kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

দিল্লির চিঠি

কোয়াড নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া

জয়ন্ত ঘোষাল

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



কোয়াড নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ আজ চীন। সেই চীন বাংলাদেশের মতো আয়তনে ছোট একটি রাষ্ট্র সম্পর্কে এভাবে হুমকি দিল কেন? যখন প্রথম শুনলাম যে ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত হুমকি দিয়ে বলছেন যে বাংলাদেশ যদি এই সংস্থায় যোগ দেয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া ভালো হবে না। চীনের হুমকি হলো, ‘কোয়াড’ থেকে বাংলাদেশকে বাইরে থাকতে হবে, কোনোভাবেই অংশ নেওয়া চলবে না। এই মুহূর্তে কোয়াড নামক সার্বভৌম রাষ্ট্রগোষ্ঠীর সদস্য কারা? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং ভারত। বাংলাদেশ এই গোষ্ঠীর সদস্যও নয়। তাহলে সদস্য নয়, অথচ সদস্য হতে পারে এ ধরনের একটা শঙ্কা থেকে, এ ধরনের একটা প্রি-এমটিভ মন্তব্য শুনে আমি বিস্মিত হলাম। স্বভাবতই সেদিনই সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সাংবাদিকরা জানতে চাইলেন যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে? স্বভাবতই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়ে এবং মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রকে ভারতীয় সাংবাদিকরা সেদিন জেরবার করে তুললেন। কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে কৌশলগতভাবে একটা অবস্থান নিল। বিষয়টা চীন এবং বাংলাদেশের মধ্যে হয়েছে। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত চীনের প্রতিনিধি হিসেবে এই মন্তব্য করছেন, সেখানে তো প্রতিক্রিয়া জানাবে বাংলাদেশ। কারণ বাংলাদেশকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে তারা যদি কোয়াডে যোগ দেয়, তবে কী হবে? অর্থাৎ মাসির যদি গোঁফ গজায়, তাহলে তাকে কী আমরা মামা বলব, কী বলব না? এ নিয়ে একটা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা যেমন, অনেকটা সে রকম। কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে একটা সিরিয়াস নোট এর পেছনে রয়েছে যে তাহলে চীন কি আশঙ্কা করছে যে বাংলাদেশও এই কোয়াডের অন্তর্গত হবে? নাকি হতে পারে ধরে নিয়ে আগাম এ ধরনের মন্তব্য করা, যাতে বাংলাদেশকে এ ধরনের সদস্য হওয়া থেকে বিরত রাখা যায়।

এরপর আমরা কী দেখলাম? আমরা দেখলাম যে ভারত নয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনের এ ঘটনার ব্যাপারে বিবৃতি দিলেন, তাঁর বিবৃতিটা অন্তত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হতে পারে, কিন্তু সেই বিবৃতি দিয়ে বুঝিয়ে দিল বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার যে সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে, সেখানে চীন এবং ভারত দুটি দেশ সম্পর্কে তাদের একটা দৃষ্টিভঙ্গি আছে। বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু কিন্তু চীনের শত্রু নয়। তবে চীনের এ ধরনের নাক গলানোটা যে বাংলাদেশের পছন্দ নয়, সেটা তক্ষুনি জানানোর একটা প্রয়োজনীয়তা ছিল। চীনের মতো একটা এত বড় দেশ, যার ড্রাগনের নিঃশ্বাসে গোটা দুনিয়ার তাবড় তাবড় দেশ ভীতসন্ত্রস্ত; সেখানে গোটা পৃথিবীতে ৪৭তম অর্থনীতির রাষ্ট্র, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির রাষ্ট্রের চোখ-রাঙানিকে ভয় না পেয়ে তারা জানিয়েছে যে এই নাক গলানোটা তারা পছন্দ করছে না এবং এটা কোনো একটা কিছু হওয়ার আগেই এ ধরনের মন্তব্য সমীচীন নয়। বাংলাদেশের এই দৃঢ়তা কিন্তু দেখিয়ে দেয় যে গোটা পৃথিবীর অর্থনীতির তালিকায় তারা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। তার থেকেও বড় কথা হচ্ছে, আজকে কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতিও সবার কাছে দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে মাথাপিছু আয়ের যে বৃদ্ধি, তাদের অর্থনৈতিক কাজের প্রশংসা নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন পর্যন্ত বারবার করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও যেসব রিপোর্ট দিয়েছে, এমনকি বিশ্বব্যাংক পর্যন্ত বলেছে, বাংলাদেশ খুব ভালোভাবে তাদের রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিমুখ তৈরি করেছে। বারবার পাকিস্তানের অর্থনীতির বিপর্যয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা হয়েছে। তার কারণ পাকিস্তানের রাজনৈতিক-সামাজিক যে বিপর্যয়, বাংলাদেশ কিন্তু সেই পথে যায়নি। ‘তালেবানাইজেশন’-এর বিরোধিতা করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রগতি এবং অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীনের সঙ্গেও কখনো শত্রুতা করছে না। তাহলে চীন কেন এমন করছে? আসলে এখানেই মূল প্রশ্নের উত্তরটা খুঁজতে হবে।

বাংলাদেশের যে জিওস্ট্র্যাটেজিক অবস্থান, সম্ভবত সেটার জন্য চীনের কিন্তু বাংলাদেশকেও প্রয়োজন। তার ফলে আজ কোয়াডকে তারা একটা চীনবিরোধী অক্ষ তৈরির চেষ্টা বলে মনে করছে। কিন্তু চীনও পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে একইভাবে ভারতবিরোধী অক্ষ তৈরির চেষ্টা কিছু কম করছে না! তাদের ‘দক্ষিণ চীন সমুদ্রনীতি’—সেটাও কিন্তু খুব আক্রমণাত্মক। তাদের রাস্তা তৈরির জন্য তারা যেভাবে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এগোনোর চেষ্টা করছে। সেটাও ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। সুতরাং এই অক্ষের লড়াইটা ভারত এবং চীনের মধ্যে হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এই অক্ষের লড়াইটা পছন্দ করছে না। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে, তাদের জিওস্ট্র্যাটেজিক অবস্থানের গুরুত্ব ভারতের কাছেও যেমন আছে, তেমনি চীনের কাছেও আছে। চীন নানাভাবে বাংলাদেশের মন জয় করার চেষ্টা করেছে। এমনকি চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের গত বছর অক্টোবরের সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। নানাভাবে বাংলাদেশের মন জয় করা তাদের উদ্দেশ্য। সেই কারণে এই চাপের রাজনীতি। এখন মনে হচ্ছে, এটা বোধ হয় বাংলাদেশে আঘাত হেনে ভারতকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

পরে অবশ্য চীন তাদের অবস্থান কী তা বুঝিয়ে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টাও করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং মন্ত্রণালয়ের এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে চীনের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার জোট হিসেবে যে বেইজিং কোয়াডকে দেখছে, তা-ও জানিয়ে দেন তিনি।

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের আছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, চীন আগ বাড়িয়ে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গত বুধবার ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে এই চাপান-উতোর নিয়ে প্রশ্ন করা হয় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইংকে। তিনি উত্তরে বলেন, ‘এটা আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, চীন ও বাংলাদেশ খুবই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে আমাদের সম্পর্ক তৈরি করেছি। আমরা একে অন্যকে সব সময় সম্মানের দৃষ্টিতে দেখি এবং মৌলিক স্বার্থ এবং উদ্বেগের মূল বিষয়গুলোতে পরস্পরকে সহযোগিতা করি।’ কোয়াড সম্পর্কে চুনইং বলেন, ‘কোয়াড কোন ধরনের জোট, তা আমরা সবাই জানি। নির্দিষ্ট কিছু দেশ কর্তৃক ক্ষুদ্র জোট গঠন, চীনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রাখা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বিরোধ বাধানোর যে চেষ্টা, তার বিরোধিতা আমরা করি।’

গত বছরের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরটি ‘ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দিয়েছে। এই সফরের অংশ হিসেবে চীনা কম্পানিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশি কম্পানিগুলোর এক হাজার ৩৬০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। এর বাইরে দুই দেশের সরকারের মধ্যে দুই হাজার কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশের কী এমন ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে, যার কারণে তারা পৃথিবীর মাতবর হতে প্রত্যাশী দেশের কাছ থেকে এত বড় সহায়তা পেতে পারে। ব্যাপারটা হচ্ছে, কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান, ভারতের সঙ্গে তার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক নৈকট্য, সস্তা শ্রমের প্রাপ্যতা এবং বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থান—এ সবকিছুই চীনের আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও ভূ-অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চীনা অর্থনীতি অনেকাংশে ভারত মহাসাগর দিয়ে আনা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। চীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে থাকে তার ৮০ শতাংশই আসে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে; এই সরু অংশটি ভারত মহাসাগরের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরের সংযোগ স্থাপন করেছে। এই মালাক্কা প্রণালি দিয়েই ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে চীন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারে। চীনের জ্বালানি চাহিদা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। ফলে তার কাছে এ অঞ্চলটির গুরুত্ব বাড়ছে। এই অঞ্চলে প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি এর ওপর অতি নির্ভরশীলতা কমাতে চীন ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোকে বিনিয়োগ প্রস্তাব দিচ্ছে। এ কারণেই বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে এই বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে। আবার বহুল কথিত স্ট্রিং অব পার্ল তত্ত্বের জন্যও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।

মালাক্কা প্রণালির ওপর অধিক নির্ভরশীলতা কমাতে চীন এরই মধ্যে মিয়ানমারের কিয়াকপিউ বন্দর থেকে কুনমিং পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নেও আগ্রহী। এতে করে সে চট্টগ্রাম-কিয়াকপিউ-কুনমিং পাইপলাইন নির্মাণ করতে পারবে। ভারত যদি কখনো মার্কিন সহায়তায় আন্দামান সাগরে মালাক্কা চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেয়, তাহলে চীনা উৎপাদন খাতের ওপর এর গুরুতর প্রভাব পড়বে। তাই চীন এসব কাজ করছে।

বহুদিন ধরে চীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এবার তারা দক্ষিণ এশিয়ায় নজর দিয়েছে। উল্লেখ্য, এই অঞ্চলে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস; আর ক্রয়ক্ষমতার সামর্থ্যের ভিত্তিতে এই অঞ্চল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। ফলে চীনা পণ্যের জন্য এটি আকর্ষণীয় এক বাজার। বিতর্কিত অরুণাচল প্রদেশ, আফগানিস্তান বা পাকিস্তান হয়ে ভারতে ঢোকা যেহেতু বাস্তবসম্মত নয়, তাই বাংলাদেশ হয়ে তার ভারতে ঢোকা সম্ভব। বাংলাদেশের সঙ্গে তার সে সম্পর্কও আছে। আর বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমারের সমন্বয়ে গঠিত উপ-আঞ্চলিক করিডর দক্ষিণ এশিয়ায় চীনা পণ্য ঢোকার জন্য সহায়ক হওয়ায় বাংলাদেশকে আস্থায় নেওয়া চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে চীন বাংলাদেশকে কাছে টানতে চায়, বিশেষজ্ঞরা একে ‘চেকবুক কূটনীতি’ আখ্যা দিয়েছেন।

চীন এখন এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড  (OBOR)’ প্রকল্পের মতো বড় কাজ হাতে নিচ্ছে। একুশ শতকের সিল্ক রোডে চট্টগ্রাম বন্দরও গুরুত্বপূর্ণ, যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সমুদ্রপথবিষয়ক উদ্যোগের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত এই ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পই শি চিনপিংয়ের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক নীতি।

চীনে শ্রমের মজুরি বাড়তে থাকায় তার পতনশীল শিল্পকে নতুন জায়গা খুঁজতে হবে। এ কারণে চীনকে এখন শ্রমঘন নিম্ন প্রযুক্তির শিল্প থেকে সরে আসতে হবে। তাকে এখন উচ্চ মুনাফা ও প্রযুক্তির পণ্য যেমন—আইটি, অ্যারোস্পেস ও টেলিযোগাযোগ খাতে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণের সংখ্যা বিপুল। অর্থাৎ সেখানে এখন বিপুলসংখ্যক সস্তা শ্রমিক পাওয়া যাবে। চীনের শ্রমঘন শিল্পের মালিকরা, যাঁরা উৎপাদন চালিয়ে যেতে চান, তাঁদের জন্য বাংলাদেশ শিল্প স্থানান্তরের ভালো জায়গা হতে পারে।

কারোনা নিয়ে গোটা পৃথিবী ব্যস্ত! মানুষের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া ভারত ও বাংলাদেশ দুই পক্ষেরই এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। চীন এ সময়টা প্রতিক্রিয়ার জন্য বেছে নিল কেন, সে এক মস্ত বড় প্রশ্ন!

লেখক : নয়াদিল্লিতে কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি

 



সাতদিনের সেরা