kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

শিশুদের ওপর করোনার প্রভাব

জনাথন বেল

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশুদের ওপর করোনার প্রভাব

শুরুতে বলা হচ্ছিল প্রবীণরা ঝুঁকিতে। সত্তরোর্ধ্ব বা অন্য কোনো কারণে পুষ্টিহীনতায় ভোগা, দুর্বল মানুষ করোনাভাইরাসের সহজ শিকার। সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টির কথা বলা হচ্ছে বারবার। কিন্তু এখন আমরা দেখতে শুরু করেছি, তরুণ জনগোষ্ঠীকেও এই ভাইরাস কিভাবে গুরুতর অসুস্থ করে তুলতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, তরুণ ও শিশুদের মধ্যে এ রোগ হয়তো ফ্লুর চেয়ে বেশি লক্ষণ নিয়ে প্রকাশিত হবে না। তবে নিশ্চিতভাবেই এ রোগের বাহক হিসেবে কাজ করবে তারা।

ইউরোপের অন্য দেশের তুলনায় ব্রিটেনে কিছুটা দেরিতে স্কুলগুলো বন্ধ হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হওয়ার পর তারা স্কুল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। চীনে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিশুদের করোনাভাইরাস ধরা পড়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এ রোগ ছড়ানোর ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা অত্যন্ত সীমিত।

তবে চীনে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার একেবারে শুরুর দিকে করা এসব সমীক্ষা মূলত হাসপাতালে ভর্তির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বেশির ভাগই প্রাপ্তবয়স্ক। তার মানে কি এই দাঁড়াচ্ছে যে শিশু ও তরুণ বয়সীরা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিমুক্ত? অথবা তাদের মধ্যে এ ভাইরাসের খুবই ক্ষীণ লক্ষণ দেখা দেবে?

আমার বহু সহকর্মীর মতোই আমিও শিশুদের আক্রান্ত না হওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। শ্বাসতন্ত্র দিয়ে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রাপ্তবয়স্কদের শারীরতন্ত্রের কারণে নয়। যদি শিশুরা এ ভাইরাসে ক্ষীণ লক্ষণে আক্রান্ত হয়, তাহলে তাদের মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বড় একটি জনগোষ্ঠী। তবে যখন বোঝা সম্ভব হয় না যে আপনি সাধারণ ঠাণ্ডায় আক্রান্ত না করোনাভাইরাসে, তা খুব সহজেই বোঝা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে রোগ শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে যায়।

সাধারণ অর্থে শিশুরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও তারা খুব সহজেই এর বাহক হতে পারে। সম্প্রদায়ের মধ্যে সংক্রমণের চেইন হিসেবে কাজ করতে পারে তারা। কিন্তু তার পরও একটি প্রশ্ন রয়েই যায়, শিশুরা যদি এ ভাইরাস ছড়ানোর কারণ হয়, তাহলে এর পেছনের যুক্তিগুলো কী, তা আমরা এখনো জানি না। 

এ ব্যাপারে সবচেয়ে বড় গবেষণাটি হয়েছে চীনে। সেখানে দুই হাজার আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন আক্রান্তের ওপর জরিপ করা হয়। এ শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি ছিল সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশিতে আক্রান্ত। খুব গুরুতর পরিস্থিতি, যেখানে শরীর অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না বা তার মাত্রা কম হয়ে যায়, তেমন পাওয়া গেছে মাত্র ৫ শতাংশের মধ্যে। এর মধ্যে যারা খুব ছোট (এক বছর বা আরো কম বয়স) তাদের মধ্যে ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে। তবে এ বিশ্লেষণে প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, এ সমীক্ষায় অংশ নেওয়ায় শিশুদের বেশির ভাগকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা নিশ্চিতভাবে করোনায় আক্রান্ত নয়।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এ কথা বলা যায়, স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় শিশুরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। স্কুল চালু থাকার অর্থই হলো শিশুরা খুব ঘনিষ্ঠভাবে বহু মানুষের সঙ্গে মিশবে। বাড়ি ফেরার সময় বইয়ের ব্যাগের সঙ্গে ভাইরাসও বয়ে নিয়ে যাবে।

শিশু ও তরুণরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় না ধরে নিয়ে ব্রিটিশ সরকার সম্ভবত করোনাভাইরাসকে বেশ হালকাভাবে নিয়েছে। তবে হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য মতে, এ ভাইরাস তরুণদেরও গুরুতর অসুস্থ করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর ৩৮ শতাংশই ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী। ১৯ বছরের কম বয়সী ১ শতাংশ শিশু এ হাসপাতালে ভর্তি হয়। ৫০৮ জন রোগীর মধ্যে ১২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তাদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৬৫ বছরের কম।

এই মহামারিতে শুধু প্রবীণরাই আক্রান্ত হবে এমন ভাবনার অর্থ, পরিস্থিতিকে অতি সরলী করা। তরুণ ও শিশুদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে তারা। এবং এই বাহকদের শনাক্ত করাই সবচেয়ে কঠিন।

 

লেখক : ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামে অণু ভাইরোলজিবিষয়ক অধ্যাপক

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা