kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কী হবে ব্রেক্সিট উৎসবে!

ক্যাথেরিন বেনেট

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কী হবে ব্রেক্সিট উৎসবে!

‘ব্রেক্সিট উৎসব’ সম্পর্কে জানার আগ্রহ হয়তো সবার মধ্যেই আছে; এটা ২০২২ সালে উদ্যাপিত হবে। বলা যেতে পারে, এ মহা উৎসবের আদিচিন্তক জ্যাকব রিস-মগ। ২০১৮ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘ব্রেক্সিট উৎসব দারুণ একটা বিষয় হবে। আমাদের ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের চেতনার নিরিখে ব্যাপক উদ্‌যাপনের ব্যবস্থা হওয়া উচিত। সেই আয়োজনে আমরা প্রচুর শ্যাম্পেন পান করব এ কথা বলার জন্য যে যদিও আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাব, তবু আমরা ইউরোপকে অপছন্দ করি না।’ আচ্ছা, সেই শ্যাম্পেনের ব্র্যান্ড কী হবে? যদিও অনির্দিষ্ট এখনো, তবে রিস-মগ বলেছেন, সেটাকে হতে হবে ‘হাইয়েস্ট কোয়ালিটির’।

সরকারের ডিজিটাল, কালচার, মিডিয়া অ্যান্ড স্পোর্ট (ডিসিএমএস) বিষয়ক ডিপার্টমেন্টের এই উৎসবের পুনর্নামকরণ হয়েছে ‘ফেস্টিভাল অব গ্রেট ব্রিটেন অ্যান্ড নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড’ (মগফেস্ট বলাই ভালো) পরে সংক্ষিপ্ত করে আরো স্বাস্থ্যকরভাবে(!) নামকরণ করা হয়েছে ফেস্টিভাল ২০২২ (আগের নামটাকেই যথাযথ মনে হয়)। সর্বোত্তম চেষ্টা-চরিত্র সত্ত্বেও এখনো মূল উৎসব শুরু হওয়া বাকি। এ কাজের জন্য নবনিযুক্ত পরিচালক মার্টিন গ্রিনের মূল কাজ হবে, একটা ফিকশন বাজারজাত করা। বুদ্ধু মার্কা চিন্তা, পরদেশবাসী-বিদ্বেষ, বিতিকিচ্ছিরি রকমের সময়সূচি, স্বভাবগতভাবেই বিভেদাত্মক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই উৎসব-আয়োজন পুরোপুরি মগ্গিয়ানদের চিন্তাকাঠামোর উপযোগী। তারা অভিবাসী ও শহুরে এলিটমুক্ত এক ইউটোপিয়ায় বিশ্বাসী—কপাল! এই আয়োজন নাকি (গ্রিন বলে থাকেন) আশা, আনন্দ ও একান্নবর্তিতার বার্তা বয়ে আনবে।

সবারই গ্রিনের ব্যাপারে একটা অনুভূতি আছে, কিছু বলার আছে। এমনকি মিলেনিয়াম ডোমের ব্যবস্থাপকরাও এই কষ্টকর মহান উদ্যোগকে ২০০০ সালের উৎসব থেকে আলাদা করতে পারেননি। গ্রিন বলেছেন, ওই আয়োজনে বহু সৃজনশীল কাণ্ড হবে। কী সৃজনশীল কাণ্ড হবে সে কথা দেশের সৃজনশীলরাই না হয় বলুক। পরের প্রসঙ্গে আসুন—যেকোনো ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ডমিনিক কামিনসের সাম্প্রতিক ক্যারিকেচারে দেখতে পান তাদের প্রসঙ্গে। মনে রাখুন কামিনসের গাড়ি ও লটবহর চলে যাওয়ার পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কিন্তু আপনাদেরই নিতে হবে।

হয়তো মেট্রোপলিটন এলিটরা সত্যিই সৃজনশীলতার ভাণ্ডার। তারা উত্সুক, দুর্দমনীয় অথবা একান্তভাবেই যথেষ্ট ‘ব্রেক্সিটি’; তারা মেট্রোপলিটন এলিটদের কুপোকাত করার জন্য একটা আয়োজন করতে চান। তারা সম্ভবত বিশাল, বিকট কিছু করতে সক্ষম হবে; শিল্পী-গায়ক-অভিনেতাদের ডেকে এনে অনুষ্ঠান করে ও ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের আতশবাজি করে। বিশাল নীল পাসপোর্টের ভাস্কর্য-বেদি নির্মাণ করে, প্রত্যেকটি পরিত্যক্ত লাইব্রেরিতে ডগ শো আয়োজন করে; উপন্যাসের জন্য অভাবিত এক সাহিত্য পুরস্কার চালু করে (যা পাঠকদের খুবই সহায়তা করবে; তারা বিট্রেনে থাকার বা ব্রিটেনবাসী হওয়ার গর্ব অনুভব করতে সহায়তা করবে) তারা আয়োজনটিকে আরো মহান করে তুলতে পারেন।

অন্য মহান সৃজনশীলরা হয়তো বিশ্বাস করবেন যে তাঁরা রাজনীতিকে আমলে না নিতেই পারেন অথবা রাজনীতিকে তাঁরা তুরীয় মার্গে পৌঁছে দিতে পারেন; ইউতে যাঁরা থেকে যেতে চান (রিমেইনার) তাঁদের ‘ব্রেড অ্যান্ড সার্কাস’ বিষয়ক ভোগান্তি তাঁরা বহন করতে পারেন এবং চূড়ান্ত পর্বে তাঁরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবর্ষ পালন উপলক্ষে পাঁচ বছর ধরে অর্জিত মনোমুগ্ধকর গতিশীল ইভেন্টের অভিজ্ঞতা সরবরাহ করতে পারেন। প্রসঙ্গত, প্রায় সবাই এমনকি উন্নাসিকরাও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের স্মরণে ওই আয়োজনে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সরকারের দৃঢ় মনোভাবের কথা বিবেচনায় নিলে (ব্রিটিশ ফিউচারবিষয়ক পরামর্শের বিপরীতে দাঁড়িয়ে) বলা যায়, পোস্ট-ব্রেক্সিট বিভাজন ও অনৈক্যের চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে ২০২২ সালে ব্রেক্সিট উৎসব উদ্‌যাপন করার প্রয়াস (আইরিশ পার্টিশনের শতবর্ষ ওই বছর) অভাবনীয় মাত্রায় ‘ক্রিয়েটিভ জিনিয়াসে’র চাহিদা সৃষ্টি করবে।

৪৮ শতাংশ রিমেইনারের কতজন পুরনো মূল্যবোধ, নিয়মনীতি ভুলে যাওয়ার আয়োজনকে স্বাগত জানাবে এবং মার্ক ফ্রাসোঁয়ার সঙ্গে সহমত পোষণ করবে? আমরা আমাদের বিষয়টি কিভাবে উদ্‌যাপন করব? ব্রেক্সিট উৎসবের সেই আয়োজনে রানি যদি প্যারাশুট দিয়ে নামেন তাহলেও কি বিষয়টি আমাদের জন্য সহায়ক হবে? কী চিন্তাভাবনা যে চলছে! অথচ বাস্তবে মুক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে, স্থবির একটা অর্থনীতি অপেক্ষমাণ, ইউনিয়নের সংকোচন ঘটবে, আন্তর্জাতিক পরিসরে মসকরার পাত্র হবো আমরা, ইউরোপিয়ান ড্রিমের বিলুপ্তি ঘটবে—আরো কত কী।

এসব রাজনৈতিক ক্যাঁচরম্যাচরে যদি কিছু হয় তাহলে তা হবে ডিসিএমএস কর্মকর্তাদের উদ্‌যাপনের নামে গরু-ছাগলের হাম্বা বা ভ্যাঁ। সরকারপক্ষের ধারণা, এতে নতুন অভ্যন্তরমুখী বাণিজ্য আকর্ষিত-উৎসাহিত হবে, বিনিয়োগ আকর্ষিত হবে। ঐতিহ্য-মন্ত্রী ভার্জিনিয়া বটমলি বলছেন, এতে জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে। সম্ভবত বাস্তবে উল্টোটাই ঘটবে। উৎসব আয়োজনে জনসাধারণের টাকার অপচয়ই হবে। ভালো আর কিছু আশা করা যায় না।

লেখক : সানডে অবজারভার (ইউকে)-এর লেখক

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা