kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বাবার কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ সংকট

মার্টিন পেঙ্গেলি

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাবার কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ সংকট

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাতিজির লেখা একটি বই নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবল আলোচনা শুরু হয়েছে। বইয়ে ট্রাম্পের অস্বাভাবিক চরিত্র এবং যাচ্ছেতাই আচরণের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়েছে তাঁর বাবাকে। ট্রাম্পের শৈশব কেটেছে ‘কাজপাগল অসামাজিক’ এক বাবাকে দেখে। ‘টু মাচ অ্যান্ড নেভার এনাফ : হাউ মাই ফ্যামিলি ক্রিয়েটেড দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ড্যানজারাস ম্যান’ নামে ম্যারি ট্রাম্পের লেখা এই বই বাজারে আসবে আগামী ১৪ জুলাই।

প্রকাশের আগেই ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের হাতে এর একটি কপি আসে। বইয়ে ম্যারি তাঁর চাচার জীবনে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ঘুষ দিয়ে পাস করে নামি কলেজে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে নারীর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার—সবই আছে। আর এসব তথ্য সরবরাহের জন্য ফুফু মারিয়ান ট্রাম্প ব্যারিকে ধন্যবাদ জানাতেও ভোলেননি ম্যারি। ট্রাম্পের এই বোন ম্যারিয়ান ফেডারেল বিচারকের পদ থেকে ২০১৯ সালে অবসরে যান।

বইটি প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কায়লেই ম্যাকএনামি বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের কোনো বক্তব্য নেই। বইটিতে সত্যের লেশমাত্র নেই।’ ম্যারি অবশ্য প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানীর দৃষ্টিকোণ থেকেই বইয়ে ট্রাম্পের চরিত্র বিশ্লেষণ করেছেন। বেড়ে উঠার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর সঙ্গে মায়ের যোগাযোগ খুব একটা ছিল না। অন্তত এক বছর পরিস্থিতি এমনই ছিল। তখন বাবাও তাঁর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারেননি; যার প্রভাব সারা জীবন ট্রাম্পের মধ্যে রয়ে যায়। তাঁর ব্যক্তিত্বের মধ্যে নার্সিজম, অন্যের প্রতি অসম্মান, বাগাড়ম্বর মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে বিষয়টি আমার দাদার নজরে আসে; যদিও এর প্রতিকারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেননি তিনি।

ট্রাম্পের মা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। ফলে ট্রাম্প ও তাঁর অন্য ভাই-বোন তাঁদের বাবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। নিউ ইয়র্কের এই জমি ব্যবসায়ী ১৯৯৯ সালে মারা যান। ম্যারি তাঁর বইয়ে ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্পকে বর্ণনা করেছেন ‘অসামাজিক ব্যক্তি হিসেবে’। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্টকে প্রায়ই ইহুদিবিদ্বেষী, বর্ণবাদী, যৌন নিপীড়ক, বিদেশিবিদ্বেষী বলে গালমন্দ করতেন। অতিরিক্ত মদ খাওয়ার কারণে ফ্রেড ট্রাম্পের প্রথম সন্তান চল্লিশে পৌঁছানোর আগেই ১৯৮১ সালে মারা যান। ম্যারি সেই ছেলেরই মেয়ে। ট্রাম্প তাঁর বড় ভাইয়ের মৃত্যুশোক দেখেই বেড়ে উঠেছেন। হয়তো এ কারণেই নির্মম আর চরম স্বার্থপর হয়ে উঠেছেন তিনি। ট্রাম্পের পড়ালেখার বিষয়ে ম্যারি লেখেন, ‘ট্রাম্পের কখনো টাকার অভাব হয়নি। স্যাট পরীক্ষায় তিনি একজনকে ভাড়া করে বসিয়ে দেন, যাঁর ভালো ফলের সুনাম ছিল।’ এই চক্রান্তে ট্রাম্পের ভাইও শামিল ছিলেন।

ট্রাম্পের জীবিত ভাই-বোনদের মধ্যে ম্যারিয়ান ছাড়াও রয়েছেন ব্যবসায়ী রবার্ট ট্রাম্প ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার এলিজাবেথ ট্রাম্প গ্রাও। এই বইয়ের বিষয়টি সামনে আসার পর রবার্ট ট্রাম্প ম্যারির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দেন। তাঁর দাবি ছিল, ২০০১ সালে সই করা এক চুক্তি অনুসারে ফ্রেড ট্রাম্প সিনিয়রের ব্যাপারে কিছু প্রকাশ করা যাবে না। প্রেসিডেন্ট একবার বলেছিলেন, তিনি মনে করেন এই চুক্তির কারণে বইটি প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। তবে মামলায় ম্যারি যুক্তি দেন, আর্থিক তথ্যসংক্রান্ত বিষয় ছিল ওই চুক্তির মূল ভিত্তি। মামলার শুনানি এখনো চলছে। তবে বইটি প্রকাশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেননি আদালত।

বইয়ে ট্রাম্পের নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। ম্যারির দাবি, ট্রাম্প ম্যাডোনা এবং আইস স্কেটার ক্যাটারিনা উইটের মতো অনেকের সঙ্গেই ডেটে যেতে চেয়েছিলেন। তবে তাঁরা ট্রাম্পকে প্রত্যাখ্যান করেন। এর পর থেকেই ট্রাম্প এসব নারী প্রসঙ্গে জঘন্য, কুিসত, মোটার মতো অসম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করেন। বলতে থাকেন, তাঁদের মতো বাজে নারী তিনি তাঁর জীবনে আর কখনো দেখেননি।

ম্যারি লেখেন, “এই বই লেখার জন্য ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার নিতে আমি তাঁর ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাই। সেখানে আমাকে সাঁতারের পোশাক পরা অবস্থায় দেখে ট্রাম্প বলেন, ‘হায় ঈশ্বর ম্যারি, তোমাকে মুটকি দেখাচ্ছে।’”

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বহু যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। অন্তত ২০ জন নারী তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ করেছেন; যদিও ট্রাম্প কখনোই এসব অভিযোগ স্বীকার করেননি।

লেখক : দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিক

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

সূত্র : তামান্না মিনহাজ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা