kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

তালেবানের প্রস্তাব এবং শান্তি প্রক্রিয়া

অনলাইন থেকে

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওয়াশিংটনকে আলটিমেটাম দিয়েছে তালেবান। যুক্তরাষ্ট্রের এক শান্তিদূতের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ আলোচনা করে আফগানিস্তানে সংঘাত-হ্রাসের সাত দিন মেয়াদের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল তারা। সেই প্রস্তাবের জবাব চেয়ে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। জবাব না মিললে তারা আলোচনা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে এবং নিজেদের মতেই চলবে বলে জানিয়েছে তালেবান।

তালেবান খুব অল্প সময়ের জন্য সংঘাত-হ্রাসবিষয়ক বোঝাপড়ার কথা বলেছে। কারণ যতক্ষণ না চূড়ান্ত চুক্তির অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে ঐকমত্য হচ্ছে ততক্ষণ তারা আনুষ্ঠানিক অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হতে রাজি নয়। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও কাবুল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে রণক্ষেত্রে তারা যে গতি পেয়েছে তা থমকে যেতে পারে।

ওয়াশিংটন বলেছে, তালেবান বিদ্রোহীদের সংঘাত-হ্রাসের প্রস্তাব কয়েক দিন আগে এসেছে। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি টুইটারে বলেছেন, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছ থেকে ফোনকল পেয়েছেন; পম্পেও তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা বলেছেন।

আলটিমেটামের কথাটি এসেছে তালেবানের প্রধান আলোচক মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের কাছ থেকে। গত সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসের দূত জালমায় খলিলজাদ এবং কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ বিন আবদুল রাহমান আল থানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ খবর জানিয়েছেন আলোচনার বিষয়ে অবহিত দুই তালেবান কর্মকর্তা। কারণ সরাসরি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার তাঁদের নেই।

আলটিমেটামের ব্যাপারে ওয়াশিংটন তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে। সেখানে ১৮ বছরের আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায় সেসব পক্ষ তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায়ই আলোচনায় বসেন খলিলজাদ। প্রসঙ্গত, আফগান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন যুদ্ধ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন বলেছেন, তিনি আশাবাদী, তবে সতর্ক। কিছুদিনের মধ্যে তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি হতে পারে; তবে মার্কিন সেনা-প্রত্যাহারের বিষয়টি সত্বর ঘটবে না।

সেই চুক্তির খসড়ায় তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়পক্ষের প্রতি স্বল্পকালীন সংঘর্ষ-হ্রাসের বিষয়ে সম্মত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ সম্মতির মধ্য দিয়েই তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের পথ তৈরি হবে। চুক্তি অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে সব আফগান পক্ষকে আলোচনায় বসে যুদ্ধ-পরবর্তী আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যিবষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।

চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার সঙ্গে সপ্তাহখানেক আগে দোহায় তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীনের দেওয়া তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে তালেবান যে দাবি জানিয়েছে তার সবই থাকবে বলে মনে হচ্ছে।

তালেবানের আরেকটি দাবি হচ্ছে, সর্বপক্ষীয় আফগান আলোচনায় প্রেসিডেন্ট (আশরাফ) ঘানির কোনো প্রতিনিধি সরকারি পরিচয়ে অংশ নিতে পারবে না, তাদের আসতে হবে সাধারণ আফগান নাগরিক হিসেবে। তালেবান সরকারকে স্বীকার করে না এবং তারা সরাসরি ঘানির সঙ্গে আলোচনায় রাজি নয়।

গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে ঘানির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত দশায় রয়েছে। এখনো কাউকে সরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়নি। ঘানি দাবি করেছেন, তালেবান তাঁর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করুক। অন্যদিকে তাঁর প্রতিপক্ষ ও তথাকথিত ঐক্য সরকারের অংশীদার আবদুুল্লাহ আব্দুল্লাহর অভিযোগ, আশরাফ ঘানি তাঁদের শান্তি-আলোচনায় অংশগ্রহণ করা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি সংঘর্ষ-হ্রাসের প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেছেন। তিনি চান স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। তাঁর মতে, তালেবানের প্রায় নিত্য হামলা বন্ধ না হলে কার্যকর আলোচনা সম্ভব নয়।

তালেবান তার দাবি নাকচ করে বলেছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার আগে চুক্তি সম্পাদিত হতে দেখতে চায় তারা। ওই চুক্তি বিভিন্ন মহল যেমন পারস্য উপসাগরীয় বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে গ্রাহ্য হতে হবে।

সংঘর্ষ-হ্রাসবিষয়ক বোঝাপড়া হলে তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্য সাত দিন হামলা বা অভিযান বন্ধ রাখার শর্ত সৃষ্টি হবে বলে আলোচনা-সংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করে বলেছেন। ট্রাম্প এ ধরনের সমঝোতায় সই করবেন কি না সে ব্যাপারে ও’ব্রায়েন বলেন, লক্ষণীয় অগ্রগতি ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র সতর্কভাবে আশাবাদী; সুখবর মিলবে বলেই মনে হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে সামনে এগোনোর জন্য সংঘর্ষ-হ্রাস হতে হবে এবং ফলপ্রসূ আন্ত আফগান আলোচনা হতে হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য এ অনানুষ্ঠানিক আলোচনার ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে ও’ব্রায়েন বলেছেন, চুক্তির অন্যান্য শর্তের মধ্যে তালেবান যাতে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখে সে কথাও থাকবে।

 

সূত্র : দ্য ডিপলোম্যাট ম্যাগাজিন

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা