kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

পরিবেশগত বর্ণবাদের শিকার মানুষদের উদ্ধার করতে হবে

রেনার্ড লোকি

২৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন এবং কভিড-১৯ মহামারি দেখিয়েছে কী করে ‘সিস্টেম্যাটিক রেসিজম’ নিম্ন আয়ের লোকদের এবং সংখ্যালঘুদের অসমভাবে বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই ব্যবস্থিত বর্ণবাদের একটা নিষ্ঠুর বাস্তবতা হচ্ছে ‘স্যাক্রিফাইস জোন’-এর অস্তিত্ব; এ জোনের অস্তিত্ব দূষণের হটস্পটের কাছে। সেখানকার কমিউনিটিগুলোর লোকজন স্থায়ীভাবে অক্ষম, দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। এর কারণ নিবিড় ও ঘন শিল্পস্থাপনা, যেমন—কারখানা, কেমিক্যাল প্লান্ট, পাওয়ার প্লান্ট, তেল ও গ্যাস রিফাইনারি, ভাগাড় এবং ফ্যাক্টরি ফার্ম।

বিভিন্ন করপোরেশন এবং নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এসব এলাকা হচ্ছে এনভায়রনমেন্টাল রেসিজমের প্রডাক্ট; সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো—এসব এলাকাকেন্দ্রিক আইন দুর্বল, আইন প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে, করপোরেট অবহেলা রয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সেখানে কম। এসব এলাকায় লোকদের বর্ণ ও জাতিসত্তার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেসব এলাকার বাসিন্দাদের ওপর অসম পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। কারণ তারা স্যাক্রিফাইস জোনে বাস করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণ-জনগণ দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে, দূষিত পানি পান করার ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক ও পার্টিকুলেট ম্যাটারের সামনে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি উন্মুক্ত।

ভার্জিনিয়ার ফলস চার্চভিত্তিক অলাভজনক এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকটিভিজম গ্রুপ দ্য সেন্টার ফর হেলথ, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস বলেছে, বৈষম্যমূলক আচরণ, সম্পত্তির নিম্নদর এবং অন্যান্য সামাজিক কারণে এ কমিউনিটিগুলোতে ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন আয়ের লোক রয়েছে এবং/অথবা এদের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা রয়েছে। বর্তমান ফেডারেল এয়ার পলিসির কারণে এ স্থাপনাগুলোর নির্গমন নিয়ন্ত্রিত করা হয় এভাবে—স্ট্যাক এক সময়ে এবং রাসায়নিক আরেক সময়ে। ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটিগুলো বিভিন্ন ধরনের দূষণকারী পদার্থের ক্রমসংযোজিত প্রভাবের কাছে উন্মুক্ত।

জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এ আদেশের ফলে হোয়াইট হাউস কাউন্সিল অন এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস তৈরি হয়েছে। এটি নির্দিষ্টভাবে সিস্টেম্যাটিক রেসিজমের পরিবেশগত প্রভাব দেখবে এবং ব্যবস্থা নেবে। আলাদা একটি নির্বাহী আদেশে ফেডারেল সংস্থাগুলোর উদ্দেশে বলা হয়েছে, তাদের কাজে রেসিয়াল ইকুইটিকে অগ্রাধিকার দিতে। ফেডারেল সরকারের সব কাজে বর্ণগত ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে যদি কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া না হয়, তাহলে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এ আদেশগুলো পাল্টে দিতে পারেন।

প্র্রেসিডেন্ট বাইডেনের দুই ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের বর্ণগত অসমতার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে; এর মধ্যে রয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটা কর্মসূচি, যার উদ্দেশ্য বর্ণ-সম্প্রদায়গুলোকে অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত করা। ওই প্রস্তাবে আরো রয়েছে, সিসার পানির পাইপ বদল করার জন্য তহবিল, এসব পাইপের কারণে ফ্লিন্ট ও মিশিগানের মতো শহরের বর্ণ-সম্প্রদায়ের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিবেশগত জঞ্জাল অপসারণ হিস্পানিক ও ট্রাইবাল লোকদের ক্ষতি করেছে।

এপ্রিলের ৪ তারিখে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও পরিবেশ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ইস্যুতে সক্রিয় অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘হিপ হপ ককাস’ একটা পাবলিক পিটিশন অভিযান শুরু করেছে। কংগ্রেসের কাছে তাদের দাবি, এমন আইন করতে হবে, যাতে বর্ণ-সম্প্রদায় পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়। এই প্রস্তাবের কো-স্পন্সর হিসেবে আছে প্রগ্রেস আমেরিকা, ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশন, কোয়ালিশন অন হিউম্যান নিডস, এভারগ্রিন অ্যাকশন ও দ্য প্রগ্রেসিভ রিফর্ম নেটওয়ার্ক।

২০০৪ সালের একটি প্রতিবেদনে ইউএস এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) বলেছিল, অসম নিরাপত্তার ব্যাপারে সমাধান রয়েছে—সব আমেরিকানের জন্য পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্যে। কোনো কমিউনিটি—ধনী বা গরিব, কালো বা সাদা কাউকেই ‘স্যাক্রিফাইস জোনে’ পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

এর চার বছর পরে ইপিএর ন্যাশনাল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্টের বিজ্ঞানীরা একটি সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথে। এতে নিশ্চিত করা হয়েছে, পরিবেশগত বর্ণবাদ বহাল আছে এবং এটা যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য বিপদ ডেকে আনছে। কারণ তারা সাধারণত দূষণকারী ব্যবস্থার পাশে থাকে। দূষণকারী পদার্থের নির্গমনের ফলে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, যেমন—ফুসফুসের সমস্যা, নন-ফ্যাটাল হার্ট অ্যাটাক, অনিয়মিত হার্টবিট, অ্যাগ্রেভেটেড অ্যাজমা। এসব কারণে অকালমৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে।

এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস প্রগ্রামের পরিচালক লেসলি ফিল্ডস বলেন, বর্ণ-সম্প্রদায় এবং সীমিত উপায়ের লোকজনদের দূষণকারীরা সুবিধা হিসেবে দেখে, তারা তাদের কষ্টের এবং কষ্টের কারণের দিকে খেয়াল রাখে না। আইয়ানা বার্ডের মতে, এনভায়রনমেন্টাল রেসিজম হচ্ছে নতুন জিম ক্রো আইন। এ আইনের টার্গেট হয় কালোরা, লাতিনরা, আদিবাসীরা, এশিয়রা এবং অন্যান্য বর্ণ-সম্প্রদায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী করে রাখা হচ্ছে।

পরিবেশগত বর্ণবাদ ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাহী আদেশাবলি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে খুব দরকার। কংগ্রেসকে এসব বিষয়ে সমর্থন জোগাতে হবে, যাতে স্যাক্রিফাইস জোনগুলোর চির অবসান ঘটে।

 

লেখক : ইনডিপেনডেন্ট মিডিয়া ইনস্টিটিউটের রাইটিং ফেলো এবং সেখানকার ‘আর্থ ফুড লাইফ’-এর সম্পাদক

সূত্র : দ্য কাউন্টারপাঞ্চ অনলাইন

ভাষান্তর ও সংক্ষেপণ : সাইফুর রহমান তারিক



সাতদিনের সেরা