kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

নতুন নিয়ম মেনে শুরু হবে ব্যবসা

গ্যাবি হিনস্লিফ

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আমরা সমুদ্রে শীতের মধ্যে শিল মাছের পাশাপাশি সাঁতার কেটেছি, জলপ্রপাতের সঙ্গে ঝাঁপিয়েছি, সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে কোনো প্রবালপ্রাচীরে বসে চিপস খেয়েছি। ঠিক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু কয়েক মাস লকডাউনে কাটানোর পর এই সময়টাকে মনোরমই বলতে হবে। গ্রীষ্মের ক্যাম্পেইন অথবা সমুদ্রসৈকতে পিকনিকের জন্য এই তো আদর্শ সময়। সরকার অবশ্য এরই মধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, মহামারির মধ্যে এবারের গ্রীষ্মে বিদেশ সফর জুয়াখেলার মতোই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তারপর যখন স্পেনে ছুটি কাটাতে যাওয়া মানুষের কথা ভাবি, তাদের পরিণতির কথা মনে পড়ে বা পর্যটনের সঙ্গে জড়িতদের কাজ হারানোর কথা মাথায় আসে, মনে হয় নিজের ঘরের মধ্যে থেকে এবারের গ্রীষ্মটা কাটিয়ে দেওয়াই ভালো। বাড়ির দরজার বাইরে যা আছে তা-ও কম সুন্দর নয়। এই মহামারির নিচে আমাদের পুরো বিশ্ব দ্রুত তলিয়ে যাচ্ছে। একসময় বিশ্বায়ন যেভাবে দ্রুত বিশ্বকে গিলে খেয়েছে, তার চেয়েও দ্রুত ছড়াচ্ছে মহামারি। প্রশ্ন হচ্ছে, এবারের গ্রীষ্মের ছুটির এই দিনগুলোতেও কি একইভাবে বিস্তার অব্যাহত রাখবে কভিড-১৯? গিলে খাবে আমাদের উৎসবগুলোকে? আমরা কি টিকে থাকতে পারব? সামাজিক মেলামেশা কি আর শুরু হবে? নাকি আমরা মহামারি-উত্তর বিশ্বেও নেহাত জীবাণুর মতোই ঘরের মধ্যে আটকে থাকব?

শহরের মধ্যে ১৫ মিনিট ঘুরে বেড়ালেই যে কারো মধ্যে এসব প্রশ্ন আসবে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাড়িতে ঘোরাফেরা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংশয় অবশ্য এসেছে শহরবাসীর কাজে যেতে না পারা, বাজার আটকে যাওয়া, শিশুদের স্কুল বন্ধ রাখা, পার্কে বেড়াতে না পারা নিয়েও। মেলবোর্নের মানুষ বছরের পর বছর ধরে এসবে অভ্যস্ত। প্যারিসে মেয়র নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়ার কথা ছিল গত মাস থেকে। একটু উল্টে-পাল্টে নিলে ডেট্রয়েট বা অটোয়ার পরিস্থিতিও প্রায় একই।

কিন্তু করোনাভাইরাসের সঙ্গে আমাদের যে নতুন জীবন শুরু হয়েছে তা এত বছর ধরে স্বতন্ত্র হয়ে গড়ে ওঠা শহরগুলোর চেনা চিত্রকে পাল্টে দিয়েছে। এসব শহরে এখনো মহাসড়ক, সাধ্যের মধ্যে বাসস্থান, সবুজ জায়গা, বাগান—সবই আছে। নেই শুধু সেই চেনা দৃশ্যপট। পরিবর্তন এসেছে শহরবাসীর মধ্যেও। মহামারির মধ্যেও কী করে অফিস থেকে বাসায় ফিরতে হয়, শিখেছে তারা। আরো শিখেছে পাশের বাড়ির প্রতিবেশীর সঙ্গে কী করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। বড় বড় সুপারমল নয়; বরং এলাকার দোকান থেকেই সেরে নিতে হয় কেনাকাটা। মহামারির ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যে এই নতুন বিষয়গুলোই অর্জন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এরই মধ্যে কভিড-১৯-পরবর্তী উত্তরণ-কৌশল নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মেয়রদের নিয়ে একটি সি৪০ গ্রুপ তৈরি করেছেন। সেখানে শহরের মধ্যেই ১৫ মিনিটের তৎপরতার কথা বলা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও নতুন স্থূলতাবিরোধী অভিযানের ডাক দিয়েছেন। সেখানে আরো হাঁটা এবং আরো বেশি সাইকেল চালানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মেয়র ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কারণ ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একই।

শহরবাসীকে বাড়ির মধ্যে বন্দি করে সংকীর্ণ জীবনযাপনে বাধ্য করার ইচ্ছা কারো নেই। করোনার আগ পর্যন্ত শহরবাসী তাদের সুবিধামতো জীবন কাটিয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। আপনি যদি ডুলউইচ বা ডিডসবুরি গ্রামে থাকেন, তাহলে আপনি এরই মধ্যে সবুজে ঘেরা পার্ক বা ফ্রিল্যান্সাররা ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে এমন ক্যাফে পেয়ে গেছেন। শহরের জন্য যে ১৫ মিনিটের কথা বলা হচ্ছে তার ব্যবস্থা শহরের বাইরে এরই মধ্যে হয়ে গেছে। জনসন এখন ধীরে ধীরে পুরনো জীবনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। কারণ চাকরিও বাঁচাতে হবে। তবে সবই হবে জীবন বাঁচিয়ে।

করোনাভাইরাসের কারণে যে অর্থনৈতিক সংকট শুরু হয়েছে তা নিয়ে সরকারের ভীত হওয়ার যৌক্তিক কারণ আছে। এখনকার জীবনযাত্রার যে ধরন তা আমরা কেউই চাই না। এই পরিস্থিতি নিম্ন আয়ের বহু মানুষের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি এমন নয় যে, শুধু কফি আর স্যান্ডউইচের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। বহু প্রতিষ্ঠানের সাটার পড়ে গেছে। লোকে অপ্রয়োজনে কেনাকাটা বন্ধ করে দিয়েছে। শিশুদের নিয়ে বেড়ানো বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হয়েছে অফিস শেষে কাছের দোকানে বসে এক কাপ চা খাওয়ার চর্চাও।

বহুমুখী কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই পরিস্থিতি অবধারিতভাবেই জনজীবনে প্রভাব ফেলবে। কিন্তু সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা যতক্ষণ থাকবে ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষে ততক্ষণ এ লড়াই থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। ব্যবসাগুলোকে সাহায্য করতে হবে।

বহু ব্যবসায়ী পথে বসে গেছে। এ কথা যেমন সত্য, তেমনই সত্য কিছু ব্যবসায় এখনো লাভজনকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভাইরাসের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত বা অন্তত একটা টিকা না পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। কাজের জায়গাগুলো আগের মতো জমে উঠবে না। মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়ার সাহস পাবে না। কভিড-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও ব্যবসা শুরু হবে নতুন নিয়ম মেনে। সেই প্রস্তুতি ও পরিকল্পনাও শুরু করতে হবে এখন থেকেই।

 

লেখক : কলামিস্ট

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা