kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

যুক্তরাজ্যের কফিনে আরেকটি পেরেক আইরিশ নির্বাচন

ফিনিয়ান কানিংহাম

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আইরিশপন্থী দল শিন ফেইন এ সপ্তাহের নির্বাচনে দুর্দান্ত ফল করেছে। এর পর থেকেই আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পুনরেকত্রীকণের বিষয়ে আবারও গণভোটের দাবি জোরালো হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রেক্সিট সম্পন্নের পর যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কফিনে আরেকটি পেরেক ঠুকে দিল এই দাবি।

ব্রিটেনের আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে বের হয়ে আসার পর স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের দাবিও জোরালো হয়েছে। স্কটিশ জাতীয়তাবাদীরা ইইউয়ে থেকে যেতে চায়। গত ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পাওয়ার পর থেকেই তারা ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের দাবি তুলতে শুরু করে।  

আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে এ সপ্তাহের নির্বাচনে শিন ফেইনের জয়ের পর সেই দাবি আরো জোরালো হয়েছে। ডাবলিনের সরকার গঠনে প্রায় ১০০ বছর ধরে প্রাধান্য বিস্তারকারী দুটি দলকে পরাজিত করে ভোটে ভালো ফল করে এই দলটি। দলের নেতা মেরি লো ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, ব্রিটেনের উচিত আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণ প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করা।  উত্তর আয়ারল্যান্ড ১৯২১ সাল থেকেই যুক্তরাজ্য নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল। ওই বছর আয়ারল্যান্ডে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হয়। তবে তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে পুরো আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা আদায় করতে পারেনি।

ওই সাবেক গেরিলা আন্দোলন আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (আইআরএ) রাজনৈতিক অংশ ছিল শিন ফেইন। এটিই অখণ্ড আয়ারল্যান্ড নিয়ে তৎপর একমাত্র দল। ব্রিটেনে গত ডিসেম্বরে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সর্ববৃহৎ দল হিসেবে আবির্ভূত হয় শিন ফেইন। গত এক শতাব্দী ধরে গণমিতিতে যে পরিবর্তন এসেছে তার কারণে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা কমেছে। বেড়েছে জাতীয়তাবাদীদের সংখ্যা। 

আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে এখন শিন ফেইনের জনপ্রিয়তাই সর্বাধিক। এই জনপ্রিয়তাকে তারা এখন ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা নিয়ে যুক্ত আয়ারল্যান্ড গঠনের কাজে লাগাতে চায়। আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা কিছুটা ভিন্ন—সেখানে ভোটের হার হিসাব করে পার্লামেন্টের আসন বণ্টন করা হয়। পার্লামেন্টের মোট আসন ১৬০টি। এর মধ্যে শিন ফেইন পেয়েছে ৩৭টি আসন। প্রতিষ্ঠিত বাকি দুটি দল ফিয়েনা ফাইল ৩৮টি ও ফাইন গায়েল পেয়েছে ৩৫টি আসন।

এই দুটি দলের নানা কাজে বিরক্ত হয়ে আয়ারল্যান্ডের মানুষ শিন ফেইনকে ভোট দিয়েছে। দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকট বাড়ছিল। একই সঙ্গে বাড়ছিল সেবা খাতে কাটছাঁটের প্রবণতা। ফলে মানুষ শিন ফেইনের বামপন্থী ‘শ্রমিক ও পরিবর্তন’ সংক্রান্ত ইশতেহারের দিকেই আবার মনোযোগী হয়।

ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর জন্য এই নির্বাচন ছিল একটি বড় শিক্ষা। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তুলনায় এবার দুটি দলই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন হারায়। এবারের নির্বাচনে ছোট ছোট বামপন্থী দলগুলোও ভালো ফল করেছে। শিন ফেইনের নেতা ম্যাকডোনাল্ড বলেন, এই ছোট ছোট দলের সঙ্গেই তাঁর দল জোট করে ‘পরিবর্তনের সরকার’ গঠন করতে চায়।  এ ক্ষেত্রে তারা সফল হলে ম্যাকডোনাল্ডই হতে চলেছেন আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

শিন ফেইনের এই সাফল্য এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে গত ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার পক্ষে এবং আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের ব্যাপারে বড় ধরনের জনমত তৈরি হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে পুরনো দল শিন ফেইন। ১৯০৫ সালে স্বাধীনতা আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে এটি গঠিত হয়। ১৯১৮ সালে ব্রিটিনের সাধারণ নির্বাচনে এটি ৭০ শতাংশ ভোট পায়।

আয়ারল্যান্ডের মূল দল দুটি কখনোই উত্তর আয়ারল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেনি। সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য শিন ফেইন বহু দিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে ছিল। রাজনীতির সঙ্গে বন্দুকের মিশ্রণ এড়াতে বহু আইরিশ ভোটারও তাদের এড়িয়ে চলত। ব্রিটিশ ও আইরিশ গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো শিন ফেইনকে ‘সন্ত্রাসীদের প্রতি সমব্যথী’ বলে সমালোচনা করে এসেছে এত দিন।

শিন ফেইন যদি ডাবলিনে আগামী সরকার গঠন করতে পারে তাহলে ঐক্যের বিষয়টি আবার সামনে চলে আসবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ডাবলিনে নতুন জোট সরকার প্রসঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হবে। সে ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড, ওয়ালস, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড মিলে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত রাখার ব্রিটিশ সংবিধানের আঠা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

ভোটারদের মধ্যে এ পরিবর্তন আসার অন্যতম প্রধান কারণ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ব্রেক্সিটের আকাঙ্ক্ষা। ব্রেক্সিটই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শক্তিশালী করেছে। কাজেই বরিস যা চাইছেন তা বাস্তবায়নের ব্যাপারে তাঁকে সতর্ক হতে হবে।

 

সূত্র : স্ট্র্যাটেজিক টাইমস

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা