kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

ভারত একটি নির্ভরযোগ্য দেশ

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

১৫ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারত একটি নির্ভরযোগ্য দেশ

মহামারির সময়ে ভারত শুধু দেশের চাহিদা পূরণ করেনি, বৈশ্বিক কল্যাণের জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। ভারতেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তবে আমাদের কার্যকর প্রতিক্রিয়ার কারণে সুস্থতার হারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, যা এখন ৬৮.৭৮ শতাংশ। মৃত্যুর হার ২.০১ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

উচ্চহারে সুস্থতা এবং নিম্ন মৃত্যুহারের কারণ মহামারির প্রাদুর্ভাবের প্রারম্ভিক পর্যায়ে থেকে সংক্রমণ মোকাবেলায় গৃহীত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাগুলো। ভারতে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার ১৩ দিন আগে থেকে আমরা কভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু করেছি। প্রাদুর্ভাবের ৫৫তম দিনে আমরা পুরো লকডাউন বাস্তবায়ন করেছি, যখন আমাদের রোগী ছিল শুধু ৬০০ জন। আমাদের জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অবকাঠামো বৃদ্ধিতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেমন উল্লেখ করেছেন, ভারতে এখন ১১ হাজারেরও বেশি কভিড-১৯ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং ১ দশমিক ১ মিলিয়ন আইসোলেশন শয্যা রয়েছে। আমরা এক দিনে পাঁচ লাখের বেশি টেস্ট করেছি, যা ১০ লাখে উন্নীত করা হবে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া শুধু আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনীয়তা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আমরা বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি অনুযায়ী নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে জড়িত রয়েছি। আমরা মহামারি মোকাবেলায় মালদ্বীপ, মরিশাস, কোমোরোস ও কুয়েতকে সহায়তা করার জন্য চিকিৎসকদল পাঠিয়ে এই অঞ্চলে মানবিক সংকটে প্রথম প্রতিক্রিয়াকারী হিসেবে আমাদের অবস্থান আবার নিশ্চিত করেছি। ভারত মালদ্বীপ, মরিশাস, মাদাগাস্কার, কোমোরোস এবং সিশেলসেও জাহাজ পাঠিয়েছে সহায়তা দিয়ে। এটি অঞ্চলের সবার জন্য সুরক্ষা এবং প্রবৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন করে।

বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের প্রত্যাবাসন এবং ভারতের বিদেশিদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের প্রতিক্রিয়ার সবচেয়ে সফল দিক ছিল। প্রথম দিকে বিদেশমন্ত্রক তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য একটি কভিড সেল এবং একটি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের সম্ভাব্য সব সহযোগিতা দেওয়ার জন্য আমাদের মিশনপ্রধানদের ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিদেশে আটকে থাকা আমাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের জন্য চালু করা বন্দে ভারত মিশনটি এখন পর্যন্ত সরকার কর্তৃক গৃহীত এ ধরনের বৃহত্তম উদ্যোগ এবং জটিল মানবিক মিশন কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। বন্দে ভারত মিশনের আওতায় এক মিলিয়নেরও বেশি ভারতীয় এখন পর্যন্ত বিমান, স্থলসীমানা ও নৌপথে ফিরে এসেছে। আমরা দূর-দূরান্ত থেকে ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি এবং ভুটান ও নেপালি নাগরিকদের বন্দে ভারত ফ্লাইটে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছি।

আমাদের কূটনৈতিক মিশনের দ্বারা প্রত্যাবর্তনকারীদের কঠোর পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে যে সংক্রমণের অনুপাত যেন অত্যন্ত কম থাকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাজ্য সরকার দ্বারা আসার পরই পরীক্ষার মাধ্যমে এই কেসগুলো শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে। মিশনটি আমাদের নাগরিকদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়নি। কাজের সুযোগের জন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে তাদের যুক্ত করতে আমরা তাদের দক্ষতা যাচাই করেছি।

মহামারির মধ্যেও আমাদের কূটনৈতিক কার্যক্রম থেমে নেই। আমরা বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করেছি ও অংশ নিয়েছি। কভিড সংকটের শুরুতেও আমাদের প্রতিবেশী সবাই প্রথমে নীতির প্রদর্শন দেখেছে, যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) নেতাদের একটি ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করেছিলেন। তিনি ভারত থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কভিড-১৯ জরুরি তহবিল গঠনসহ মহামারি মোকাবেলায় একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমরা ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবেলায় আরো ভালো বহুপক্ষীয় প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী জি-২০ এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনসহ একাধিকবার জনগণকে আমাদের প্রচেষ্টার কেন্দ্রে নিয়ে এসে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ অবকাঠামো জোটের মতো আমাদের নিজস্ব উদ্যোগ এই পদ্ধতির প্রধান উদাহরণ।

প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম ভার্চুয়াল দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনও আয়োজন করেছিলেন। এরপর ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী এ সময়ের মধ্যে ৬১টি দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৭৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা অংশীদারি জোরদার করতে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন এমন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ভার্চুয়াল যোগাযোগের চ্যানেলগুলো উন্মুক্ত রেখেছি।

আমরা পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য, বিশেষত বিশ্বের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রক্ষায় ক্রমাগত সামঞ্জস্য বিধান, অভিযোজন এবং উদ্ভাবন করে চলেছি। এই প্রক্রিয়ায় আমরা বিশ্বব্যাপী একটি গঠনমূলক এবং নির্ভরযোগ্য দেশ হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সফল হয়েছি।

লেখক : ভারতের পররাষ্ট্রসচিব

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা