kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

আগামী দিনের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান

ড. নিয়াজ আহম্মেদ

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগামী দিনের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান

করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় না খুললে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। শুধু তা-ই নয়, আমরা এখন পর্যন্ত শতভাগ শিক্ষার্থীকে অনলাইন ক্লাসের আওতায় আনতে পারিনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরে আমাদের পক্ষে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও মোটাদাগে তাদের কর্মসংস্থানের ওপর শিক্ষার বর্তমান অবস্থা দারুণ প্রভাব বিস্তার করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে ডিগ্রি প্রদান করলেও তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে অটো প্রমোশন দিলে হয়তো ক্ষতির আশঙ্কা কম; কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রায়োগিক শিক্ষায় এমনটি করা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। এমনটি ভাবাই যায় না, যেখানে হাতে-কলমে শিখে প্রয়োগের বিষয়ে ভাবতে হয়। আমার ধারণা, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ, যা কম হতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় বর্ষে পডুয়ারা পড়াশোনা ছেড়ে দিতে পারে, বিশেষ করে মানবিকের শিক্ষার্থীরা। মেয়েদের ক্ষেত্রে অভিভাবকরা বিয়ের কথা ভাবতে পারেন, অন্য সময় হয়তো ভাবতেন না। অন্যদিকে আমরা এখন পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা নিতে পারিনি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও হতাশা কাজ করছে। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। আর যে কারণেই হোক, গত বছর যারা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনি, তাদের মধ্যে আরো বেশি হতাশা কাজ করছে। কেননা স্বাভাবিক নিয়মে এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা। করোনার বাস্তবতায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ছন্দঃপতন হয়েছে। এটিকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়ে করণীয় বিষয়ে বেশি করে ভাবতে হবে। সরকার বিজ্ঞ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি প্রায়োগিক দিকনির্দেশনা তৈরি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যবস্থা করতে পারে। আমাদের এখন শিক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এ বছর সম্ভব না হলেও আগামী বছরের শুরু থেকে খোলার ব্যবস্থা করা উচিত। এর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি দরকার। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সচেতন করে কিভাবে আমরা আগামী বছর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোদমে চালু করতে পারি, তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। প্রয়োজনে কম পরীক্ষা নিয়ে কিংবা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে তাদের মানসিক অস্থিরতা দূর করা দরকার। ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ছাড়া অন্যদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারি। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক কিংবা পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের জন্য কাজটি আরো সহজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো খোলা রয়েছে। খোলা অবস্থার ফলাফল আমাদের সহায়তা করতে পারে। পরীক্ষামূলকভাবে আমরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করে দেখতে পারি। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলো খুলতে পারি।

অন্যদিকে করোনায় কর্মসংস্থানের প্রভাব অনেক। বাংলাদেশের অর্থনীতি যে গতিতে এগিয়ে চলছিল, সেখানেও একটি ছন্দঃপতন হয়েছে। অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। বিদেশ থেকে কর্মী চলে আসছেন। চাকরি ও ব্যবসা কমে যাওয়ায় অনেকে শহর থেকে গ্রামে চলে গেছেন। শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। এমনিতেই আমাদের সরকারি চাকরির সুযোগ কম, তারপর বন্ধ থাকলে সমস্যা আরো বেড়ে যায়। অনেক চাকরির পরীক্ষা চলমান ছিল। কেউ লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন আবার অনেকে উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন। শুধু ৩৮তম বিবিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলে চাকরিপ্রত্যাশীদের এবং চাকরি হারানোদের মধ্যে কাজ করছে অস্থিরতা ও হতাশা। হতাশায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নেমে আসছে বিষণ্নতা। বিসিএস পরীক্ষার মতো বড় পরীক্ষা হয়তো নেওয়া সম্ভব নয়, তবে চলমান চাকরির পরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা দরকার। বাস্তবতার কারণেই আমাদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও ভাবা যেতে পারে।

শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে, তাদের প্রত্যাশা থাকে ভালো কর্মসংস্থানের। তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞানের প্রয়োগ দরকার। আমাদের চাকরিপ্রত্যাশীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আরো বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার। আর শিক্ষার্থীরা যাতে সেশনজটে না পড়ে তার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যবস্থা করা উচিত। আমাদের প্রত্যশা, সরকার ও সচেতন মহল কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

লেখক : অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা