kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ট্রাম্প কেন এত ভোট পেলেন

উইল উইলকিনসন

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ট্রাম্প কেন এত ভোট পেলেন

নির্বাচনে পরাজিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মহামারি মোকাবেলায় করুণ ব্যর্থতার মূল্য দিয়েছেন। এর পরও পিলে চমকানোর বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনে হেরেও তিনি আমেরিকার ইতিহাসে যেকোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। এক শতাব্দীতে মাত্র একবার আসে, এমন এক স্বাস্থ্য সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় উপেক্ষা করেই তিনি এ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

যেসব রাজ্যে জো বাইডেন বিজয়ী হয়েছেন তাতে ব্যবধান এত কম হওয়ার কারণ কী? এর অন্যতম কারণ হতে পারে ট্রাম্পের ডাউনটিকিটের (মূল নির্বাচনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা সিনেট ও স্থানীয় নির্বাচন) সহযোগীদের এগিয়ে আসা। তবে এটাও ঠিক যে ডেমোক্র্যাটরা পারস্পরিক দোষারোপে আটকা পড়ে সুইং ভোটারদের মন জয় করতে খুব কমই অগ্রসর হয়েছিল।

আমেরিকার ইতিহাসে শাসনব্যবস্থার ভয়ংকরতম একটি ব্যর্থতার জন্য দায়ী একজন প্রেসিডেন্ট এর পরও কিভাবে নিজের প্রতি এমন সমর্থন বজায় রাখতে পারলেন? তিনি মূলত মেরুকরণের শত্রুতাকে ব্যবহার করে নিজের সমর্থকদের বিশ্বাসযোগ্য সত্যের উৎস থেকে দূরে রাখতে পেরেছিলেন এবং অপমানজনক মিথ্যা বলে তাদের উজ্জীবিত করার ক্ষমতাটি কাজে লাগিয়েছেন; যদিও এই বেদনাদায়ক কৌশল তাঁকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

যা হোক, ট্রাম্প কর হ্রাস, অর্থনৈতিক ঘাটতি মেটানো এবং ঋণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নিরলস প্রচার চালিয়ে গেছেন। তাই আমরা দেখতে পাই, ব্যক্তিগতভাবে আগের কয়েক বছরের তুলনায় আমরা অনেক বেশি সমৃদ্ধ। কিন্তু কভিড-১৯-এর বিপর্যয়কর মোকাবেলা অর্থনীতিকে বিশৃঙ্খলায় ফেলে দেয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের সংক্রমণের বিপদকে হালকা করে দেখতে উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি বিশেষজ্ঞদের আধিপত্য থেকে মুক্ত থাকার প্রতীক হিসেবে মাস্ক পরতে অমার্জিত অস্বীকারের পন্থা বেছে নেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সমাবেশের ওপর জনস্বাস্থ্য বিধি-নিষেধকে অর্থনীতির ক্ষতি ও তাঁর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা নষ্ট করার ভয়াবহ ষড়যন্ত্র হিসেবে হাজির করেন। এর ফলে তিনি অর্থনৈতিক বিধি-নিষেধ ও স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের রক্ষণাত্মক ভূমিকায় রাখতে সক্ষম হন। তবে শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের জালে আটকে থাকেনি। তারা মহামারির স্বাধীনতা বনাম অনির্দিষ্টকালের ক্লান্তিকর শাটডাউনের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য বোঝার সুযোগ দিয়েছিল।

এর পরও ডেমোক্র্যাটদের দরকার ছিল রিপাবলিকানদের বার্তার বিপরীতে একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রতিরোধী কৌশল হাজির করা। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে কী সুবিধা হবে তা শ্রমিক শ্রেণি ও ব্যবসায়ীরা শুনতে পায়নি। এসব না করে বরং ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের আমেরিকার অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য দোষারোপের চিৎকার করতে থাকে। তারা হয়তো ভুল ছিল না, তবে শ্রমিক শ্রেণির জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। রিপাবলিকানরা শ্রমিকদের চাকরি রক্ষা, ঠিকমতো মজুরি পাওয়া এবং ঘরভাড়া পরিশোধ ও বাচ্চাদের খাওয়ানোর দিকটা বড় করে দেখায়। অথচ ডেমোক্র্যাটরা একই শ্রমিকদের বলে যাচ্ছিল যে ‘আমাদের বিজ্ঞানের কথা শুনতে হবে এবং আমরা যদি ভাইরাসকে দমন করতে না পারি তাহলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে পারব না।’

এটা রিপাবলিকানদের ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ যে তারা রুটি রুজির জন্য ব্লু কলার ও সার্ভিস ওয়ার্কারদের মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তা সত্ত্বেও তারা কোটি কোটি আমেরিকানকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে এই ভাইরাসের ঝুঁকি খুবই কম এবং ডেমোক্র্যাটরা তাদের কর্মক্ষেত্র ও স্কুল বন্ধ রাখায় গ্রাহক ও বাচ্চাদের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। লোকজনের মানিব্যাগ শূন্য হয়ে যাচ্ছে এবং একটি বোগাস কারণে তাদের আলমারি খালি হয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট সব কিছুতেই শত্রুতার খেলার মাঠ উন্মুক্ত করে দিতে চেয়েছেন। তিনি নির্বাচনে হেরেছেন প্রধানত এই খেলায় অংশ নেওয়া ভোটারদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পাননি বলে।

ডেমোক্র্যাটদের এই ধারণা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা উচিত যে ওই সব ভোটার হাউস ও সিনেটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদেরই শীর্ষে রাখতে পারত, যদি আলেজান্দ্রিয়া ওকাসিও করতেজের মতো নেতা এতটা কট্টর বাম না হতেন। যাঁর কারণে ভোটাররা অর্থনীতি নিয়ে আতঙ্কে থাকতে পারে। তাদের আরো বোঝা দরকার ছিল ট্রাম্প কিভাবে মেরুকরণকে হাতিয়ার করে দলকে রক্ষা করেছেন। রক্ষণশীলদের প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা রাখার দরকার ছিল বলেই তারা ব্যালটে তাদের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে নিজেদের স্থির রেখেছে এবং তারা ব্যক্তিগত সংকটের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, গ্রিন নিউ ডিলের বিরুদ্ধে নয়।

মোট কথা, আরো ভালো একটি নির্বাচনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের আরো ভালো কিছু করার দরকার ছিল। তাদের নিজস্ব পক্ষপাতদুষ্ট দলীয় ধারণা তাদের বিশ্বাসকে টলাতে পারেনি যে রিপাবলিকানদের ব্যর্থতা তাদের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেবে। অথচ এই বিশ্বাস যথেষ্ট ছিল না। সুতরাং যতক্ষণ না মেরুকরণের জাদু ভঙ্গ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সব কিছু নিয়ে তুমুল বিতর্ক হবে; এমনকি সবচেয়ে জঘন্য ব্যর্থতাও শাস্তিহীন থেকে যাবে।

 

লেখক : নিউ ইয়র্ক টাইমসের কন্ট্রিবিউটিং ওপিনিয়ন লেখক

সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা