kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ক্রীড়ানুরাগী শেখ হাসিনা

ইকরামউজ্জমান

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



ক্রীড়ানুরাগী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বছরের পর বছর ধরে খেলার আয়োজন, খেলোয়াড়, ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন; তাঁদের উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত, সহযোগিতা এবং বিভিন্নভাবে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, বাংলাদেশে গত প্রায় ৫০ বছরের ইতিহাসে আর কোনো সরকারপ্রধান এমনটি করেননি। খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদরা যাতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আরো ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত হন সেই ‘চালিকাশক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান ক্রীড়াবিশ্বে যে কজন সরকারপ্রধান ক্রীড়াপ্রেমিক হিসেবে পরিচিত তাঁদের একজন হলেন বাংলাদেশের শেখ হাসিনা। দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তাঁর নিজস্ব চিন্তা ও ‘ভিশন’ আছে। এই চত্বরের সংস্কৃতির বিষয়ে তাঁর ধারণা স্বচ্ছ। তিনি ক্রীড়াঙ্গন এবং সংশ্লিষ্ট মানুষদের বোঝেন বলেই তাঁদের ভালোবাসেন। পরম মমতার সঙ্গে বুকে টেনে নিতে পারেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে তাঁর স্বপ্ন হলো বৈষম্যহীন—সবার ক্রীড়াঙ্গন। আর তা পরিচালিত হবে ক্রীড়া সংগঠকদের দ্বারা। ক্রীড়াঙ্গন তখনই শক্তিশালী হবে, যখন সবাই ঐক্যবদ্ধ হবেন। একই লক্ষ্যে কাজ করবেন। জাতির জীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব উপলব্ধি করবেন।

আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথ ধরেই ক্রীড়াঙ্গন এগোবে। বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। ক্রীড়াঙ্গন আবেগ, আদর্শবোধ ও জাতীয় স্বাধীনতার চেতনায় বিবেচিত হবে। সুবিধাবাদীদের স্থান নেই ক্রীড়াঙ্গনে। বুঝতে হবে সংগঠকদের মধ্যে অন্তঃকলহ, অনৈক্য এবং বিভিন্ন  ধরনের বিপদ ক্রীড়াঙ্গনের মৌলিক কার্যক্রম ব্যাহত করে।

খেলাধুলার প্রতি অনুরাগ, খেলোয়াড়দের ও ক্রীড়াবিদদের প্রতি ভালোবাসা মানবতাবাদী শেখ হাসিনার রক্তে মিশে আছে। তাঁর দাদা, বাবা ও ভাইয়েরা ছিলেন মনেপ্রাণে ক্রীড়ানুরাগী, মাঠের খেলোয়াড় এবং পরীক্ষিত সফল ক্রীড়া সংগঠক। স্বাভাবিকভাবেই শেখ হাসিনা সেই অনুরাগ, ভালোবাসা, দুর্বলতা এবং মানবিক গুণাবলি পেয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ততার মধ্যেও ক্রীড়াঙ্গন তাঁকে টানে—খেলোয়াড়, ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠকদের সান্নিধ্য তিনি উপভোগ করেন। খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদদের সাফল্য দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গৌরবের সঙ্গে সব সময় উদ্যাপন করেন শেখ হাসিনা। ক্রীড়াবিদদের জন্য তাঁর সরকারি বাসভবনের দ্বার সব সময় উন্মুক্ত।

দেশে আন্তর্জাতিক খেলা চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে তিনি স্টেডিয়ামে ছুটে গেছেন। গেছেন বিদেশে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্বল্প সময়ের জন্য হলেও। ব্যস্ততার জন্য যখন মাঠে আসা সম্ভব হয় না তখন কাজের ফাঁকে ফাঁকে টিভি দেখেন, খেলার ‘আপডেট’ জেনে নেন। দেশ ও দেশের বাইরে ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের বিজয় তাঁকে সব সময় আবেগপ্রবণ, উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত করে। টিভির পর্দায় দেখেছি, মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার জন্য জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দোলাচ্ছেন। জয়ের পর তাঁর দুই চোখের কোনায় আনন্দের অশ্রু টলমল করছে। সব সময় খেলার শেষে তিনিই প্রথম দলীয় অধিনায়ক, কোচ ও অন্যদের অভিনন্দন জানান। কখনো মুঠোফোনে, কখনো সামনাসামনি। এটি শুধু দলের খেলোয়াড়দের জন্য উৎসাহ নয়, অনেক বড় সম্মান ও গৌরবের বিষয়। আবার দল দেশে বা দেশের বাইরে ভালো করতে না পারলে ভেঙে না পড়ার উপদেশ দেন। খেলোয়াড়দের সান্ত্বনা দেন। তাঁর কথা হলো, অবশ্যই আগামী দিনে ভালো করা সম্ভব, এই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান থাকতে হবে। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে গৌরবের আর কিছু হতে পারে না। জাতীয় দলের সদস্যদের উদ্দেশে বারবার বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে মানুষ দেশকে খোঁজে, দেখতে চায় জাতিচরিত্রের প্রতিফলন।’ তিনি সব সময় বলেন, ‘বাস্তবতার আলোকে বড় স্বপ্ন দেখতেই হবে। আত্মবিশ্বাস আর সামর্থ্য নিয়ে সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে হবে।’

শেখ হাসিনা ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্ব, আবেদন ও আকর্ষণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে খেলোয়াড়দের গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের পরিচিতি ও ভাবমূর্তি উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। এশিয়ান পর্যায়ে ছাড়াও দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বপর্যায়ের বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট। এই উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়েছে ক্রীড়াপিপাসু প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ধারণা, উৎসাহ এবং তাঁর সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন ধরনের সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা এবং বিশেষ আর্থিক অনুদান বরাদ্দ করার পরিপ্রেক্ষিতে। টুর্নামেন্ট যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়, এর জন্য সব সময় খোঁজখবর রেখেছেন। অনেকেই হয়তো এসব খবর জানেন না। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন থেকে বাংলাদেশের প্রায় সব সাফল্য অর্জিত হয়েছে শেখ হাসিনার সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার সময়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পরিবার তো ‘স্পোর্টস ফ্যামিলি’। সেই পরিবারের বড় মেয়ের তো খেলাপ্রীতি থাকবেই। থাকবে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি কমিটমেন্ট, দায়বদ্ধতা এবং বিশেষ দুর্বলতা। তিনি তো চাইবেন দেশজুড়ে সচল ক্রীড়াঙ্গন আর বিভিন্ন খেলায় ‘টেকসই’ মানোন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে তাঁর আস্থা তারুণ্যের শক্তি। তাদের পরিচর্যা করলেই ক্রীড়াঙ্গন পাল্টে যাবে।

গভীরতার মধ্যে ঢুকে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে ভাবেন, আর তাই গণতান্ত্রিক চর্চা, সচেতনতা, সুশাসন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, পরিকল্পনা সব সময় গুরুত্ব পায়। ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তাঁর বক্তব্যে সব সময় লক্ষ করি বুদ্ধিবৃত্তির ছোঁয়া, দূরদর্শিতা, ইতিবাচক অনুপ্রেরণা, উৎসাহ এবং সমস্যা সমাধানের সুবিবেচিত পথ বাতলে দেওয়া। শেখ হাসিনা ক্রীড়াঙ্গনেও একজন ‘ক্যারিসমেটিক লিডার’ হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে পেরেছেন। ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে তাঁর চিন্তার বিশালতা অন্য রকম।

একটি দেশের খেলাধুলার উন্নতি নির্ভর করে আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর, দেশটা যাঁরা পরিচালনা করেন তাঁদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন সৌভাগ্যশালী। কয়েক বছর ধরে একনাগাড়ে একজন সরকারপ্রধান দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, যিনি সব সময় ক্রীড়াঙ্গনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন প্রয়োজনে। একদম অযৌক্তিক না হলে ক্রীড়াঙ্গনের কোনো উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে কখনো ‘না’ বলেননি ক্রীড়ানুরাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব সময় সরকারের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ক্রীড়াই দেশের উদ্যমী তারুণ্য যুবশক্তিকে একত্র করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জাতি গঠনের পাশাপাশি বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম প্রতিষ্ঠা করতে অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

কয়েক বছর ধরে আমরা ক্রীড়াঙ্গনে লক্ষ করছি, তারুণ্যে যৌবনে শ্রেণিস্বার্থকে অতিক্রম করেছে। সমাজের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই ক্রীড়াঙ্গনে আসছে। তারা কিছু করতে চাচ্ছে। এই বিষয়টি ইতিবাচক। তারাই ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মেয়েরা ফুটবলে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন। ফুটবল মাঠের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। তাঁরা সব সময় বড় স্বপ্ন দেখছেন। একটু চিন্তা করলে বোঝা যাবে, এর পেছনে আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী পরামর্শ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সফল বাস্তবায়ন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্ববৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞ ‘বাংলাদেশ যুব গেমস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতভাগ সাহায্য-সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছেন। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন, একটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যুব গেমসের গুরুত্ব কত বেশি। তিনি বিওএকে এই গেমস অর্থবহ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জন্য ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়দের অর্জনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় আনন্দচিত্তে বড় করে দেখেন, তাঁদের শুধু প্রশংসা নয়, ধন্যবাদ জ্ঞাপন নয়, তাঁদের নগদ অর্থ, কখনো জমি এবং ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করে অনুপ্রাণিত করেছেন। এটি একটি নিয়মে পরিণত করেছেন তাঁর ও জাতির বৃহত্তর ক্রীড়া স্বার্থে। এই ভূমিকায় সব মহলের মানুষ প্রশংসা করেন। শুধু দেশকে যাঁরা মহিমান্বিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তা কিন্তু নয়, তিনি ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়, ক্রীড়াবিদ ক্রীড়া সংগঠক, এমনকি তাঁদের মা-বাবার বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান এবং অসুস্থতায় চিকিৎসা খরচের ক্ষেত্রে পাশে দাঁড়াচ্ছেন সব সময়। এই মানবিক আচরণ তাঁকে অন্যদের থেকে ব্যতিক্রমী করেছে।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

 

 

মন্তব্য