়ে বড় কার্বন নির্গমনকারী দেশ হিসেবে রয়ে গেছে এবং যাদের মোট নির্গমন এখনো বাড়ছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যার নির্গমন হ্রাস পাচ্ছে বটে; কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে (ও মাথাপিছু) চীনের চেয়ে অনেক বেশি। এ দুটি দেশ একসঙ্গে বৈশ্বিক নির্গমনের ৪০ শতাংশের জন্য দায়ী। সুতরাং এই দেশগুলো ছাড়া চূড়ান্ত কিছুই অর্জনযোগ্য নয়। মার্কিন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগ এগিয়ে নিতে অতিরিক্ত অর্থের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন; কিন্তু জোর দিয়ে বলেছেন যে একটি শক্তিশালী জলবায়ুু চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য মানবাধিকার বিষয়ে চীনের সঙ্গে কোনো ভারসাম্য রক্ষা করা হবে না, যদিও এখনো একটি উপযুক্ত চুক্তিতে পৌঁছানো বাকি, তবে কপ২৬-এ সফল হতে পারে। ঘড়ি টিক টিক বাজছে এবং বাজির পরিমাণ বাড়ছে।

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ

 



সাতদিনের সেরা