kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

করোনাভাইরাস আতঙ্ক নয় চাই প্রতিরোধ

অনলাইন থেকে

১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে অচিরেই বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে—পরিস্থিতি যে পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে এমন ঘোষণা প্রায় অপরিহার্য বলেই মনে হয়। এরই মধ্যে ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে; আরো অনেক দেশে সংক্রমণের ঘটনা জানা গেছে। চীনে ৮০ হাজার লোকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা তো রয়েছেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) অবশ্য বলছে, এটি বৈশ্বিক মহামারি নয়—সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঘটার পরও। সংস্থাটি সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরও আশাবাদী। কারণ চীনে এর বিস্তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে; আর বেশি বিস্তারের আশঙ্কা কম। বেইজিংয়ের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিষয়টিও তারা বিবেচনায় নিয়েছে। অন্যরা বলছে, শুধু ঘোষণা দেওয়া বাকি, না হলে সব দিক বিবেচনায় এরই মধ্যে এ সংক্রমণ মহামারির রূপ ধারণ করেছে।

ডাব্লিউএইচওর দ্বিধার অন্যতম কারণ মানুষ কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে সে বিষয়ে তার উদ্বেগ। তাদের মতে, করোনাবিষয়ক উদ্বেগের সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত সীমিত জ্ঞান, বিদেশিদের অন্য চোখে দেখা ও সার্বিক শঙ্কাবোধ সংশ্লিষ্ট। ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. তেদ্রস আদহানোম গেব্রেইয়েসাস বলেছেন, মহামারি (প্যান্ডেমিক) কথাটির ব্যবহার এখন যথাযথ হবে না; এটি করা হলে নিশ্চিতভাবে কিছু মাত্রায় আতঙ্কের সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে উদ্বেগের যেমন বিস্তার ঘটছে, তেমনি মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাবও বাড়ছে। স্টক মার্কেটে আঘাত লেগেছে। বিমান-পরিবহন সংস্থাগুলো ভোগান্তিতে পড়েছে, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানাদি বাতিল করা হচ্ছে এবং চীনে তৈরি উপকরণের ওপর নির্ভরশীল কম্পানিগুলো উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

পরিস্থিতি আর কত খারাপ হতে পারে? ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিকে বাজে পরিস্থিতি বলা যেতে পারে। মহামারি কথাটি ‘ব্ল্যাক ডেথ বা স্প্যানিশ ফ্লু’-এ যে মহাবিপর্যয় ঘটেছিল তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে সব মহামারির মাত্রা সমান নয়। মহামারি কথাটি আসলে কী হারে একটি রোগ ছড়ায় তার কথা বলে, কতটুকু ভয়ংকর সে কথা বলে না। ১০০ বছর আগে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল স্প্যানিশ ফ্লু, তাতে প্রায় ১০ কোটি লোকের মৃত্যু হয়েছিল। এক প্রাক্কলনে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু মহামারিতে দুই লাখ তিন হাজার লোকের মৃত্যু ঘটেছিল। কিন্তু করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেক দিন ধরে মৌসুমি ফ্লুতে যত লোক মারা যাচ্ছে তার চেয়ে কম।

মহামারির অভিঘাতের মাত্রা ব্যাপকভাবে রোগের স্বভাবের ওপর, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতার ওপর এবং প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থাদি নেওয়া হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। নতুন যে করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছে, তা খুবই সংক্রামক; সম্ভবত সংক্রমণের লক্ষণহীন বাহকের মাধ্যমে ছড়ায়। ডাব্লিউএইচওর মতে, এ ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুর হার ২ শতাংশ। বাস্তবে চীনে মৃত্যুর যে হার দেখা গেছে, তা এ হারের চেয়ে অনেক কম। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সেবা চাহিদার নিচে চাপা পড়েনি এবং সেসব জায়গায় মেডিকরা আগেই সতর্কবার্তা পেয়েছে। ব্রিটেন বেশ আগেই ফ্লু-প্যান্ডেমিকের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। অন্যান্য দেশে যেখানে স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নড়বড়ে এবং মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে, সেখানে এ সংক্রমণ দেখা দিলে চড়া মূল্য দিতে হবে। তাই সবার স্বার্থে যে কাজটি করতে হবে তা হলো, ওই সব দেশের মানুষের যা যা প্রয়োজন সেসব যেন তারা পায়, এটি নিশ্চিত করতে হবে।

মহামারি ঘোষণা করা হলে আতঙ্ক ছড়ায় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অথচ অনিবার্য ঘটনার দায় স্বীকার করে দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যা দরকার তা হলো দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এর পরও কিন্তু রোগটির বিস্তার সম্পর্কে অবহিত হওয়া সম্ভব। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, লোকসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে অথবা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হলে, মেডিকদের প্রশিক্ষণের জন্য আরো বেশি সময় বরাদ্দ করা হলে, প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ করা হলে এবং অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করে রাখা হলে এবং একই সঙ্গে চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবন ও প্রতিষেধকের ব্যবস্থা (সাধারণত ভ্যাকসিন) করা হলে রোগবিস্তারের বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে। বিভিন্ন দেশে, জনস্বার্থে অগ্রাধিকারের বিষয় হওয়া উচিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে স্বাস্থ্য ঠিক রাখা ও রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরামর্শ শোনা।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ইউকে

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা