kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

জলবায়ু আন্দোলনে গতি সঞ্চার করবে বাইডেনের বিজয়

অনলাইন থেকে

২১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জো বাইডেনের জয় জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রেসিডেন্ট বৈশ্বিক উষ্ণতাকে একটি ‘অস্তিত্বের হুমকি’ বলে মানতে রাজি, তিনি হবেন চলমান জলবায়ু কূটনীতির নড়বড়ে কাঠামোতে ভারসাম্য আনার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছর যুক্তরাষ্ট্রের সুনামের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি ও গ্রিনহাউস গ্যাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নিঃসরণকারী রাষ্ট্র (চীনের পর) হিসেবে দেশটি এখনো অনেক প্রভাবশালী। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকবেন বলে স্কটল্যান্ডে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬-এ ইস্যুটি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে পড়া বিপর্যয়কর উষ্ণতা এড়ানোর সুযোগ বিশ্বকে গ্রহণ করতে হলে অবশ্যই ভয়াবহ নির্গমন কমিয়ে আনায় সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি ছিল তাঁর জাতীয়তাবাদী ‘আমেরিকা প্রথম’ এজেন্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জাতিসংঘ জলবায়ু কর্মপ্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক নীতি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি নাশকতা। একই সঙ্গে তাঁর এই অবস্থান বিশ্বের অন্যান্য জলবায়ু ক্ষতিসাধনকারী দেশ সৌদি আরব, ব্রাজিল, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াকেও আড়াল করে দিয়েছিল। এখন বাইডেন আসায় আড়ালটি সরে যাচ্ছে। এ সুযোগে আমাজন রেইনফরেস্টের ক্ষতিসাধান ও কয়লাবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী নীতি বন্ধ করতে অব্যাহতভাবে নতুন চাপ তৈরি করতে হবে। এটা খুবই চমকে ওঠার বিষয় যে একজন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বিদেশি নেতাদের সঙ্গে প্রতিটি ফোনকলের কেন্দ্রেই জলবায়ু ইস্যুকে স্থান দিচ্ছেন।

সামনে যা-ই ঘটুক, পথ মসৃণ হবে। বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি সবুজ উদ্দীপনা প্যাকেজ কংগ্রেসে পাস করিয়ে নেওয়া কঠিনই হওয়ার কথা, যেখানে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে জর্জিয়ায় দুটি অমীমাংসিত আসনের ওপর। রক্ষণশীল বিচারকরাও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। নির্গমন সীমিত করা এবং দূষণকারীদের শাস্তি প্রদানের আইন নিশ্চিতভাবে সুপ্রিম কোর্টে সব রকমভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। জীবাশ্ম জ্বালানি কম্পানি ও অন্যান্য কায়েমি স্বার্থগুলো বড় শক্তি হয়েই থেকে যাবে। তেমনি জনসমর্থনও পক্ষে না আসতে পারে। কারণ অনিয়ন্ত্রিত বৈশ্বিক উষ্ণতার বিপদকে স্বীকার করে বেশির ভাগ ভোটারই জলবায়ু ইস্যুতে নৈতিক অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু যখনই উষ্ণতা কমিয়ে আনতে মাংস খাওয়া কমানো কিংবা বিমানে চড়ার মতো বিষয়ে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার প্রশ্ন আসবে, তখন তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, অন্য ধনী দেশগুলোতেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

এত কিছু সত্ত্বেও হোয়াইট হাউসে বাইডেনের উপস্থিতি হবে বিশাল এক সুযোগ। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ আন্দোলন ও কর্মীরা যে সুযোগটুকু পাবে, তা আঁকড়ে ধরে রাখতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা একটি বাস্তবতা এবং কোনো অনুমান কিংবা মতাদর্শের বিষয় না। এটা শুধুই ডেমোক্র্যাটদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের উদ্বেগের বিষয় নয়, বরং রিপাবলিকানদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশেরও উদ্বেগের বিষয়। তাই বাইডেনকে শুধু তাঁর পূর্বসূরির বিপরীত কাজটি করে এবং সত্যটা বলার মধ্য দিয়েই মহামূল্যবান জনস্বার্থ সাধন করতে পারবেন।

ডেমোক্র্যাটরা দেখিয়েছে, জলবায়ু ইস্যুটি তাদের দলের ভেতরে একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি। বাইডেনের জলবায়ু টাস্কফোর্সের সভাপতি ছিলেন নিউ ইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান ও তাঁর দলের প্রগতিশীল অংশের তারকা আলেজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। এখন যদি নতুন করে পর্যাপ্ত গতি সঞ্চার করতে হয়, তাহলে ডেমোক্র্যাটদের অবশ্যই নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সবুজ সমর্থকদের আঙিনা ছাড়িয়ে আরো দূরে তাকাতে হবে; যেমনটা লেখক আরলি রাসেল হোশচাইল্ড তাঁর ‘স্ট্রেনজার ইন দেয়ার ওউন ল্যান্ড’ বইয়ে লুইজিয়ানায় টি-পার্টি সমর্থনে পরিবেশ রাজনীতি সম্পর্কে করেছিলেন। বাইডেন এরই মধ্যে এই বার্তা দিয়েছেন যে দূষণের ফলে দরিদ্র আমেরিকানদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা তার অগ্রাধিকারের মধ্যেই থাকবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সবাই চূড়ান্ত শূন্য নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত দরপতন জীবাশ্ম জ্বালানিকে ত্যাগ করার প্রক্রিয়া অনেক সহজ করে দিয়েছে। বিশেষ করে, বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণীর তুলনায় তা অনেক সহজতর হয়েছে। জলবায়ু আন্দোলনকারীরা দেখিয়েছেন, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে সমর্থন আদায়ে তাঁরা কতটা সক্রিয় হতে পারেন। এখন নির্বাচন শেষ হয়েছে এবং বাইডেন ও অন্যান্য আইনপ্রণেতার ওপর যতটা সম্ভব জোরে চাপটা অব্যাহত রাখতে হবে।

 

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা