kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

ভ্যাকসিন নিয়ে আশাবাদ

অনলাইন থেকে

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাস নির্মূলে সবচেয়ে বড় আশার নাম ‘ভ্যাকসিন’। একটি ভ্যাকসিন বা টিকা খুব দরকার। এ ব্যাপারে প্রতিযোগীর অভাব নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৩৪টি ভ্যাকসিন পর্যবেক্ষণে রেখেছে। তৈরি করার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে এগুলো। কতটুকু সফলতার সঙ্গে এগুলো কাজ করবে তা অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা ঘোষণা করেছে, তারা তাদের পরীক্ষা বন্ধ করতে যাচ্ছে। পরীক্ষণে একজন অংশগ্রহণকারী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভ্যাকসিন তৈরি করার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার এমন ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। ভ্যাকসিন তৈরি করার প্রক্রিয়া এমন এক প্রক্রিয়া, যাতে সব প্রয়াস সব সময় ফলপ্রদ হয় না। অনেক গবেষণা ও চেষ্টা সত্ত্বেও অনেক সময় সর্বাঙ্গসুন্দর ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। যেমন—ডেঙ্গুর যে ভ্যাকসিন পাওয়া যায় তা এখনো যথাযথ নয় (এর কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নেই এবং এটি থেকে ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে)। ১৯৮৭ সালে এইচআইভি ভ্যাকসিনের যাচাই শুরু হয় মেরিল্যান্ডে। তিন দশক পরেও এ প্রক্রিয়ায় কোনো সফলতা দেখতে পাওয়া যায়নি।

কভিড-১৯ সংক্রান্ত দুটি খবর সম্পর্কে অবহিত হওয়া গেছে। দুটি গবেষণাপত্রে সেগুলো প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো আরো উৎসাহব্যঞ্জক। প্রথম গবেষণাপত্রটি লিখেছেন ‘ডিকোড জেনেটিকস’-এর একদল বিজ্ঞানী। ডিকোড জেনেটিকস হচ্ছে আইসল্যান্ডের একটি কম্পানি। এটি প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে। তাতে বলা হয়েছে, কভিড-১৯-এ আক্রান্ত এক হাজার ২০০ আইসল্যান্ডার সুস্থ হয়েছে এবং তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ৯০ শতাংশের বেশি ব্যক্তির শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, দুইবারের পরীক্ষায়ই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। একবার পরীক্ষা করা হয়েছে সুস্থ হওয়ার পরই, দ্বিতীয় পরীক্ষাটি করা হয়েছে চার মাস পর। যেসব মানুষ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছিল অর্থাৎ যাদের হাসপাতালে নিতে হয়েছিল তাদের শরীরে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

দুটি কারণে চার মাসের ‘জীবনব্যাপ্তি’ সুখকর, আনন্দদায়ক। অ্যান্টিবডিগুলো ইমিউনিটি তথা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। সে সম্ভাবনাই প্রবল। তার মানে হলো, ভ্যাকসিন উৎপাদনের সময় মনে রাখতে হবে ভ্যাকসিন যাতে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে, সেটা নিশ্চিত হতে হবে। তা সহজেই নিশ্চিত করা সম্ভব। দেশব্যাপী অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং প্রগ্রামের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা যায়। এই স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত করা যায়। স্ক্রিনিং যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

দ্বিতীয় গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের (এমআরসি) ইমিউনোলজিস্ট তাও দংয়ের নেতৃত্বে গবেষকরা টি-সেলের সন্ধানে নেমেছিলেন। অ্যান্টিবডির চেয়ে এগুলো পাওয়া সহজ। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে এগুলো প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (টি-সেলের গুরুত্ব এইচআইভির ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে লক্ষ করা গেছে; এগুলো এইচআইভি ভাইরাসকে শনাক্ত করে মেরে ফেলে)।

এ গবেষণাপত্র নেচার ইমিউনোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, গবেষকদল ২৮ জন মৃদু আক্রান্ত এবং ১৮ জন গুরুতর আক্রান্ত রোগীর রক্তের তুলনামূলক বিচার করেছেন। তাদের রক্তের সঙ্গে ১৬ জন সুস্থ-সবল ব্যক্তির রক্তের তুলনা করেও দেখা হয়েছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, অসুস্থ মানুষের মধ্যে খুবই ভালো টি-সেল রেসপন্স লক্ষ করা গেছে। মৃদু আক্রান্ত এবং গুরুতর আক্রান্তদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন রেসপন্স দেখা গেছে। মৃদু আক্রান্তদের মধ্যে অধিক হারে সিডি৮+ সেল (কোষ) পাওয়া গেছে। এগুলো আক্রান্ত কোষগুলোকে সরাসরি মেরে ফেলে। এদের কাজ সিডি৪+ সেলের চেয়ে আলাদা। এগুলো সাধারণত ইমিউন রেসপন্সকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমআরসির গবেষণায় দেখা গেছে, টি-সেল করোনাভাইরাসের আটটি আলাদা অংশ শনাক্ত করতে পারে। স্পাইক প্রোটিনকেও শনাক্ত করতে পারে। স্পাইকগুলো মানবকোষে করোনাভাইরাসের অনুপ্রবেশে সহায়তা করে। এসব আবিষ্কার ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন পরিশুদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ইমিউনোলজিস্ট ও বায়োকেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আল-এডওয়ার্ডস এ ব্যাপারে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি অবশ্য দুটি গবেষণার কোনোটিতেই জড়িত নন। তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস ডিজিজের (কভিড) ক্ষেত্রে ইমিউন রেসপন্স প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবে বলে মনে হচ্ছে। যদি তা অব্যাহত থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি ইমিউনিটির জন্য উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন কাজ করবে বলেই মনে হয়, অন্তত তাত্ত্বিকভাবে।

এখনই ভ্যাকসিনবিষয়ক কোনো উদ্যাপন আগাম বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ড. এডওয়ার্ডস সতর্ক করে বলেছেন, ইমিউনোলজি কখনো প্রেডিকটিভ সায়েন্স ছিল না। এমন কোনো পরীক্ষা নেই যাতে দেখানো সম্ভব, বাস্তব জগতে প্রয়োগের আগে কোনো ভ্যাকসিন নিশ্চিতভাবে কাজ করবে।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা