kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

টিকা নিয়ে দ্বিধার কোনো কারণ নেই

গ্যাবি হিনসলিফ

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লিদিয়া গাথ্রি খুব সাহসী তা কিন্তু নয়, অক্সফোর্ডে থাকেন, দুই সন্তানের মা, তিনি একজন সাইকোথেরাপিস্ট। স্কিয়িংয়ের কথা শুনলে ভয়ে তাঁর শরীরে ঝাঁকুনি হয়। তা সত্ত্বেও এ বছরের গোড়ার দিকে তিনি একটি কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ভলান্টিয়ার হয়েছিলেন; ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশ হিসেবে কভিড-১৯-এর একটি পরীক্ষামূলক টিকা তাঁর শরীরে ঢোকানো হয়েছিল। সেটা ছিল অক্সফোর্ড, এনএইচএস এবং অ্যাস্টাজেনেকার একটা পার্টনারশিপ।

আর সব গিনিপিগের মতোই তিনি এখনো জানেন না সত্যিকারের জিনিসটিই পেয়েছেন, নাকি মেনিনজাইটিসের ভ্যাকসিন তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। টিকা দেওয়ার পর তাঁর মাথা ব্যথা হয়েছিল এবং কয়েক দিন ক্লান্ত বোধ করেছেন, তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনুশোচনা বোধ করেননি তিনি। তিনি অক্সফোর্ডের এথিকস প্যানেলকে বিশ্বাস করেন, তিনি তাঁর ডিগ্রি রিসার্চের মাধ্যমে এর মোকাবেলা করেন। জন রেডক্লিফ হাসপাতালের প্রতি ভূমিকার জন্য তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। সেই হাসপাতালে তাঁর নিজের সন্তানরা ছিল। তিনি বলেন, এনএইচএস এটা না করলে হয়তো আমরা সবাই মারা যেতাম। সত্যটা হচ্ছে, একজন প্রবেশন অফিসার হিসেবে তিনি এ ক্ষেত্রে একটা দারুণ ঝুঁকি নিয়েছেন। একটা মহামারি থামানোর জন্য ভূমিকা পালনের কাজটি তাঁর ক্ষেত্রে খুবই সহজ ছিল। কিন্তু যারা বাকি থেকে গেছে তাদের কী হবে!

এখনকার খবর হচ্ছে, মডার্না ভ্যাকসিন পরীক্ষায় ৯৪ শতাংশ সফল হয়েছে। ফাইজার গত সপ্তাহে প্রায় একই রকম ঘোষণা দিয়েছে। মনে হয় এটি মাসখানেকের মধ্যে প্রথম সুখবর। অক্সফোর্ড টিমও সপ্তাহখানেকের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে, বিশ্বব্যাপী অন্য টিকাপ্রার্থীরাও তা অনুসরণ করবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হার্ড ইমিউনের দিকে যাত্রা সবাইকে ভাবাবে, যা কিছু সামনে আসবে তাকে গ্রহণ করার বিষয়টি অ্যান্টি-ভ্যাক্সারদের মনোভাব ভাইরালের মতো অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় কাজটি কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে পাবলিক হেলথ এক্সপার্টরা জাগ্রত থাকেন। গুটিকয়েক লোক বিশ্বাস করেন, বিল গেটস তাঁদের অদৃশ্য মাইক্রো চিপসহ ইনজেক্ট করবেন। এর কারণ ভ্যাকসিনে দ্বিধাগ্রস্ত লোকজন লিদিয়া গাথ্রির চেয়ে খুব বেশি আলাদা নন। আপনি বা আমিও তেমনই।

প্রথম যে গ্রুপটি উদ্বিগ্ন হয় তাঁরা বয়স্ক লোক। তাঁরা সাধারণত এথনিক মাইনরিটি, যাঁরা হয়তো ডাক্তারের কাছে যেতে ভয় পান এবং অতীতে যাঁদের ইমিউনাজারদের কাছে পৌঁছা কঠিন মনে হয়েছে। কমিউনিটি ও ধর্মীয় নেতাদের কাছে থেকে আবার আশ্বাস পাওয়া এ ক্ষেত্রে একটা উপায় হতে পারে। যেমন—মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনে শীতকালীন ফ্লুয়ের ওষুধের জন্য ক্যাম্পেইন করে (কিছু টিকায় শূকরের চামড়া থেকে নেওয়া গেলাটিন থাকে এমন ভয় দূর করেন)। দ্বিতীয় গ্রুপটি কিছু না কিছু মাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত, পত্রিকা পাঠকারী মহিলাদের দ্বারা গঠিত।

কেউ হয়তো মোটামুটি নিশ্চিতভাবে কাউকে জানেন। সেই ব্যক্তি যখন শুনল, কভিড রোগীরা ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্টসের ঘাটতিতে রয়েছে, তখন থেকে তিনি ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্টস নেন; ডাউনিং স্ট্রিটের সব প্রেস কনফারেন্স দেখেন এবং বুড়ো লোকের কাছে হামবড়া গল্প শুনতে অপছন্দ করেন। তিনি বাজার করেন রীতি মেনে, কোনো রাসায়নিক চিবান এবং লকডাউনের আইডিয়া দিয়ে পৃথিবীকে সুস্থ করে তোলার ধারণায় আরাম বোধ করেন। তিনি সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্রিভ্রান্তিকর কথায় বিরক্ত হতে পারেন এবং তিনি মাস্ক পরেন। কিন্তু যে সাবধানতা তাঁকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে লকডাউনের সঙ্গে সংগতি রেখে চলতে শিখিয়েছে, তাই এখন তাকে উদ্বিগ্ন করেছে। যখন তিনি শোনেন মিনিস্টারের কথা, জীবন রক্ষার জন্য টিকার দ্রুত উন্নয়ন দরকার, তখন তিনি উদ্বিগ্ন হন। বোধ হয় সময় বাঁচানোর জন্য কাজটি কোনো রকমে করা হবে।

জেএল পার্টনার্সের জরিপ অনুয়ায়ী মাত্র ৭ শতাংশ লোক নিশ্চিতভাবে কভিডের টিকা নিতে চাইবে না। কিন্তু প্রায় পাঁচজনে একজন মনে করে (তাদের মধ্যে মহিলারা পুরুষের চেয়ে বেশি মাত্রায় বিশ্বাস করে) টিকাটি যথাযথ মাত্রায় পরীক্ষা করা হয়নি। এই টিকাদ্বিধান্বিতরা সহজেই তাদের বন্ধুদের ফেসবুক মারফত প্রভাবিত হয় এবং অন্যরা কী করে তা দেখতে চায় তারা।

যা হোক, যারা কভিডের মহাবিপদে আছে, তারা কিন্তু টিকা নেওয়ার ব্যাপারে দারুণ উৎসাহী। ১০ জনের ৯ জন বয়স্ক লোক টিকা নিতে ইচ্ছুক। অক্সফোর্ড একটি টিকার ওপর কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে কভিড মহামারি দেখা দেওয়ার আগেই এটি কাজে লাগানো যায়। জীবনরক্ষা করা আগে প্রয়োজন।

লেখক : গার্ডিয়ানের লেখক

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ইউকে

ভাষান্তর ও সংক্ষেপণ : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা