kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ব্যক্তির ঊর্ধ্বে গণমানুষের অভিভাবক

সেলিনা হোসেন

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যক্তির ঊর্ধ্বে গণমানুষের অভিভাবক

জন্মদিনের শুভেচ্ছায় অভিনন্দিত করি প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তাঁর জন্ম তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম সন্তান তিনি। তাঁর জন্ম পৈতৃক নিবাস টুঙ্গিপাড়ার শ্যামল প্রকৃতির মাঝে। টুঙ্গিপাড়ার আলো-বাতাস নিঃশ্বাসে টেনে সজীব চেতনায় প্রদীপ্ত হয়েছেন। রাজনীতি তাঁর কাছে জীবন সত্যের বিশাল যাত্রা।

গণমানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন পরিবার ও প্রকৃতির কাছ থেকে। তিনি তাঁর ‘স্মৃতির দখিন দুয়োর’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘আশ্বিনের এক সোনালি রোদ্দুর ছড়ানো দুপুরে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে আমার জন্ম। গ্রামের ছায়ায় ঘেরা, মায়ায় ভরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ এবং সরল সাধারণ জীবনের মাধুর্যের মধ্য দিয়ে আমি বড় হয়ে উঠি।’

পরের পৃষ্ঠায় আবার লিখেছেন, ‘আমার শৈশবের স্বপ্ন রঙিন দিনগুলো কেটেছে গ্রাম-বাংলার নরম পলিমাটিতে, বর্ষার কাদা-পানিতে, শীতের মিষ্টি রোদ্দুরে, ঘাসফুল আর পাতায় পাতায় শিশিরের ঘ্রাণ নিয়ে, জোনাক-জ্বলা অন্ধকারে ঝিঁঝিঁর ডাক শুনে, তাল-তমালের ঝোপে বৈচি, দিঘীর শাপলা আর শিউলি বকুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে, ধুলোমাটি মেখে, বর্ষায় ভিজে খেলা করে।’

শেখ হাসিনা ছাত্রীজীবন থেকে নিজেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে গণমানুষের প্রাণস্পন্দন অনুভব করেছেন। কত অনায়াসে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরেন দুস্থ নারীদের। ভালোবাসার ছোঁয়ায় ভরিয়ে দেন তাঁদের নিপীড়িত জীবনের বঞ্চনাকে। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ছায়া হয়ে যান।

পরিবারের নৃশংস হত্যার পরে বিদেশ থেকে ফিরে যুক্ত হয়েছেন রাজনীতিতে। সচেতন বোধ প্রদীপ্ত করেছে তাঁর চলার পথ। তিনি একজন সমাজমনস্ক, সংস্কৃতিমনস্ক প্রধানমন্ত্রী হয়ে আপন আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন স্বদেশের দিগন্তরেখা। রাষ্ট্র পরিচালনায় মেধা-মননের সংযুক্তি ও মানবিক বোধে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। তিনি এই গৌরবের স্বীকৃতি পেয়েছেন। অসংখ্য পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এবং তা দেশবাসীকে উৎসর্গ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তাঁর মতো পুরস্কার সমকালের সরকারপ্রধানরা লাভ করেননি। নিঃসন্দেহে বলা যায় দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্বের এই গৌরব গণমানুষের মানসচেতনায় আলো ছড়ায়। তিনি নেতৃত্বের জায়গা থেকে মানুষের মাঝে নিজের বোধ নিবেদন করেন অসাধারণ রূপকল্পে।

১৯৯৬ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৭ সালে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি আমাদের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনে শান্তি ও স্বস্তির বার্তা বয়ে আনে। ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবন উন্নয়নের সমান্তরালে স্থিত হোক—এটা দেশবাসীর প্রত্যাশা। সব নাগরিক একই বার্তায় জীবন যাপন করবে, এটা নাগরিক অধিকারের বড় দিক। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মানুষের মর্যাদাকে তিনি বিবেচনায় রাখেন। এই বিবেচনা থেকে দেশের উন্নয়ন তাঁর সামনে বড় দিগ্দর্শন।

তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্য ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সিদ্ধান্তে কাজের ধারা এগিয়ে রাখছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে কাজ করার চিন্তা মাথায় রেখে এগোচ্ছে। ছোট উন্নয়নশীল দেশের লক্ষ্য পূরণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ধারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বতঃস্ফূর্ত। পদ্মা সেতু নির্মাণ দূরদর্শী ও সাহসী পদক্ষেপ। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এমন আরো অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ শেখ হাসিনার বিজয়ী মনোভাবের চূড়ান্ত লক্ষ্য। করোনাকালকেও তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা মজবুত রাখায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশ ও জাতির মঙ্গলচিন্তায় তিনি এক অসাধারণ মানুষ। এই সময়ের বাংলাদেশে তিনি একজন ব্যক্তিমাত্র নন, ব্যক্তির ঊর্ধ্বে গণমানুষের আশা-জাগানিয়া অভিভাবক। নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় নেই। সকাল-দুপুর-বিকেল-রাত কেটে যায় দেশ-মানুষের মঙ্গলচিন্তায়।

তিনি দীর্ঘ জীবনের সুস্থতা নিয়ে আমাদের মাঝে সজীব থাকবেন—এই প্রত্যাশা আমাদের। বারবার বলতে চাই, উদ্যাপিত হোক শুভ জন্মদিন।

লেখক : কথাসাহিত্যিক

 

মন্তব্য