kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বাইডেন প্রথম দিনেই যা করতে পারেন

ম্যাক্স মোরান

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রাইমারিতে মনোনয়নদৌড় থেকে সরে যাওয়া বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারশিবিরের প্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েকটি যৌথ টাস্কফোর্স গড়ে তুলেছিল জো বাইডেনের প্রচারশিবির। প্রচারাভিযান চলাকালে গত ৮ জুলাই টাস্কফোর্সগুলোর কাজের ফলাফল ঘোষণা করে ১১০ পৃষ্ঠার একটি নীতি সুপারিশমালা প্রকাশ করা হয়। যদিও সুপারিশ করা নীতিমালা কার্যকর করতে বাইডেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হননি, তবু তার মধ্য দিয়ে বাইডেন প্রেসিডেন্সির সম্ভাব্য অবয়বটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সুপারিশগুলোতে নতুন নতুন আইনের প্রস্তাব করা হলেও তাতে এমন কিছু নীতি রয়েছে, যাতে কংগ্রেসে না গিয়ে বাইডেন প্রশাসন প্রথম দিনেই সম্পন্ন করতে পারে। আমরা এ রকম ২৭৭টি নীতি খুঁজে পেয়েছি, যা পরিষ্কারভাবে নির্বাহী শাখার দ্রুত বাস্তবায়নের এখতিয়ারাধীন, অন্তত আংশিকভাবে হলেও। এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন হলে বিদ্যমান সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন নয়, তবে দ্রুততম সময়ে ক্ষতি কমানোর একটা উল্লেখযোগ্য পথ এটি।

বস্তুত টাস্কফোর্সগুলোর সুপারিশ করা নীতিগুলোর মধ্যে ৪৮টি নীতি হচ্ছে ট্রাম্প যুগে বাতিল করে দেওয়া, যাকে আরেক অর্থে ওবামা যুগের নীতির পুনর্বহাল বলা যেতে পারে। ট্রাম্প যুগে বাতিল করে দেওয়া এই ৪৮টি নীতির মধ্যে ২৮টি অভিবাসনসংক্রান্ত। এতে বোঝাই যাচ্ছে ট্রাম্প ও মিলার অভিবাসন ইস্যুর অতিরঞ্জিত উপস্থাপন করে বিদ্বেষের মাত্রা কতটা ভয়াবহতা করে তুলেছেন।

লক্ষ করার বিষয়, স্যান্ডার্স-বাইডেন প্রতিনিধিদের এই ছয়টি যৌথ টাস্কফোর্সের প্রত্যেকেই নির্বাহী শাখার এখতিয়ারাধীন নীতিগুলো প্রস্তাব করেছিলেন। নীতিগুলোর ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে—অভিবাসন (৭৯টি নীতি), জলবায়ু পরিবর্তন (৫৬টি), অর্থনীতি (৫৫টি), শিক্ষা (৩৯টি), ফৌজদারি বিচার (৩৬টি) ও স্বাস্থ্যসেবা (২৭টি)।

প্রশাসনিক নিষ্পত্তির জন্য কিছু ক্ষেত্রে শুধু আইনি বিবেচনা প্রয়োগের কথা চিন্তা করা হয়েছে। এখন হোয়াইট কালার ক্রাইমের (বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অপরাধ) যে স্বর্ণযুগ চলছে, সেটাকে সহায়তা না করে বাইডেনের অ্যাটর্নি জেনারেল যদি বিগ অয়েলের (প্রভাবশালী মার্কিন পেট্রোলিয়াম কম্পানিগুলো) বিরুদ্ধে দূষণ আইন লঙ্ঘনের জন্য মামলা করেন, তাহলে পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে? কিংবা কর্মচারীদের মজুরি চুরি, শ্রম আইন ভঙ্গ, শ্রমিকদের অযাচিত শ্রেণিবিন্যাস অথবা তাঁদের আয়কর নিয়ে প্রতারণা করছে—এমন সব নিয়োগকর্তাকে খুঁজে বের করেন, তাহলে কী অবস্থা হবে? অথবা যদি কর্মতালিকা থেকে মারিজুয়ানাকে বাদ দেওয়া হয় এবং ফেডারেল ড্রাগ কর্তৃপক্ষকে মারিজুয়ানার মামলা না এগোতে নির্দেশ দেয়, তাহলেই বা কী হবে? যদি বিচার বিভাগ ওবামা আমলের পদ্ধতি বা চর্চা আবার চালু করে, বর্ণবাদী পুলিশ বিভাগের তদন্ত শুরু করে এবং মামলা করে, তাহলে কেমন হবে? এগুলো কিন্তু যৌথ টাস্কফোর্সের সুপারিশে রয়েছে।

যদিও বাইডেন শিবির এখনই সম্পূর্ণ ‘ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন’ ক্ষমা করতে প্রস্তুত নয়; কিন্তু তার পরও এই দলিলে সুদ এবং যাদের মাসিক আয় ২৫ হাজার ডলারের নিচে, তাদের মাসিক বিল প্রদান স্থগিতের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ী প্রতিবন্ধীদের ঋণ অব্যাহতি এবং শিকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (অতি মুনাফলোভী) যারা শোষিত হয়েছে, তাদের ঋণ ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।

এই দলিল কেন্দ্রীয় সরকারের চুক্তিতে কেনাকাটার ক্ষমতার বিষয়টিও আলোকপাত করছে। দলিলে ‘বাই ক্লিন’ (দূষণরোধী কেনাকাটা) কর্মসূচির জন্য সরকারকে উচ্চ শ্রমমানে সম্পন্ন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কেনার ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নারী, প্রবীণ ও অশ্বেতাঙ্গ মালিকানাধীন ছোট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান রয়েছে। তা ছাড়া বাইডেন যেকোনো কম্পানিকে নিষিদ্ধ করতে পারেন, যারা চাকরি আউটসোর্সিং করে অথচ শ্রমিক ইউনিয়ন ধ্বংস করছে কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করেও কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি প্রদান করে না। টাস্কফোর্স ট্রাম্প যুগের একত্রীকরণ এবং অধিগ্রহণে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং যারা শ্রমিকদের ক্ষতি করেছে, মূল্যবৃদ্ধি করেছে, জাতিগত বৈষম্য বৃদ্ধি বা প্রতিযোগিতা হ্রাস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভোক্তা কল্যাণের মান রক্ষার শিকল ভাঙার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া যায়। টাস্কফোর্স পুলিশের বল প্রয়োগের বিষয়ে সরকারি তথ্য এবং প্রতিবন্ধী আইনের আক্রমণাত্মক প্রয়োগ চেয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যুরোক্রেসিতে বৈষম্য বিলোপের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

বাইডেনের একটি ক্রান্তিকালীন দল এরই মধ্যে এজেন্সিগুলোতে আগাম বার্তা পাঠানোর কাজ শুরু করেছে এবং নিয়োগপ্রাত্যাশীরাও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে আমরা আশা করব, এই সংক্ষিপ্ত গাইড (সুপারিশমালা) বাইডেন প্রশাসনের নেতাদের জন্য সহায়ক হবে, যাতে তাঁরা মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারেন। এখন শিকড় গেড়ে বসা ট্রাম্পিয়ান দুর্নীতির বিশাল বৃক্ষ উপড়ে ফেলতে হবে। যেহেতু বিষয়গুলো অস্তিত্বের হুমকির বিষয়, তাই দেরি করার সময় নেই। বাইডেন প্রশাসনকে যতটা সম্ভব প্রস্তুত থাকতে হবে।

লেখক : ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের আরডিপি প্রকল্পের গবেষণা সহকারী

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা