kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

যোগাযোগের মাধ্যম মেসেজিং অ্যাপ

আনা জামেনস্কায়া

১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের জীবনকে সহজ করতে প্রতিনিয়ত দুর্দান্ত উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হচ্ছে। এই উদ্ভাবনগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত  চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে আমরা খুব সহজেই গ্রোসারি স্টোর থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা থেকে শুরু করে উড়োজাহাজের টিকিট পর্যন্ত বুক করতে পারছি। পাশাপাশি কিছু অ্যাপ্লিকেশন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।  

বর্তমান সময়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য আমরা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপগুলোতে অধিক সময় ব্যয় করে থাকি। বিশেষ করে ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, মেসেঞ্জার এবং টেলিগ্রামের মতো মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলো আমাদের যোগাযোগের ধরনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। এখন পর্যন্ত জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের অ্যালফাবেট ক্যারেক্টার ও ইমোটিকন ব্যবহারের মাধ্যমে থ্রেডেড ভিউতে চ্যাট করার সুবিধা দিচ্ছে। পরিপ্রেক্ষিত অনুযায়ী আলোচনাকে (কনভারসেশন) উপভোগ্য ও ফলপ্রসূ করতে এই মেসেজিং অ্যাপগুলোতে রয়েছে স্টিকার ও জিআইএফ (গ্রাফিকস ইন্টারচেঞ্জ ফরম্যাট)। সব ট্রেন্ডি ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপগুলো গ্রাহকদের এই ফিচারগুলো দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মতো শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের হার্ডড্রাইভ থেকে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ফরম্যাটে ফাইল শেয়ার করার সুবিধা দিচ্ছে। পাশাপাশি টেক্সট মেসেজ ছাড়াও ব্যবহারকারীরা সহজে যোগাযোগের জন্য  ভয়েস মেসেজ পাঠাতে পারছে।  

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একের ভেতর সব কিছুর খোঁজ করেন। এ কারণেই শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অ্যাপগুলোতে ছোট ও বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য প্রতিনিয়ত আপডেট নিয়ে আসছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীর চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হচ্ছে; অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান সৃজনশীলতার অভাবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারছে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উদ্ভাবনের অংশ হিসেবে ভাইবারসহ কিছু প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ ফিচার নিয়ে এসেছে। এই উদ্ভাবনী ফিচারটি ব্যবহারকারীর ডাটা সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করবে; বিশেষ করে যখন একজন গ্রাহক মনে করবেন তাঁর ডাটাগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো সার্ভারে রাখার প্রয়োজন নেই।   

ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে অডিও এবং ভিডিও কলের সংযোজন নিঃসন্দেহে একটি অনন্য ফিচার। ফলে ফোরজি এবং ফাইভজি ইন্টারনেটের সুবিধা নিয়ে ব্যবহারকারীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করে তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে এইচডি কোয়ালিটির অডিও এবং ভিডিও কল করতে পারবেন। কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারি চলাকালে ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনের প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি পরিমাণে অনুভূত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি মানুষের কথা বিবেচনা করে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপগুলো গ্রাহকদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নিজেদের সেবার ধরন সেভাবেই পরিবর্তন করছে। চলমান পরিস্থিতিতে সহজে মিটিং শেষ করার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ডাটা শেয়ারের জন্য পেশাদারদের একটি নির্ভরযোগ্য ও সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্ম দরকার। এ ছাড়া সেশনজট এড়াতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জুম, গুগল মিট, গুগল ক্লাসরুম, মাইক্রোসফট টিমস, স্ল্যাকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো অনবদ্য ভূমিকা রাখছে।

মেসেজিং অ্যাপগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে  কানেকটেড থাকার বিষয়টি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা অসুবিধারও সম্মুখীন হচ্ছে। যেমন—অনেক ব্যবহারকারী সব  প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না কিংবা এই প্ল্যাটফর্মগুলোর  সঙ্গে পরিচিত নন। তাই বিভিন্ন নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে তাদের সাইন-আপ করতে হয়। এতে ব্যবহারকারীরা অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। ব্যবহারকারীদের সহজে সংযুক্ত থাকার বিষয়টিকে নিশ্চিত করতে মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্রস-প্ল্যাটফর্ম সুবিধা নিয়ে আসা উচিত। এতে ব্যবহারকারীদের একাধিক  প্ল্যাটফর্মে সাইন-আপ করতে হবে না এবং তারা সহজেই ক্রস-প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে সুরক্ষিতভাবে চ্যাট করতে পারবেন। গ্রাহকদের ডাটা সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভাইবারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এন্ড-টু-এন্ড ডাটা এনক্রিপশন নিয়ে এসেছে।

ব্যবহারকারীর চাহিদা পূরণে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন নিয়ে আসছে। আগামী দিনগুলোতে নিত্যনতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির আগমন ঘটবে। বিশেষ করে অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন দিনের সূচনা করবে। বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে মিলে উদ্ভাবনী সেবা নিয়ে আসছে। এটি অনস্বীকার্য যে প্রযুক্তি এবং গেজেটের অন্তর্ভুক্তি মানুষের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়িছে। ক্যাম্পেইন মনিটরের তথ্য মতে, গত বছর প্রতিদিন ই-মেইল পাঠানো ও গ্রহণের সংখ্যা ছিল ২৯৩.৬ বিলিয়ন। ১ স্পেকট্রাম আর্টিকল২ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোর রাজস্ব বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ ডলারে। ভেন্ডররা ইনস্ট্যান্স মেসেজিং অ্যাপে সক্রিয় থাকলে ক্রেতাদের ৬৬ শতাংশ অনলাইন কেনাকাটায় অর্ডার করতে আত্মবিশ্বাসী হবেন। 

আগামী দিনগুলোতে মানুষের সহজে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আরো বেশি উদ্ভাবনী ফিচার নিয়ে আসতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মিটিং কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ করা যাচ্ছে না, এমন প্রতিকূল সময়ে ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘক্ষণ যোগাযোগের জন্য  ইনস্ট্যান্স মেসেজিং অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখছে। সামনের দিনগুলোতে মানুষে মানুষে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠবে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপগুলো।

 

 লেখক : চিফ গ্রোথ অফিসার, রাকুতেন ভাইবার

 

মন্তব্য