kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

দিল্লির চিঠি

দিল্লি বনাম কলকাতা রাজনৈতিক তরজা

জয়ন্ত ঘোষাল

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



দিল্লি বনাম কলকাতা রাজনৈতিক তরজা

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের সিদ্ধান্ত, সব হাসপাতালে করোনা ইউনিট থাকবে। এই সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালেও এ ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু আমি দেখলাম, বাংলাদেশ থেকে পাওয়া খবরে যে বেসরকারি পাঁচতারা হাসপাতাল তারা কিন্তু বাংলাদেশে এই আইন এখনো পালন করতে প্রস্তুত নয় এবং তারা এ ক্ষেত্রে ঠিক কী করবে সে ব্যাপারে এখন জানাচ্ছে না। বেসরকারি হাসপাতালের কর্মচারীদের যে সংগঠন সেই সংগঠনের সম্পাদক হচ্ছেন হাসিনা সরকারের যে মন্ত্রিসভা সেই মন্ত্রিসভার সদস্য অর্থাৎ দেশের মন্ত্রী। অনেক বেসরকারি হাসপাতাল আছে, যেগুলোর মালিকানা সংসদ সদস্যদের হাতে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনা সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এগুলো কার্যকর হবে? নাকি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে এই বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে পৃথক ইউনিট চালু করবে না। এখন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া এই তথ্যের ভিত্তিতে আমার যেটা মনে হচ্ছে তা হলো, ভারতেও ঠিক যেভাবে আইন আছে, নানা রকম সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়; কিন্তু বাস্তবে সেটি অনেক সময় কার্যকর হয় না। এটা একটা দুঃখের কাহিনি এবং এখানেই বাংলাদেশ ও ভারত এবং বিশেষ করে বাংলা বাঙালির পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও যেহেতু এটা হচ্ছে, সেহেতু এই বাঙালিরা কী বাংলাদেশে, কী পশ্চিমবঙ্গে একইভাবে ভিকটিম হচ্ছে। এবং সমস্যাটা হচ্ছে সাধারণ মানুষের। নীরোদ চন্দ্র চৌধুরী তাঁর ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ বইতে লিখেছিলেন, ১৯৩৫ সালে ভারত শাসনের যে নতুন আইন প্রবর্তিত হয় তাতে হিন্দু বাঙালির মৃত্যুদণ্ড বলেও মনে করা হয়েছিল। এটা এত বড় একটা ঘটনা, যাতে পুরো ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছারখার হয়ে গিয়েছিল এবং শক্তিশালী কেন্দ্র গঠন করতে গিয়ে হিন্দু বাঙালির এটি মৃত্যুদণ্ডে পরিণত হয়। এখানে বাঙালি বলতে বঙ্কিমচন্দ্রর স্টাইলে নীরোদ চন্দ্র চৌধুরী শুধু হিন্দু বুঝেছেন। সে কারণে তিনি শুধু হিন্দু বাঙালির কথা লিখেছেন। কিন্তু আজ আমি এটুকু বলতে পারি যে বাংলার যে মুসলমান, বৌদ্ধ, হিন্দু সব সম্প্রদায়কে নিয়ে যে আমবাঙালি, সেই আমবাঙালি কিন্তু ভিকটিম হয়েছে ১৯৩৫ সালের আইনে। আজ বাংলাদেশের যে মুসলমান বাঙালি তারা দুই শ বছর ধরে ভাগ্যাহত। তারা কার্যত পঙ্গু হয়ে গেছে। এবং সেই বাঙালি আজ আত্মবিস্মৃত জাতি। বাঙালি মুসলমানের দুর্ভাগ্য যে আপন ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তারা লড়াই করেছে এবং স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। স্বাধীনতার লাল সূর্য হাতের মুঠোয় এনেছে বলে বিশ্বাস করেছিল বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু আজও যেমনটা হয় ভারতে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকেও দেখছি, সে রকমভাবে বাংলাদেশের বাঙালিকেও দেখতে পাচ্ছি, তারা আজ নানা প্রতারণার শিকার। তাই আজ আমার মনে হয়, আমি নিজে কি বাঙালি?

পৃথিবীটা নাকি বহুদিন আগেই এক ছোট্ট গ্রাম হয়ে গেছে। গ্লোবাল ভিলেজ। তবু তার মধ্যে আমি কলকাতা থেকে এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে থাকলেও তো বাঙালি। কিন্তু আমি কি অন্য সতীর্থ বাঙালির নিন্দা করি? আমি কি আমার প্রতিবেশী, বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিদের সাফল্যে ঈর্ষাকাতর? বাঙালি কাঁকড়ার গপ্পোটি মনে পড়লেও বলছি না, ওটি অতি ব্যবহারে জীর্ণ, ক্লিশে। মূল প্রশ্নটি হলো, অভ্যন্তরীণ কলহই কি বাঙালির সন্তুষ্টি?

আমরা কথায় কথায় জাত বিচার করি। বলতে ভালোবাসি, পাঞ্জাবিরা এমন, ‘হিন্দুস্তানি’ এমন, দক্ষিণীরা এ রকম, বাঙালিরা এ রকম। সমাজবিজ্ঞান বলে, ঘরোয়া আড্ডার ভাষা দিয়ে একটা জাতি বৈশিষ্ট্য নিরূপণ অবৈজ্ঞানিক। বাঙালি আবেগপ্রবণ। বাঙালি মাছ খায়, তাই বুদ্ধি বেশি। সর্দার রুটি খান গায়ে শক্তি আছে, ব্যবসায়ীর মন আছে; কিন্তু সৃজনশীল শিল্পীমন কই? এসবই হলো চটজলদি সাধারণীকরণ (সুইপিং জেনারালাইজেশন); কিন্তু এটাও ঠিক, দীর্ঘ সময় নিয়ে দেখতে দেখতে একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের বৈশিষ্ট্যকে সুনির্দিষ্ট করা যায় বটে। যেমন আমরা চীনা এবং আমেরিকান বা ব্রিটিশদের স্বভাবের ফারাক নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করি। ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য’ গ্রন্থে খোদ স্বামী বিবেকানন্দ কম করেননি বলা হয়, ব্যতিক্রম আইনের সত্যতার প্রমাণ দেয়। এই সূত্রে অমৃতা প্রীতম বা বলরাজ সাহনি শিল্পী হয়ে ওঠেন, পাঞ্জাবি হয়েও। হরকিষেণ সিংহ সুরজিৎ ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা না করে হয়ে যান কমিউনিস্ট।

এবার করোনা দুর্যোগে যখন একদিকে দিল্লি বনাম কলকাতা রাজনৈতিক তরজা চলছে, তখন দেখছি বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক থেকে রাজ্যে শত শত ট্রেন আসার বিষয়, সব কিছু নিয়েই দেখছি বাঙালি হয় তৃণমূল, নয় সিপিএম, নয় বিজেপি হয়ে এক পক্ষ অন্য এক পক্ষকে দোষারোপ করছে। আরো মজার বিষয় হলো, ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেরা একে অন্যকে সমালোচনা করছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে। করোনাই হোক বা আম্ফানের মতো ঝড়, এখানে সমস্যার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে কদর্য রাজনীতি। ঝড়ে বিদ্যুৎ নেই বাড়িতে। মমতা তো মুসলমানপাড়াগুলোতে বিদ্যুৎ দিচ্ছে, ঈদের সময় তো, তাই। আবার বিজেপি রাজ্যে ট্রেন পাঠিয়ে অমিত শাহ করোনাভাইরাস ছড়াতে চাইছে এ রাজ্যে, দিলীপ ঘোষ-মুকুল রায়রা সব জানে। এসব হলো বিজেপির ষড়যন্ত্র। সেনা আনতে দেরি হয়ে গেল কেন মমতার দুই দিন? কংগ্রেসের রাজ্য নেতা মমতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। সিপিএম নেতারা বলছেন, ঝড় হয়েছে, রাস্তায় জল জমছে কেন? রেলে আসার সময় মায়ের মৃত্যু, শিশুসন্তান জানে না মা নেই। প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যাওয়া সে ছবি নিয়েও কলকাতা উত্তাল। কংগ্রেস-সিপিএম বলছে, মানবতাবাদী প্রশ্ন এটি। রেলমন্ত্রীকে দায়িত্ব নিতে হবে। আর দিলীপ ঘোষ বলছেন এটি ছোট ঘটনা। রাজনীতি হচ্ছে।

সব দলের নেতারাই বলছেন, রাজনীতি হচ্ছে। আমি ভাবছি, প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এতটা পারস্পরিক রাজনৈতিক কলহ, এক একটা জার্সি গায়ে দিয়ে মারামারি হতে পারে। সর্বভারতীয় ঘটনা, তবু বাঙালির অভ্যন্তরীণ কলহ, কটু মন্তব্য বর্ষণ কি মানুষের বেদনা, ভাইরাসের আতঙ্ককেও ছাপিয়ে যাচ্ছে।

দেখুন, বাঙালির এই পারস্পরিক ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, কাদা ছোড়াছুড়ির একটা ইতিহাস আছে। ব্রিটিশ জমানায় কলকাতার ধনী শহুরে পৌরপিতারা ‘বসন্তক’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেছিল। এই পত্রিকাতে এক পুরপিতা অন্য পুরপিতার কেচ্ছা ছাপত। ব্রিটিশ শাসকরা তখন লন্ডন থেকে বহু পত্রিকা প্রকাশ করে ভারতীয়দের সম্পর্কে লিখতেন। ভারতীয়রা স্বাধীনভাবে নিজেদের কথা লিখবেন—এই উদ্দেশ্যেই বসন্তক প্রথম প্রকাশ পায়। পরে দেখা যায়, এই পত্রিকা বাঙালি বাঙালিরই নিন্দে করছে বেশি। দুর্ভিক্ষের সময়েও এই পত্রিকার এক পুরপিতা অন্যজন সম্পর্কে কী বলেছেন শুনবেন? বলেছেন, আমাদের বাঙালি বাবুদের মনের মতো হওয়া বড় দুষ্কর। এদের কিছুতেই আর মনের তৃপ্তি হয় না। ইংরাজেরা যা কচ্চে; এমন কস্মিনকালে কোনো রাজাই পারে না, বিশেষত, প্রজার সুখের দিকে দৃষ্টিপাত এত কার ছিল? বিদ্যালয়, ডাক্তারখানা, রাস্তাঘাট ইত্যাদি সব বিষয় কত উন্নত, কত সুবিধা হয়েছে; দেখুন পাবলিক ওয়ার্কার্স ও মিউনিসিপ্যালিটি পথঘাট, বাড়ি ইত্যাদি নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে, তা এর প্রতি কারো লক্ষ নেই। নাম প্রকাশ না করে বসন্তক নামে কথোপকথনের ভঙ্গিতে আরো তীব্র সমালোচনা হয়েছে।

হ্যারিসন সাহেব মেয়র, জীবদ্দশাতেই তাঁর নামে হ্যারিসন রোড হয়। স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করা হয়। এমন বলা হয়, সাহেবকে খুশি করে পুর রাজনীতিতে অংশ নিয়ে তিনি নিজেদের বিষয়-সম্পত্তির ওপর ধার্য ট্যাক্স কমান। বাড়ির পাশেই কলের জল, গ্যাসের আলো আর ঘোড়ার আস্তাবলের ব্যবস্থা করেছেন। পরে জানা যায়, এসব অভিযোগ ছিল অসত্য। সুরেন ব্যানার্জির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠায় তার ফায়দা নিচ্ছিল ব্রিটিশ রাজশক্তিই। বাঙালির এই কলহ তাই ঐতিহাসিক। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস যখন মেয়র ছিলেন তখন বিধান রায়কে ভোটের প্রার্থী করা নিয়েও বাঙালির অন্তঃকলহ আজ লিখিত ইতিহাস। অপ্রিয় সত্য।

আমি নিজে তো আজ করোনাভাইরাস নিয়েই চিন্তিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই-আগস্ট মাসে এই ভাইরাস সংক্রমণ এক চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছবে। পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলায় আসতেও দিতে হবে, আবার যেভাবে তারা মুম্বাই বা হায়দরাবাদ বা দিল্লিতে একসঙ্গেই ভিড় করে ট্রেনে উঠছে, বাসে উঠছে, তা দেখে এটা তো বোঝা যাচ্ছে সামাজিক লকডাউন বলে কোনো পদার্থই নেই সেখানে। এই শ্রমিকরা বা বিমানে আসা সব মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকছে কি না সেসব কে দেখছে? বরং আরএসএসের মতো সংগঠনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তাদের কোনো রাজনৈতিক বিবৃতি করতেও আমি দেখিনি। আরএসএসের অধীনে আছে অনেক সামাজিক সংগঠন, তারা ট্রেনে শ্রমিকদের জন্য খাবারের প্যাকেট দিচ্ছে। ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যেও কাজ করছে। আবার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম বা ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ সুন্দরবন গিয়েও কাজ করছে। কংগ্রেস বা সিপিএম বা রাজ্য বিজেপি নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে করলেও সেভাবে কাউকেই দলের পক্ষ থেকে ত্রাণ করতে দেখা যাচ্ছে না। কেউ কেউ দিল্লির বাংলোতে সুখে দিন কাটিয়ে ভিডিও বিবৃতি দিয়ে নিজের প্রাসঙ্গিকতা রক্ষা করছেন। কেউ হাফপ্যান্ট পরে একটি গাছ কাটার ছবি তুলে নিজে খবর হয়েছেন। আবার প্রতিপক্ষ তার হাফপ্যান্ট পরা নিয়েও বসন্তক স্টাইলের নিন্দা করতে ছাড়েননি।

এই কলহপ্রিয়তা কি তবে বাঙালি বৈশিষ্ট্য? কেউ বলতে পারেন বাঙালির সজীব মস্তিষ্ক। রসবোধ ও রাজনৈতিক সত্তা তীব্র। তাই এত তু-তু ম্যাঁয়-ম্যাঁয়। কিন্তু কোঁচানো ধুতি গিলে করা পাঞ্জাবি হাতে ইলিশ—এই ছবিটি বেশ শান্তশিষ্ট বাঙালির। সেই ছবিতেও আসলে আছে এক চাপা বিদ্রুপ। কিন্তু আজ এই দুর্যোগে সেই ধুতি সামলাতেই কি বেশি ব্যস্ত বাঙালি? বাঙালির মধ্যেই কি লুকিয়ে রয়েছে সেই পরশ্রীকাতর ব্রিটিশভক্ত পানুবাবুর চরিত্রটি নির্ভীক গোরা সম্পর্কে যিনি ছিলেন ঈর্ষান্বিত?

দুঃখ হয়, এই চেঁচামেচি প্রতিদিন হয় বাংলাতে। করোনার জেরে সামনের বছর আদৌ ভোট হবে কি হবে না তা-ই বুঝতে পারছি না। কারণ ভোট করার আগে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রয়োজন হয়। সেসব এখন নির্বাচন কমিশন করবে কী করে? রুটি-রুজিই মানুষের বন্ধ, স্বাধীনতার পর এ দেশে এত বড় দুর্যোগ কখনো আসেনি। একদা বাণিজ্য বিস্তারের নামে ইংরেজ হানাদাররা ভারতে এসেছিল সমুদ্রপথে। মাদ্রাজ উপকূলে এবং এরপর গঙ্গা নদী হয়ে প্রাথমিক উপনিবেশ স্থাপন করে। ভারতের রাজধানী দিল্লি করতে তাদের অনেক সময় লেগেছিল (১৯১১)। কলকাতার মতো এক ক্ষুদ্র শহরে তাদের রাজধানী স্থাপিত হয়। আর তাতে কলকাতার শ্রীবৃদ্ধি হয়। বাংলায় নবজাগরণ হয়। ইংরেজি শিক্ষা ও আধুনিকতারও শুরু কলকাতায়। পরে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন বাংলাকে অনেক পিছিয়ে দেয়। নীরদ চৌধুরীও সে কথা বলেছেন।

রাজা রামমোহন রায়েরও সমাজে নিন্দায় কান পাতার জো ছিল না। তাঁকে বিধর্মী বলা হয়েছিল। তবু অতীতকে বিলোপ না করে আধুনিক ভারত নির্মাণে তিনি সচেষ্ট ছিলেন। আমরা বাঙালি আজও সেই প্রগতিশীলতা নয়, কলহপ্রিয় পরনিন্দা, পরচর্চায় পশ্চাত্মুখিনতায় আক্রান্ত। এই স্বার্থান্বেষী ভোটের রাজনীতি আর ক্ষমতা দখলের চেষ্টা ও পাল্টা চেষ্টায় কি বাংলার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল স্বর্ণময় হতে পারে?

এখন ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে পশ্চিমবঙ্গ আজ বিধ্বস্ত ও ত্রস্ত। সব সংকীর্ণতা ভুলে আজ আমাদের উচিত হাতে হাত মিলিয়ে রাজ্যের আর্ত মানুষের সেবা করা। বহু মানুষের মাথার চাল উড়ে গেছে, বহু মানুষ অন্নহীন, দুর্গত। করোনা আক্রমণের মধ্যে এই দুর্যোগ রাজ্যের জন্য আরো প্রতিকূল হয়ে উঠেছে।

লেখক : নয়াদিল্লিতে কালের কণ্ঠ’র

বিশেষ প্রতিনিধি

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা