kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

সংকুচিত হচ্ছে পারিবারিক রেমিট্যান্স

অনলাইন থেকে

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাঁচ বছর আগে ১৬ জুনকে আন্তর্জাতিক পারিবারিক রেমিট্যান্স দিবস ঘোষণা করেছিল জাতিসংঘ। তখন থেকে অভিবাসীদের বাড়িতে পাঠানো টাকার বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালে আন্ত সীমান্ত (ক্রসবর্ডার) অর্থপ্রবাহের অন্য উপায়গুলোকে টেক্কা দিয়ে দরিদ্র দেশগুলোতে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ হাজার ৪০০ কোটি (৫৫৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। আত্মীয়দের মৌলিক চাহিদা পূরণ, ব্যবসা স্থাপনা ও স্কুল ফি প্রদানে যত খরচ হয়, তাদের এর চার গুণ সহায়তা দিয়েছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ২০ কোটি প্রবাসী। শুধু তা-ই নয়, সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী আটটি দেশের ৬০ শতাংশ রেমিট্যান্স গ্রহীতাদের পারিবারিক আয়ের জোগান দিয়ে এসেছে এই আন্ত সীমান্ত অর্থপ্রবাহ। এক-পঞ্চমাংশ পরিবারের নগদ অর্থের উৎসও এই অর্থপ্রবাহ।

গত জুনে রেমিট্যান্সের ওপর কভিড-১৯-এর প্রভাব পর্যালোচনামূলক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারি আন্ত সীমান্ত অর্থপ্রবাহের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বব্যাংক হিসাব করে দেখেছে, চলতি বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোট রেমিট্যান্স ২০ শতাংশ কমে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে নেমে গেছে, যেখানে এল সালভাদর ও নেপালে জিডিপির এক-পঞ্চমাংশই আসে রেমিট্যান্স থেকে, সেখানে তাদের রেমিট্যান্স কমেছে ৪০ থেকে ৫১ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের ওপর মহামারির এই ধাক্কার ছোট্ট একটা সান্ত্বনা অবশ্য আছে। তা হলো মহামারিটি প্রবাসী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার— উভয়কেই অর্থ লেনদেনে ডিজিটাইজেশনের সম্ভাব্য সুবিধাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে। ছোট সান্ত্বনাটি দীর্ঘ মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ।

রেমিট্যান্সের একটা প্রবণতা হলো, তা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক মন্দার জন্য স্থিতিস্থাপক একটা বিষয়, যা অন্যান্য প্রবাহের তুলনায় পরিমাণে কমে গেলেও পরে দ্রুত ফিরে আসতে পারে। বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা দিলীপ রাথা বলেন, অস্থির বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মতো নয়, অভিবাসী শ্রমিকরা ‘হার্ড বিহ্যাভিয়ার’ (সংকটকালে বিদ্যমান মুদ্রাকে বিদেশি মুদ্রা বা স্বর্ণে রূপান্তরের প্রবণতা) থেকে সাধারণত মুক্ত থাকে। ফলে তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্সে একদিকে বাড়িঘরের আর্থিক সমস্যা দূর হয়, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।

তবে এই সময়টা আলাদা। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের কর্মকর্তা পেদ্রো দি ভ্যাসকোনসেলোসের মতে, বৈশ্বিক মহামারি এখন প্রাপক ও গ্রহীতা—দুই পক্ষের ওপরই আঘাত হানছে। এর ফলে খুব দ্রুত অর্থ প্রেরণ ও গ্রহণের প্রচলিত উপায়গুলো খুব কঠিন হয়ে গেছে। করোনাভাইরাস আঘাত হানার আগে ৮০-৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই নগদ লেনদেন হতো। এখন যেসব জায়গায় লকডাউন চলছে, সেখানে টাকা পাঠাতে বা তুলতে ব্যাংকে ও পোস্ট অফিসে যাওয়াটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক মোবাইল ‘মানি এজেন্ট’ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাংক শাখার চেয়েও গ্রাহকদের অনেক গুণ বেশি সময় দিচ্ছে। কিন্তু সরকার এটাকে জরুরি সেবা ঘোষণা না করায় তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে গিয়ে নানা ঝামেলা পোহায়।

এরই মধ্যে প্রচুরসংখ্যক অভিবাসী কাজ হারিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই নির্মাণ, পর্যটন ও পরিবহন খাতে চাকরি করতেন, যেখানে কর্মযজ্ঞ স্থবির হয়ে পড়েছে কিংবা অনেক প্রতিষ্ঠান লে অফ করা হয়েছে। তেলশিল্পে মন্দার ফলে অভিবাসী শ্রমের প্রধান গন্তব্য হয়ে ওঠা উপসাগরীয় অঞ্চলের শ্রমিকরা দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। আবার তাঁদের ভিসার শর্তাবলির কারণে তাঁরা নতুন কাজও খুঁজে নিতে পারেন না। এই অঞ্চলের একসময়ের প্রভাবশালী অর্থসেবা প্রতিষ্ঠান ফিনাব্লারের দুরবস্থা পরিস্থিতি আরো খারাপ করে দিয়েছে। আর বিশ্বে ইউরোপীয় দেশগুলো বাদে সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীর পরিমাণও খুব সামান্য।

রেমিট্যান্স প্রবাহের এই পড়ে যাওয়া সম্ভবত স্থায়ী হতে পারে।

প্রতিবেদন বলছে, মহামারি ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে অনেক ইতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে। এ সংকট অনেক প্রেরককে ডিজিটাল সরবরাহকারীদের (প্রভাইডার) দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা নগর অর্থ স্থানান্তরকে সহজলভ্য করে তুলবে। 

ডিজিটাইজেশনে এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। টাকা প্রেরণের বেলায় দেখা যায়, অনেক অদক্ষ অভিবাসী, বিশেষ করে যাঁরা অবৈধ ও ইউরোপের বাইরে অবস্থান করেন, তাঁরা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অভাবে ভোগেন। অর্থ গ্রহণকারীরও সাধারণ ব্যাংকিং সুবিধা থাকতে হয়। কিন্তু ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো এসব বাধার মধ্যেই কাজ করার চেষ্টা করে।

 

দি ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা