kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

স্বাধীনতা দিবস : প্রহর গণনা শুরু পয়লা মার্চ

আহমদ রফিক

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



স্বাধীনতা দিবস : প্রহর গণনা শুরু পয়লা মার্চ

২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস। এর প্রহর গণনা প্রকৃতপক্ষে শুরু পয়লা মার্চ (১৯৭১) থেকে। সেদিনের দৃশ্যচিত্র যাঁরা স্বচক্ষে দেখেছেন, আবেগের প্রকাশ দেখেছেন, তাঁদের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অবাক হওয়ার কথা নয়, তবু এর ব্যাপকতা, তীব্রতা, অবিশ্বাস্য আবেগ বিস্মিত হওয়ার মতোই। এ সম্পর্কে কিছু লেখার আগে পরিস্থিতির পূর্ব চিত্র বা প্রেক্ষাপট একবার দেখে নেওয়া দরকার।

বেশি দূর অতীতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বছর কয় আগের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতির দিকে তাকালেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে। একুশের ভাষা আন্দোলন পেরিয়ে ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে এর শেষ দিকে পৌঁছালেই দেখা যাবে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের আর্থ-সামাজিক বৈষম্য বাঙালি শিক্ষিত শ্রেণিকে কতটা সচেতন, কতটা ক্ষুব্ধ এবং সেই সুবাদে বাঙালি জাতীয়তাবাদে, ভাষিক জাতীয়তাবাদে কতটা উদ্বুদ্ধ করেছিল? কতটা আবেগদীপ্ত করেছিল!

এর মূল বক্তব্যটি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি। শুরুটা পূর্বোক্ত একুশের আন্দোলন প্রভাবে যুক্তফ্রন্টের একুশ দফার অন্যতম দাবি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন (১৯৫৩) দ্রুত ষাটের দশককে প্রথমে স্বশাসনের দশক এবং পরে বাঙালিয়ানার দশকে পরিণত করেছিল। জাতীয়তাবাদী চেতনার পাশাপাশি প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক চেতনার প্রকাশও কোনো অংশে কম ছিল না। কিন্তু জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক (মূলত রাজনৈতিক) ভুবনে এমনই জাদুকরী আকর্ষণ ও পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল যে ক্রমে নিম্নবর্গীয়রাও তাদের শ্রেণিস্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে ওই জাতীয়তাবাদী চেতনার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যেতে থাকে। ব্যতিক্রম সামান্য কয়েকটি রাজনৈতিক দল, যারা যথেষ্ট শক্তিমান ছিল না জনসমর্থন বিচারে।

এমন এক পরিস্থিতির প্রকাশ স্বায়ত্তশাসনমূলক ৬ দফার প্রচারে, জাতীয়তাবাদী চেতনার বিস্তারে। সমর্থক ছাত্রদের ১১ দফা, এমনকি ভাসানীর ১৪ দফা, যদিও শেষ দুটোতে শ্রেণিগত বিচারে জনস্বার্থের দাবি যথেষ্ট মাত্রায় স্পষ্টভাষ্যে প্রকট ছিল। কিন্তু জাতীয়তাবাদী চেতনার আবেগদীপ্ত স্বশাসনের দাবি, ৬ দফা অন্য সব দাবি ভাসিয়ে নিয়েছিল।

প্রচারের গুণে, পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় দুঃশাসনের কারণে, দৃশ্যমান পূর্ব-পশ্চিম বৈষম্যের কারণে জাতীয়তাবাদী চেতনার আবেগ সর্বোচ্চ শিখরে উঠে যায়, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণি তো বটেই, নিম্নবর্গীয়রা সে জাদুকরী টানে প্রভাবিত হয় ব্যাপকভাবে, উদাহরণ অনেক।

স্বভাবতই এর সুফলভোগী বৃহত্ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। বামপন্থী দলগুলোর জনস্বার্থের দাবি উপেক্ষিত জনস্তরেও। আইয়ুবি দুঃশাসন, প্রভুত্ববাদী শাসন জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রসারের বড় একটি কারণ। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা, বলা যায় প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের অপরিণামদর্শী পরিকল্পনার আত্মঘাতী ফল—আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, যা গণজাগরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

এ ঘটনাটিকে ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পক্ষে, জাগরণের পক্ষে একটি মাইলফলক বললেও অত্যুক্তি হয় না। জনগণ এতে আইয়ুবি ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা দেখতে পেয়েছিল। লক্ষ করার বিষয় যে এ মামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আন্দোলনে ভাসানীর সমর্থন এবং পরিশেষে ১৪৪ ধারা ও কারফিউর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মিছিলে ভাসানীর নেতৃত্ব ভূমিকা গ্রহণ। ‘জ্বালাও-পোড়াও’ হয়ে উঠে জনতার স্লোগান।

এ আন্দোলন আইয়ুবশাহির পতন ঘটায়, আগরতলা মামলা খারিজ, অভিযুক্ত সবাই মুক্ত, এক নম্বর অভিযুক্ত শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র আন্দোলনের জেরে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত, জননন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃত। স্বভাবতই তাঁর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এক নম্বর অবস্থানে পৌঁছে যায়।

ফলে ষড়যন্ত্র মামলার বন্দিমুক্তি আন্দোলনের নেতা ভাসানী পিছিয়ে পড়েন, তেমনি তাঁর বিভাজিত দল; বিভাজিত বামপন্থীরা আন্তর্জাতিক মার্ক্সবাদী রাজনীতির কল্যাণে। রাজনৈতিক আন্দোলনে, বিশেষ করে উনসত্তরে অনেক আত্মত্যাগের পরও বিভাজিত বামপন্থীরা রাজনৈতিক বিচারে দুর্বল হয়ে পড়ে। সংহত, শক্তিমান একটি দলে পরিণত হতে পারেনি তারা। বিচক্ষণ ভাসানী বিরাজমান পরিস্থিতির সঠিক পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করতে পেরেছিলেন বলেই ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসনামলে (১৯৭০) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি, অংশ নেয় অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের ন্যাপ এবং যথারীতি পরাজিত। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তথা বাঙালি জাতীয়তাবাদের একচেটিয়া বিজয়।

ঘটনাটি অতীত মুসলিম লীগ রাজনৈতিক ইতিহাসের তাত্ক্ষণিক পরিহাস। ১৯৪৬-এর নির্বাচনে জিন্নাহর সম্প্রদায়বাদী দ্বিজাতিতত্ত্বের পক্ষে বাঙালি মুসলমানের একচেটিয়া অন্ধ সমর্থন ১৯৭০-এ, দুই যুগ পরে এর বিপরীত নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া সেক্যুলার জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পক্ষে। কেন্দ্রে ও প্রদেশে (পূর্ববঙ্গে) আওয়ামী লীগের বিজয়। সংসদীয় রাজনীতির নিয়মমাফিক তাদেরই দেশ শাসন করার কথা।

দুই.

ছোট্ট এ ইতিহাসটি রাজনৈতিক তাত্পর্যে পূর্ণ বলেই স্বাধীনতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হওয়ার কারণে এর কিছুটা বিশদ উল্লেখ করতে হলো। এ বিজয়ের পরিণামে এবং ৬ দফার প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনমূলক দাবির কারণে শুরু হয় নতুন এক ষড়যন্ত্র, লক্ষ্য পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসনে পূর্ববঙ্গের (তথা আওয়ামী লীগের) প্রাধান্য নস্যাত্ করা।

তখনো ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন চলছে। এ নির্বাচনে জুলফিকার আলী ভুট্টোর ‘পাকিস্তান পিপলস পার্টির’ (পিপিপির) বিজয় পশ্চিম পাকিস্তানে, কেন্দ্রে নয়। কিন্তু তার দাবি কেন্দ্রীয় শাসনে অংশভাগ হওয়ার, যেহেতু পশ্চিম পাকিস্তানে তার দল বিজয়ী। দাবিটি ছিল নিরপেক্ষ বিচারে যুক্তিহীন ও অগণতান্ত্রিক, একান্তই স্বার্থপরতার, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী ভুট্টোর পক্ষে।

পূর্ববঙ্গকে শাসনক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার যে গভীর ষড়যন্ত্র, বলা চলে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, প্রকৃতপক্ষে এর মূল নায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো, যদিও শাসনযন্ত্রের ক্ষমতার বিচারে সে দায়টা পড়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ওপর। কারণ তিনিই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।

আসলে পরিকল্পনাটি এসেছিল চতুর আইনজীবী ভুট্টোর মাথা থেকে, তার ক্ষমতা লাভের প্রত্যাশায়। সেই সঙ্গে এর প্রধান সুবিধাভোগী সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা, পরোক্ষে পশ্চিম পাকিস্তান, যদিও এ ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তান বলতে প্রধানত পাঞ্জাব ও অংশত সিন্ধুর উচ্চশ্রেণির, সাধারণ মানুষের নয়, নয় বেলুচিস্তান ও সীমান্ত প্রদেশের।

তিন.

এই ষড়যন্ত্রের জেরে পূর্ব নির্ধারিত তেসরা মার্চে (১৯৭১) ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় সংসদীয় অধিবেশন হঠাত্ করেই স্থগিত করা হয় ইয়াহিয়ার এক বেতার ঘোষণায়। এর আগে তিনিই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানকে পাকিস্তানের ভবিষ্যত্ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ ঘোষণা হয় প্রতারণা, না হয় তার নিজস্ব পদমর্যাদার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা পূর্বেকার।

অধিবেশন স্থগিত করার পরিণাম কী হতে পারে তা ভুট্টো কিংবা ইয়াহিয়া কারো জানা ছিল না। ভাবতে অবাক লাগে যে পাক-গোয়েন্দাদের এত সুনাম, সেই গোয়েন্দারা জনমত বুঝতে পারেনি কেন? ইয়াহিয়ার ঘোষণা শুকনা বারুদে আগুনের ফুলকি ছড়ায়। একদিকে বিদ্রোহী ছাত্রসমাজ, অন্যদিকে ক্ষুব্ধ জনতা—বিশেষত তরুণ-যুবসমাজ। সেদিন মতিঝিল এলাকার দৃশ্যটা এখনো সজীব। মানুষ তাদের অফিস ছেড়ে স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণায় বেরিয়ে আসছে, ছুটছে পূর্বাণী হোটেলের দিকে, যেখানে আওয়ামী সংসদীয় কমিটির বৈঠক চলছে।

মানুষ নেতার মুখ থেকে নির্দেশ চায়, করণীয় জানতে চায়। পূর্বাণীর বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতা ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী অহিংস তথা শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানান। পরদিন ২ মার্চ ঢাকায় এবং তেসরা মার্চ থেকে দেশব্যাপী হরতাল ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন। পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায়। উত্তেজিত, উত্তপ্ত সারা দেশ পয়লা মার্চ থেকেই। স্বাধীনতার প্রহর গণনা (কাউন্টডাউন) এভাবে শুরু। অবিশ্বাস্য দেশব্যাপী এই প্রতিক্রিয়া।

এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলন কি কখনো অহিংস, শান্তিপূর্ণ থাকে? নেতার নির্দেশ সত্ত্বেও আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠে। উদাহরণ ১৯৪২ সালের আগস্টে গান্ধীর ইংরেজ ভারত ছাড় আন্দোলন। ছাত্র-জনতা ইতিমধ্যে ৬ দফার আন্দোলনকে এক দফা তথা স্বাধীনতার আন্দোলনে পরিণত করে ফেলেছে। বহু ঘটনায় তা স্পষ্ট। আর এই প্রহর গণনার মধ্যে ৭ই মার্চের জনসভায়, ইয়াহিয়ার সাবধানবার্তা ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফারল্যান্ডের দূতিয়ালি সত্ত্বেও রেসকোর্সের জনসমুদ্রে দুই দিক রক্ষা করে স্বাধীনতা ঘোষণার পরিবর্তে স্বাধীনতাসংগ্রামের আহ্বান জানান জননেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’-এর বয়ানে।

পরবর্তী দিনগুলো ছিল সংঘাত ও সহিংসতার, গুলি, রক্তপাত ও মৃত্যুর। ঢাকার রাজপথে ফুটন্ত কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙের ছায়াপাত আর দেশজুড়ে জনতা বনাম সেনাবাহিনীর সংঘাতের বিচ্ছিন্ন ঘটনায় রক্তপাত ও মৃত্যু। প্রতিক্রিয়ায় ঢাকার রাজপথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিছিল আর মিছিল, তাতে জনতার ব্যাপক অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক মতভেদ প্রায় শূন্যের কোঠায়। মিছিলে দল-নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগান ৬ দফা নয়, এক দফা, অর্থাত্ স্বাধীনতা। সেই সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি।

ছাত্ররা তো এক দফায় এক পায়ে খাড়া। অন্যদিকে ভাসানী ন্যাপসহ বাম রাজনৈতিক দলগুলোরও স্বাধীনতার দাবি, প্রকাশ্যে ঘোষণায়, মিছিলে। ইতিমধ্যে ষড়যন্ত্রের নতুন অধ্যায়, হঠাত্ করে সমস্যা সমাধানের নামে ইয়াহিয়ার ঢাকায় আগমন (১৫ মার্চ) সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করতে, যাতে সমঝোতা ও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়।

এর সবটাই ছিল ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার রাজনৈতিক তত্পরতা। তাই এর আগে সমঝোতাবাদী গভর্নর আহসান ও সামরিক প্রশাসক সাহাবজাদা ইয়াকুব খানকে সরিয়ে বেলুচিস্তানের কসাই নামে কুখ্যাত টিক্কা খানের নিয়োগ। আর এই পর্বেই সংলাপের অভিনয়, উদ্দেশ্য ২৫শে মার্চের গণহত্যার পরিকল্পনাটি পাকাপোক্ত করা।

এলো সেই ভয়ংকর কালরাত্রি ২৫ মার্চের কৃষ্ণচূড়ার লাল প্রেক্ষাপটে। শেষ বিকেলে ইয়াহিয়ার গোপন পলায়ন করাচির উদ্দেশে। খবর ঠিকই পৌঁছে যায় নেতার কাছে। এবার তাঁর সিদ্ধান্ত স্বাধীনতা ঘোষণার পক্ষে, মধ্যরাতের পর তারবার্তা চট্টগ্রামের উদ্দেশে, কালুর ঘাটে প্রচার। ২৬শে মার্চের ঘোষণা আবারও প্রচারিত হয়, উদ্দীপ্ত করে দেশবাসীকে স্বাধীনতাসংগ্রামে। শেষ বেতার ঘোষণাটি ছিল জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে। প্রতিরোধ সংগ্রাম শেষে সশস্ত্র যুদ্ধে সমস্যার ফায়সালা, যুদ্ধে বিজয় ১৬ই ডিসেম্বর (১৯৭১) পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে, সেই রেসকোর্স ময়দানে।

রেসকোর্স ইতিহাস রচনা করে পয়লা মার্চের প্রহর গণনা থেকে ৭ই মার্চ হয়ে ১৬ই ডিসেম্বর (১৯৭১) পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে, সেই রেসকোর্স ময়দানে।

রেসকোর্স ইতিহাস রচনা করে পয়লা মার্চের প্রহর গণনা থেকে ৭ই মার্চ হয়ে ১৬ই ডিসেম্বরে পৌঁছে। এ ঘটনাবলি ইতিহাসে লিপিবদ্ধ, বাস্তবে রেসকোর্স নামে যথাস্থানে ফলকচিহ্নিত হওয়া উচিত। কারণ রেসকোর্সের নাম এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এ নাম পরিবর্তনের কি প্রয়োজন ছিল? বহু বিপরীত ধারার নাম এখনো সচল, যেমন—কার্জন হল আর রমনার কয়েকটি রাস্তার নাম বেইলি রোড, মিন্টো রোড ইত্যাদি।

 

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা