kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

কভিড-১৯ এর পর কী?

নিকোলাস ক্রিস্টোফ

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন বিশ্বযুদ্ধ চলছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের জন্য খুব ভালো কিছু খবর রয়েছে। একই সঙ্গে খারাপ কিছু সংবাদও অপেক্ষা করছে। সামনে কী রয়েছে তা জানার জন্য যেসব স্থানে এই ভাইরাস প্রথম ছড়িয়েছে সেসব জায়গার কিছু সমীক্ষা দেখে নেওয়া যেতে পারে—

প্রথমত, আমাদের একটি কার্যকর সরঞ্জামের বাক্স লাগবে

ইতালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো যেসব দেশ প্রাথমিকভাবে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি তাদের জন্য এখনো আশার আলো রয়েছে। কারণ সামাজিক দূরত্ব সংক্রমণের হার কমাতে সক্ষম। এ ব্যবস্থায় খুব দ্রুত কাজ হয়। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভালো ফল পাওয়া যায়।

কভিড-১৯ সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে ইতালি ও ইরানকে। একসময় এই দেশগুলোতেও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসতে শুরু করে। তবে মৃত্যুহার কমেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে সিয়াটল এবং নিউ রোচেলে (নিউ ইয়র্কের একটি শহরতলি) এই ভাইরাস প্রথম ছড়িয়ে পড়ে। দুই জায়গাতেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে নিউ রোচেলকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। আর ওয়াশিংটন রাজ্যেও বহু কম্পানি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থা করে দেয়। এ ব্যবস্থা কাজে দিয়েছে। নিউ রোচেলে এ ভাইরাস আর ছড়ায়নি। ওয়াশিংটনেও আক্রান্তের সংখ্যা কম। ভাইরাস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হারও কমছে। যদিও সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

দ্বিতীয়ত, অতীতের ভুল আর জটিলতার জন্য এখনো হাজারো মানুষের মৃত্যু হবে

মহামারি অনেকটা তেলের ট্যাংকের মতো—ফুটো হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তেল চুইয়ে পড়তে থাকে। চীনে নিয়ন্ত্রণ আরোপের এক মাস পর থেকে পরিস্থিতি উন্নত হতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রেও এ ব্যবস্থা কাজ করতে সময় নেবে। ফলে নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন মডেল তৈরি করে একটি পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে। এর পর থেকে কমতে শুরু করবে। তবে আগস্টের গোড়ার দিকে গিয়ে দেখা যাবে, কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৯৩ হাজার আমেরিকানের মৃত্যু হয়েছে।

আরো দুঃসংবাদ : মৃত্যুহার বাড়বে। অনেকের আশঙ্কার চেয়েও এই মৃত্যুহার বেশি হবে। শুরুতে জার্মানির মৃত্যুহার ছিল দশমিক ৫ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও এর চেয়ে বেশি নয়। এখন বেড়ে তা এক শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহারের একটা বড় অংশ এড়ানো যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তবে এই ভাইরাসের ব্যাপারে সিউল ব্যবস্থা নেয় ত্বরিত। ফলে দেশটিতে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা কম।

তৃতীয়ত, সামাজিক দূরত্ব না মানলেই মৃত্যুহারের লেখচিত্রের গতি ঊর্ধ্বমুখী হবে

এটাই সবচেয়ে খারাপ খবর। অনেকেই ভাবছেন, আর দু-এক মাসের মধ্যেই আমরা এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে যেতে পারব। তবে এ ভাইরাস এত সহজে হার মানবে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এত দিন পর্যন্ত আমরা যে ঢেউ দেখেছি তা হয়তো ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস হয়ে আবার ফিরবে। ২০২১ সালের কোনো একসময় টিকা আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত এর ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই।

জাপান গোড়ার দিকে এই ভাইরাস সামাল দিয়ে ফেলেছিল। এখন সেখানে সংক্রমণ আবার বাড়ছে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া লড়ে চলেছে বিদেশ থেকে দেশে ফেরা লোকজনের মাধ্যমে সংক্রমণ ঠেকাতে। অর্থনীতিকে গতিশীল এবং ভ্রমণ আবার শুরু হলে এ পরিস্থিতি ঠেকানো কঠিন।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডাক্তার মার্ক পোজনানস্কি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব মানুষ আক্রান্ত হয়নি, তারা আর হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধান তুলে নিলেই তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্যি। ডাক্তার মারা বলেন, ‘আমরা প্রথম ঢেউটি দেখছি মাত্র। আগামী জুনেও ৯৫ শতাংশ আমেরিকান ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।’ মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোগ বিস্তার বিভাগের বিশেষজ্ঞ মাইকেল ওসটেরোম বলেন, ‘এই ভাইরাস পুরো বিশ্বে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এক দেশ যদি এই আগুন নিভিয়েও ফেলে, অন্য দেশ থেকে আগুনের ফুলকি ছুটে আসবে। নতুন করে আগুন ধরাবে। আমার মনে হয়, এই সংক্রমণ আরো কিছুকাল অব্যাহত থাকবে।’

 

লেখক : কলামিস্ট

সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা