kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

পুতিনের নতুন মন্ত্রিসভা

অনলাইন থেকে

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাশিয়ার সরকারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নতুন মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করেছেন অতি সম্প্রতি। অনেকেই একে দেখছেন পুতিনের প্রেসিডেন্সি ছেড়ে যাওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে। যদিও রাশিয়ার রাজনীতি থেকে তিনি সহসাই বিদায় নিচ্ছেন না।

নতুন মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজন উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রধানের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে। তবে রাশিয়ার নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রীরা স্বপদেই বহাল আছেন। এর মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শইগু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলতসেভ। অর্থমন্ত্রী অ্যাস্তন সিলুয়ানভকেও তাঁর পদে বহাল থাকতে দেখা গেছে। প্রথম তিনজন উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও চতুর্থজন এ মর্যাদা পাননি। যদিও তাঁর পদ বহাল আছে।

বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য নতুন মন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। এই মন্ত্রণালয় ডোপিংয়ের কেলেঙ্কারি থেকে রাশিয়াকে বের করে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণায়ের জন্যও নতুন মন্ত্রী এসেছে। এই মন্ত্রণালয়ও বেশ কয়েক বছর ধরে বিদেশি, বিশেষ করে হলিউডের সিনেমার প্রভাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে তারা রাশিয়ায় নির্মিত দেশপ্রেমবিষয়ক সিনেমাকে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

পুতিন গত সপ্তাহে সংবিধান সংশোধনের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সংকুচিত করার কথা বলা হয়েছে। এর পরই পুরো সরকারের পদত্যাগের কথা জানা যায়। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভও পদত্যাগ করেন।

মেদভেদেভের স্থলাভিষিক্ত হন মিখাইল মিশুস্তিন। তিনি রাশিয়ার শীর্ষ কর কর্মকর্তা। এই টেকনোক্র্যাট বরাবরই ক্রেমলিনের রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।

পুতিন জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্সির মেয়াদ দুইবারে নামিয়ে আনবেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের মধ্যে তাঁর ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও আবারও নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর আগেও এমন পরিকল্পনার কথাই জানিয়েছিলেন তিনি। তবে নতুন সরকারে তাঁকে হয়তো নতুন কোনো দায়িত্বে দেখা যাবে। যাতে করে যে ব্যবস্থা এত বছর ধরে তিনি গড়ে তুলেছেন তা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

তবে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় পুতিন সোভিয়েত আমলের মতো আজীবন নেতা থাকার রীতি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব থাকাকালে নেতাদের মৃত্যু হয়। এবং তাঁরা ক্ষমতার পালাবদল কী করে হবে সে ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনাই রেখে যেতে পারেন না—এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত অন্যায়।’

তবে যে গতিতে পুতিন এবার রুশ সরকারে পরিবর্তন আনলেন তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। এ সপ্তাহের শেষ দিকে সংবিধান পরিবর্তনের ব্যাপারে পার্লামেন্টে একটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। অনেকেই মনে করেন, সরকার হয়তো আগাম নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যে খসড়া সংশোধনী পুতিন পার্লামেন্টে পাঠিয়েছেন, তা রাজ্য পরিষদকে নতুন সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করবে। রাজ্য পরিষদ একটি উপদেষ্টাসংবলিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৪ সালের পর পুতিনের ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হবে এটি। খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র-বিষয়ক নীতির প্রধান নির্দেশনাগুলো রাজ্য পরিষদ থেকেই আসবে।’ তবে এর ক্ষমতা ঠিক কতটা সম্প্রসারিত হবে অর্থাৎ প্রেসিডেন্টকে এই সংস্থা থেকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হবে, নাকি এটি নেহাতই উপদেষ্টা পরিষদ হিসেবে থেকে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে।

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করার ব্যাপারে খসড়ার বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুতিনের ভাষণ থেকে ধারণা করা হচ্ছিল, অনেকটাই কাটছাঁট করা হতে পারে। শুরুতে মনে করা হয়, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ক্ষমতা হারাবেন প্রেসিডেন্ট। আগামী এপ্রিলে সংশোধনী নিয়ে ভোটের আয়োজন করা হবে। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রচলিত অর্থে এটি গণভোট হবে না। এই ভোট ১২ বা ২৬ এপ্রিল হতে পারে। প্রসঙ্গত ১২ এপ্রিলকে রাশিয়া মহাকাশচরণ দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯৭৮ সালের এই দিনেই রাশিয়ার নতুন সংবিধান গ্রহণ করা হয়। এই সংবিধানে বলা হয়, রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জনগণের মত নিতে অবশ্যই গণভোটের আয়োজন করতে হবে।

রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমা এবং ফেডারেল পরিষদে সংবিধানের সংশোধনী পাস হওয়ার পর এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর পরই এগুলো আইন হিসেবে কার্যকর হবে। রাশিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্টগুলো থেকেও এই সংশোধনীর ব্যাপারে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের প্রয়োজন হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে ক্রেমলিন দ্রুত এগোতে চায়। 

 

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, ব্রাভড দ্য রিপোর্ট

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা