kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

দরকার আশাবাদ ও রাজনৈতিক ইচ্ছা

রেবেকা সোলনিত

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেসব মানুষ পৃথিবীর ভাগ্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে চিন্তা করে, তাদের জন্য গত চার বছর সময়টা ছিল খানাখন্দে ভরা এক দীর্ঘ রাস্তা। তাই এখন আমরা যদি ভুল করি, তা হবে চিরদিনের জন্য ভুল। ভবিষ্যতে তা মোকাবেলা করা হবে আমাদের পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতার চেয়ে কঠিন। ১৯১৫ সালে একটি সন্দেহজনক অভিযোগে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলার আগে জো হিল নামের এক ব্যক্তি তাঁর বন্ধুকে বলেছিলেন, ‘শোক কোরো না, সংগঠিত হও।’ কিন্তু আপনি একসঙ্গে শোক ও সংগঠিত করা—উভয়ই করতে পারেন। তবে বিলাপ করার প্রয়োজন যত কম হবে, আপনি তত বেশি লোকজনকে সংগঠিত করার কাজটা করতে পারবেন।

আমরা আমেরিকানরা এখন যা করছি তা আগে কখনো এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। নভেম্বর নির্বাচনে ট্রাম্প যুগের অবসান ঘটাতে এবং ভিন্ন পথে যাত্রা শুরু করতে জাতি হিসেবে আমরা এখন এক মহাকাব্যিক যুগসন্ধিক্ষণে অবস্থান করছি। আমি একজন নিপীড়িত নারীর মতোই ওই সব মানুষের কথা ভাবি, যারা এই শাসনকালকে ঘৃণা করে। কারণ যখনই নির্যাতিতা নারী তার নিপীড়নকারীকে ছেড়ে যেতে চায়, তখনই সে সবচেয়ে বিপদে পড়ে যায়। তখন নিপীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি ওই নারীকে নিজের প্রতি অবিশ্বাসী করে তোলে এবং তার জন্য অন্য রকম এক জীবনের শঙ্কা তৈরি করে। একইভাবে বর্তমান পরিস্থিতি (ট্রাম্প শাসন) থেকে যখন আমাদের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন বিশৃঙ্খলাও বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমি ওই সব মানুষের কথাও স্মরণ করছি, যারা আমেরিকা মহাদেশের আদিবাসী ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মতোই কয়েক বছর বা দশক ধরে নয়, কয়েক শতাব্দী ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও অবিচল থেকেছে। তারা এখনো সাম্প্রতিক মাস, বছর ও দশকগুলোতে অবিচল থেকে এমন সব বিজয় অর্জন করেছে, যা কিছুকাল আগেও অসম্ভব মনে করা হতো। কারণ এই দেশে অশ্বেতাঙ্গ ও অপুরুষ শ্রেণি যে অগ্রগতি অর্জন করেছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সেই অগ্রগতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এই অগ্রগতির সামনে আরেকটা বাধা হচ্ছে নির্বাচনী রাজনীতি। কারণ এই নির্বাচনী রাজনীতি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মুক্ত প্রবাহের জন্য বড় প্রতিবন্ধক।

ট্রাম্প প্রশাসন ও অতি ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী নারীবিদ্বেষীদের ইতিহাসকে পেছনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও নানা উপায়ে ও স্থানে এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের অসাধারণ নির্বাচনগুলোর কথা মনে করে দেখুন, যা প্রগতিশীলদের সামনে নিয়ে এসেছে, যাঁদের মধ্যে অনেক বর্ণের নারী, প্রথম কোনো আদিবাসী আমেরিকান কংগ্রেসম্যান, তৃতীয় লিঙ্গ, মুসলিম নির্বাচিত নেতাও রয়েছেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। আমি বিশ্বাস করি, আগামী বছরে মহামারির কারণে অর্থনীতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব পরিষ্কার হয়ে যাবে। এর ফলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতেও আমূল পরিবর্তন আনার ইচ্ছা শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমেরিকানরা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সম্মুখীন হচ্ছি।

আশার বার্তা হচ্ছে, এবারের ভয়ংকর দাবানলের মৌসুম জলবায়ু মোকাবেলার জরুরি অবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়িয়েছে। যেমনটা হাওয়াই সিনেটর ব্রেন শ্যাত্জ সম্প্রতি টুইট করেছেন, অতীতের জলবায়ু আন্দোলনে বেশির ভাগ জুড়েই ছিল জলবায়ু, আমাদের সঙ্গে কী করছে তা নিয়ে নয়। কিন্তু বিপর্যয় এড়ানোর জন্য এরই মধ্যে আমাদের হাতে অনেক প্রযুক্তি চলে এসেছে। এখন নজিরহীন মাত্রায় এসব কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য আমাদের শুধু দরকার আমেরিকান আশাবাদ এবং রাজনৈতিক ইচ্ছা। তাহলে অতীতে যেসব মানুষ ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, যেসব মানুষ অগ্রগামিতার পথ থেকে ছিটকে পড়েছিল, তাদের জন্য এটাই হবে সর্বাধিক অর্জন।

 

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

লেখক : আমেরিকান প্রাবন্ধিক, জীবনী লেখক পরিবেশ ও অধিকারকর্মী

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা