kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

দ্বীপবাসীর করোনা হুমকি

ওয়েন ম্যাডসেন

২৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দ্বীপবাসীর করোনা হুমকি

করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ ছোট ছোট দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দ্বীপের অধিবাসীরা স্বাভাবিক সময়ই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পায় না। সেখানে এ ধরনের একটি মহামারির মোকাবেলা করা তাদের জন্য আরো কঠিন। প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত কুক দ্বীপপুঞ্জের আইটুটাকি একটি ছোট্ট প্রবাল দ্বীপ। তবে এই দ্বীপটির সংক্রমণ প্রতিরোধী ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও সুসংহত। সম্প্রতি তারা তাদের অরুটাঙ্গা পোতাশ্রয়ে ‘এমএসসি ম্যাগসিফিকা’ নামে একটি প্রমোদতরির প্রবেশ রুখে দেয়। কারণ এই জাহাজে ইতালির বেশ কয়েকজন নাগরিক ছিলেন। জাহাজটিও ইতালির। আইটুটাকি বা এর মতো ছোট ছোট দ্বীপ, দ্বীপপুঞ্জ, প্রবাল দ্বীপে পৌঁছানোর প্রধান উপায়ই হচ্ছে সমুদ্রপথ। টুকটাক বিমানও চলে। এই দ্বীপগুলোর মহামারি সামাল দেওয়ার মতো কোনো উপায় নেই। বাস্তবতা হচ্ছে, এই দ্বীপগুলোর চিকিৎসা সেবাও খুব সীমিত পরিসরের বা প্রায় নেই বললেই চলে। এ ধরনের দ্বীপে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার অর্থই হচ্ছে, পুরো দ্বীপই প্রায় উজাড় হয়ে যাওয়া। এটা বুঝেই বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আইটুটাকি কর্তৃপক্ষ। পরে কুক দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী রারোটোঙ্গার হাসপাতালে পরীক্ষা করে দেখা যায়, এই জাহাজের অন্তত একজন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় কিছু দ্বীপ বিমানের রিফুয়েলিংয়ের ক্ষেত্রে মানুষের সংযোগ নিষিদ্ধ করেছে। কুক দ্বীপপুঞ্জের ছোট ছোট আরো কিছু প্রবাল দ্বীপ—পেনরিন, পুকাপুকা, মানিহিকি, রাকাহাঙ্গা ও নাসু কর্তৃপক্ষ পণ্যবাহী জাহাজ কওয়াইকে তাদের তীরে ভিড়তে দেয়নি। তাদের আশঙ্কা ছিল, এই জাহাজের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ ফরাসি দ্বীপ পোলিনেসিয়ায় এরই মধ্যে একই কারণে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। কুক দ্বীপপুঞ্জ, নিউ ক্যালাডোনিয়া, টঙ্গা ও সামোয় দ্বীপে প্রমোদতরির নোঙর নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইটুটাকি যখন প্রমোদতরিকে তাদের তীরে ভিড়তেই দেয়নি তখন ওই জাহাজ চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশনা থাকলে এই তরিকে যুক্তরাষ্ট্র আটকে দিতে পারত। সে ক্ষেত্রে হয়তো দেশটিতে সংক্রমণের হার কিছুটা কম হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বাদ দিয়ে ট্রাম্প বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ক্রুজ শিপ, এয়ারলাইনস ও হোটেলশিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সংহত করার বিষয়টিকে। একটি প্রমোদতরি কয়েক দিন আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় নোঙর করে। এর বেশ কয়েকজন ক্রু ও যাত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। ওই জাহাজ নোঙর করার পরই ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল দ্বীপরাষ্ট্রগুলো এই পরিস্থিতির কারণে দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—প্রথমত তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্বিতীয়ত অতি কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তাদের ভাইরাস মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হলে তাদের একাই বিষয়টি মোকাবেলা করতে হবে। কারণ বড় দেশগুলো নিজেদের পরিস্থিতিই সামাল দিতে ব্যস্ত।

দ্বীপরাষ্ট্রগুলো এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে—আগাম স্বাস্থ্য সেবা, অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ, করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশ থেকে পর্যটকদের আসা বন্ধ করা, করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে নেভিসের ফেরা নাগরিকদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছে তারা। এ ছাড়া দ্বীপরাষ্ট্রগুলো ক্যারিবিয়ান পাবলিক হেলথ এজেন্সি (সিএআরপিএইচএ), প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গত ৫ মার্চ সিএআরপিএইচএ ক্যারিবীয় দ্বীপগুলোতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের ‘উচ্চ আশঙ্কা’ রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করে। জ্যামাইকা, মার্টিনিক, সেইন্ট বার্থেলেমি, ডমিনিক প্রজাতন্ত্র, কিউবা, সেইন্ট মার্টিন এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর ক্যারিবীয় দ্বীপগুলোর স্বাস্থ্য সতর্কতা আরো বেড়ে যায়। 

ভারত মহাসগরের দ্বীপপুঞ্জগুলোও বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল রিইউনিয়নের প্রথম চারটি সংক্রমণই আসে দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকে। এদের মধ্যে একজন রোগী বাহামা দ্বীপপুঞ্জে প্রমোদতরিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এই ক্রুজ শিপে ছিলের দ্বীপের আরো ৩৪ জন। এদের সবাইকে পরে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়।

মালদ্বীপের কুরেডু দ্বীপে দুজন কভিড-১৯ আক্রান্তকে শনাক্ত করার পর পুরো দ্বীপ লকডাউন করা হয়। একই কারণে কোয়ারেন্টিনের আওতায় নেওয়া হয় ভিলামেনধো, বাতালা, থিনাধু ও কুরামাথি দ্বীপকে। তাদের প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ কাফুর ভিলিভারু দ্বীপকে করোনা রোগীদের জন্য পৃথক করে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা আর দেখা যায়নি। ভারত মহাসগরের অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ সেশেলসে আগামী মে মাস পর্যন্ত সব ধরনের পর্যটন কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাকি দ্বীপগুলো প্রায় অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করছে।

 

লেখক : অনুসন্ধানী সাংবাদিক

সূত্র : দ্য স্ট্র্যাটেজিক টাইমস

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা