kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে কি যুক্তরাষ্ট্র ফিরতে পারবে

গাজীউল হাসান খান

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে কি যুক্তরাষ্ট্র ফিরতে পারবে

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘পাঁচ+এক’ বৃহৎ শক্তির পারমাণবিক চুক্তিটিকে হয়তো বিলুপ্ত বা নিষ্ক্রিয় হওয়ার হাত থেকে আপাতত রক্ষা করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাইডেনের ভূমিকা এখনো সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়। ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিত জো বাইডেন ইরানের ওপর থেকে তাঁর পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত অর্থনৈতিক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা বর্তমান অবস্থায় প্রত্যাহার করতে তাত্ক্ষণিকভাবে রাজি নন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি থেকে তিন বছর পর অর্থাৎ ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়া এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে ইরান ক্রমেই সম্পূর্ণভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। কিন্তু পারমাণবিক বিস্তার রোধ ও অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা থেকে মুক্তির প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আবার আগের চুক্তিতে ফিরে যেতে চেয়েছেন। কিন্তু ইসরায়েল ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির বিরুদ্ধাচরণ ছাড়াও বিভিন্ন শর্ত বা দাবি তুলে যাচ্ছে তার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে। সুতরাং সে ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা পূরণে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইরানের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে রাজি নন।

এদিকে কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে জেনেভায় ইরানের এক অস্থায়ী বোঝাপড়ার ফলে ইরান তাকে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সীমিত কার্যক্রম গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন মাসের জন্য চালু করার সুযোগ দিয়েছে। এবং এই নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে তার পূর্ব স্বাক্ষরিত চুক্তিতে অর্থাৎ ‘দ্য জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশনে’ ফিরে এসে তার (ইরান) বিরুদ্ধে সব অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট তাতে এখনো সম্মত না হলেও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এই পূর্ব স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বাঁচাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আবার তাতে ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত ব্যস্ত ও বহুমুখী দূতিয়ালি কার্যক্রম শুরু করেছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক বলেও গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ইরানের কট্টর বিরোধী বলে পরিচিত ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং তার মার্কিন সহযোগীরা আবার সেই চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর শর্তাবলি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের নিরাপত্তার ব্যাপারে সজাগ এবং তাদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত হলেও শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তিতে ফিরে যেতে অত্যন্ত আগ্রহী। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন এখন অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন—কিভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ব্যবস্থায় পৌঁছা যায়। কিন্তু এ বিষয়টি খুব যে সহজ হবে তা নয়। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের পতনের ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাষ্ট্র এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সমরাস্ত্র সংগ্রহের ব্যাপারে অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থায় পড়েছে। এ ছাড়া সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও কিছুটা নড়বড়ে অবস্থায় পড়েছে। সে কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তুরস্ককে ডেকে এনেছে সৌদি আরব। কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে গালফের অর্থনৈতিক সহযোগিতা (জিসিসি) বলয়। ফিলিস্তিনে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, ইয়েমেনের ওপর হামলার অবসান এবং গাজা থেকে অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে গাজার হামাস, ইয়েমেনের হুতি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ গেরিলা বাহিনী ইরানের পক্ষে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রকাশ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। সেই সব বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অর্থাৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলোতে রাজতন্ত্রের ঘোর বিরোধী। তারা মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবের মধ্যে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের অবাঞ্ছিতভাবে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা মেনে নেবে না। সুতরাং ইরান ও তুরস্কের সমর্থন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এখন মধ্যপ্রাচ্যে কোনো প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠা করাও সম্ভব হবে না। কারণ সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও লেবাননের ব্যাপারে রাশিয়া কিংবা চীনেরও কোনো সমর্থন বা সহযোগিতা পাবে না যুক্তরাষ্ট্র।

ক্ষমতায় অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে এক অযৌক্তিক, অনৈতিক ও অভূতপূর্ব কূটনৈতিক পদচারণ শুরু করেছিলেন। বিশ্বের ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রাণকেন্দ্র জেরুজালেমকে ট্রাম্প ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এতে পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণাকে পাশ কাটিয়ে পশ্চিম তীরসহ সর্বত্র অন্যান্য ও বেআইনি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আরো ব্যাপকভাবে এগিয়ে যায়। ট্রাম্প ইসরায়েলের অধিকৃৎ গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের অন্যায় ও অবৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে, যা আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ছাড়া বিশ্বের বেশ কয়েকটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রশাসনের শেষ বছরটিতে করোনার প্রাদুর্ভাব এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। ইরান আক্রমণ ও তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় সৌদি আরব, আরব আমিরাতসহ আরো কয়েকটি মুসলিমপ্রধান ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের সমর্থন ছিল বলে জানা যায়। তবে তুরস্ক, রাশিয়া ও চীন আগাগোড়াই সে পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। ট্রাম্পের সে ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ ও পরিকল্পনার কারণে মুসলিম এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে ট্রাম্প অত্যন্ত বিতর্কিত ও নিন্দনীয় হয়ে পড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি হিসেবে তার ভাবমূর্তি প্রায় হারিয়েই ফেলেছিল। ঠিক তখনই এগিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং শেষ পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেনের সাফল্য বিশ্বের গণতন্ত্রমনা মানুষের মধ্যে একটি আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়। জার্মানিসহ ছয় জাতি স্বাক্ষরিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারিকে বিশ্ববাসী স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি। ট্রাম্পের বিভিন্ন অযৌক্তিক কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতি অত্যন্ত হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল এবং এক অর্থে বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা থেকে ট্রাম্পের বিদায় এবং জো বাইডেনের অধিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাসীর মনে আবার এমন একটি আশার সঞ্চার করেছে যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জো বাইডেন সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে একটি নতুন পথ দেখাবেন। সে কারণেই ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে আসা এবং তার বিরুদ্ধে জারি করা সব অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করার ব্যাপারে বাইডেনের প্রতি ইরানের বিভিন্ন আহ্বান। এ ছাড়া জাতিসংঘের আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রুসি ভিয়েনায় বলেছেন, তাঁর সঙ্গে ইরানের আলাপ-আলোচনা পারমাণবিক চুক্তিটি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে আপাতত একটি সুফল দিয়েছে। তবে উভয় পক্ষের ঘোষিত তিন মাস সময়ের মধ্যে আইএইএ যা যা করতে পারবে এবং যা করতে পারবে না তার একটি ফিরিস্তি ইরান দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী হোসেন খামেনি ইরানের চাহিদা মেটানোর জন্য যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রয়োজন তা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া ইরানের পার্লামেন্ট ২০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ব্যাপারে সম্প্রতি একটি আইন পাস করেছে। তবে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ৩.৬৭ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের শর্ত লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। গত অর্ধ দশকে ইরানের বিভিন্ন উন্নয়ন কিংবা অর্থনৈতিক প্রকল্পে বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের চাহিদা অনেক বেড়েছে। তার মধ্যে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবা (ঔষধশিল্প) প্রকল্পেই চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো সুযোগই নেই। খামেনি বলেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পরিমাণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে নতুনভাবে এই চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার ওপর। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে ইরানে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। ইরানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। ইহুদিরা ইসরায়েলের অন্যায় আবদার নিয়ে মাথা ঘামাতে গেলে যুক্তিরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক কোনো সমাধান খুঁজে পাবে না। কারণ ইরান প্রকাশ্যেই বলেছে, তারা কোনো পারমাণবিক বোমা বানাতে আগ্রহী নয়। তার পরও ইরানের পারমাণবিক সংস্থার প্রধান মোহসেন ফকরিজাদেকে গত নভেম্বরে তাঁর দেশে হত্যা করা হয়েছে। সেই হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনীর এক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে ইরান প্রচার করেছে। এর আগে ইরানের সেনাবাহিনীর প্রবাদতুল্য সেনানায়ক সোলেমানিকে হত্যা করেছেন ট্রাম্প।

ফিলিস্তিন ও ইয়েমেন কিংবা ইরাক ও লেবাননে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইরানকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আধিপত্য ও সম্প্রসারণবাদী পরিকল্পনাকে প্রশ্রয় দিতে গেলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দরবারে শেষ পর্যন্ত তার অন্যতম পরাশক্তির ভাবমূর্তি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলতে পারে। কারণ সিরিয়া ও ইরাক ইস্যুতে এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের এখন তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের রাজনীতি কিংবা সামরিক শক্তি প্রতিষ্ঠায় ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া যতটুকু স্থান দখল করে আছে যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে তেমন কোনো অবস্থান নেই। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা শক্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোনো স্থান নেই। তারা তাদের নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে এখন তুরস্কের দ্বারস্থ হয়েছে। প্রয়োজন হলে তারা তাদের নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের সাহায্য নিতেও দ্বিধাবোধ করবে না। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ধরে রাখতে হলে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ইরানের আহ্বান বিবেচনায় নিতেই হবে। নতুবা মধ্যপ্রাচ্যের সব অশান্তি ও অস্থিতিশীলতার মূল ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে একদিন চরম মূল্য দিতে হবে। ইরান ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিয়োজিত রয়েছে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্ট অর্থনৈতিক অবরোধ তাকে ধ্বংস করতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে তাহলে ইহুদিবাদী ইসরায়েল, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেরও অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়তে পারে।

লেখক : শব্দসৈনিক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক

ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

[email protected]

মন্তব্য