kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

ইরান চুক্তির ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন বাইডেন

টমাস ন্যাপ

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার আগেই জো বাইডেন ইরানের প্রতি মার্কিন পলিসির ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করেন। ২০১৫ সালে ট্রাম্প যখন জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) অর্থাৎ ইরান পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন করলেন তখন তিনি এ কাজের সমালোচনা করলেন; সঠিকভাবেই তাঁকে দোষারূপ করলেন। তিনি তখন চেষ্টা করলেন এই চুক্তির পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব ইরানিদের ঘাড়ে ছেড়ে দিতে; নিজের ঘাড়ে দায়িত্ব নেওয়ার চেয়ে সেটাই বরং ভালো।

গত সেপ্টেম্বরে একটি উপসম্পাদকীয়তে তিনি লিখেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক চুক্তির শর্ত পুরোপরি মেনে চলতে চায়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে আবার সংশ্লিষ্ট হতে পারে। আমেরিকা তখন ফলোঅন নেগোসিয়েশনের স্টার্টিং পয়েন্ট হিসেবে চুক্তিতে যুক্ত হবে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বাইডেন এবং নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন এই লাইনটিই আঁকড়ে ধরে আছেন।

ইত্যবসরে ইরানের সরকার বিষয়টা পরিষ্কার করেছে। তারা বলেছে, যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং অন্যদের ওপরও চাপ প্রয়োগ করেছে চুক্তি লঙ্ঘন করার জন্য, তাই বল এখন বাইডেনের কোর্টে, তাদের কোর্টে নয়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথা রক্ষার লাইনে ফিরে যেতে পারে অথবা তারা সে প্রতিশ্রুতি ভাঙার লাইন অব্যাহত রাখতে পারে। এখন বাইডেনের পালা...সময় কিন্তু গড়িয়ে যাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ সিএনএনকে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরমাণু চুক্তিতে ফিরে আসার সময় কিন্তু অফুরান নয়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুযোগের জানালা সীমিত মাত্রায় খোলা আছে...আমরা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছি, সেসব ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে একমত হতে হবে। প্রস্তাব তাদের গ্রহণ করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিষয়টি যদি হয়ে থাকে ক্রিসমাস উদযাপন করা, তাহলে বাইডেনকে কয়লার আগুনে জ্বলা কুপিবাতি হাতে নিয়ে জেগে উঠতে হবে, কয়লার স্টকটা তার কাছেই আছে, যা তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকে পেয়েছেন এবং এ বিষয়ক একটা মোটা, বড় ও সুন্দর বাক্স পেয়েছেন একটি গাছের তলায়, যা বারাক ওবামার।

ট্রাম্পের কাছ থেকে যে কয়লার দলাটা তিনি পেয়েছেন তাতে রয়েছে ইরানের বিষয়ে নরম হওয়ার ঝুঁকি। যদি তিনি ইরান পরমাণু চুক্তিতে ফিরেন তেহরানের কাছ থেকে আরো ছাড় আদায় করা ছাড়াই, তাহলে সেই ঝুঁকিটা আছে বৈকি।

ওবামার উপহার গাছতলায় গেছে ২০১৫ সালে, যখন তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব হিসেবে চুক্তির বিষয়টি কোডিফায়েড অবস্থায় পেয়েছিলেন। জাতিসংঘ সনদ এ ধরনের প্রস্তাবকে সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট যথাযথভাবে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সনদ অনুমোদন করেছে। সেই অনুমোদনের মাধ্যমে জাতিসংঘ সনদকে তাদের সংবিধানের সঙ্গে ‘দ্য সুপ্রিম ল অব দ্য ল্যান্ড’-এর অংশে পরিণত করা হয়েছে।

জো বাইডেন তাৎক্ষণিকভাবে এবং একপক্ষীয়ভাবে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশনে যুক্তরাষ্ট্রকে পুনঃসংযুক্ত করতে পারেন, এটা শুধু একটা সত্য নয়। এটাও সত্য যে আইনগতভাবে তার অবশ্যই তেমনটি করার কথা।

আধুনিক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সংবিধান বা আইনের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে নিজেদের অনেক বেশি ঝামেলায় জড়াবেন এমন তো নয়; অবশ্যই নয়। এটা এখনো বাইডেনের চয়েস, তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কী করবেন এবং যখন ইরান এ ব্যাপারে অবহিত তখন সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছা বেশ সহজ কাজ। 

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কি বারাক ওবামার তৃতীয় মেয়াদ পরিচালনা করতে চান, নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ পরিচালনা করতে চান? দ্রুত ভাবুন জো।

লেখক : পরিচালক এবং সিনিয়র নিউজ এনালিস্ট, উইলিয়াম লয়েড গ্যারিসন সেন্টার ফর লিবারটারিয়ান অ্যাডভোকেসি জার্নালিজম। উত্তর-মধ্য ফ্লোরিডায় বাস করেন এবং সেখানেই কর্মরত

সূত্র : দ্য কাউন্টারপাঞ্চ অনলাইন

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক



সাতদিনের সেরা