kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পরীক্ষার মুখে সিনেট

অনলাইন থেকে

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্তি-প্রমাণ যদি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়, তাহলে এর মধ্যে ট্রাম্পের ইউক্রেনের ওপর প্রভাব বিস্তারের ব্যাপারে যেসব ঘটনা সামনে এসেছে, সিনেটকে অবশ্যই সেগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। ডেমোক্র্যাটরা গত ১৪ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের বেশ কিছু নথি ও বার্তা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এযাবৎকালে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের মুখে তাঁকে আর পড়তে হয়নি।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, তিনি জো বাইডেনের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করতে চাপ দেওয়ার জন্য ইউক্রেনকে প্রদেয় মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছেন। পারনাস যা বলছেন এবং গিউলিয়ানি যা দাবি করেছেন তার সঙ্গে ট্রাম্পের অবস্থানের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ট্রাম্প বরাবরই বলে আসছেন, গিউলিয়ানি ইউক্রেন প্রসঙ্গে কী করেছেন বা বলেছেন সে সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই। ট্রাম্প আরো বলেন, ইউক্রেনের দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই তিনি জেলেনস্কির ওপর চাপ দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যই তিনি এ কাজ করেছেন। এতে তাঁর নিজের কোনো স্বার্থ নেই। পারনাসের বার্তা থেকে পাওয়া বাকি তথ্যগুলো আরো চাঞ্চল্যকর। এর মধ্যে রিপাবলিকান পার্টি থেকে কংগ্রেসে প্রার্থিতাপ্রত্যাশী রবার্ট হাইডেরও কিছু বার্তা রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, তিনি পারইউক্রেনে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মারিয়া ইয়োভানোভিচের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতেন। গিউলিয়ানি তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইয়োভানোভিচকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মনে করতেন। গত বছরের গোড়ার দিকে পারনাস ও হাইডের মধ্যে চালাচালি হওয়া বার্তাগুলোতে দেখা যায়, তাঁরা রাষ্ট্রদূতের চলাফেরা এবং ইন্টারনেটে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন। একটি বার্তায় বলা হয়, ‘তিনি তিনজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর ফোন বন্ধ।’ বার্তা দেখে ধারণা করা হয়, তাঁর কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ইচ্ছাও তাঁদের ছিল। আরেক বার্তায় বলা হয়, ‘যে ঠিকানাটা আমি তোমাকে দিয়েছি, ওটা পরীক্ষা করে দেখো। দাম পেলে ওরা আমাদের/তোমার সব কাজ করে দেবে।’ আরেক বার্তায় বলা হয়, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, ট্রাম্প এই কুত্তিকে এখনো ছাঁটাই করেনি।’ এর পরের মাসেই চাকরি হারান ইয়োভানোভিচ।

তবে এসব রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট আমলে নেবে বলে মনে হয় না। প্রশাসন বরাবরই হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস পরিচালিত এই অভিশংসন তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে। তার পরও বাস্তবতা হচ্ছে, এ ব্যাপারে ট্রাম্প যেসব যুক্তি সাজিয়েছেন, তা বাইডেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মতোই অসার। এর পরও মিচ ম্যাককোনেল তাঁর ৫২ সিনেটরের সমর্থনের কারণে বলেছেন, ট্রাম্পের অভিশংসনের ‘কোনো আশঙ্কা নেই’। একই সঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সিনেটের বিচারে কোনো প্রমাণ বা সাক্ষীকে উপস্থাপন করা হবে না। এখন পর্যন্ত মাত্র চারজন রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিরোধিতা করার কথা বলেছেন। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এ মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসে স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণের আগেই ট্রাম্প অভিশংসনের অভিযোগ থেকে বের হয়ে যাবেন।     

এমন ধারণা অবশ্য আগে থেকেই ছিল। বেশির ভাগ রিপাবলিকান ভোটারই ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। তাঁদের গণমাধ্যমও ট্রাম্পের দুর্নীতি আমলে নিতে রাজি না। ডেমোক্র্যাটরা নতুন করে যেসব প্রমাণের কথা বলছেন বা সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনসহ অন্যদের সাক্ষ্য নেওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা-ও মানতে রাজি নন ম্যাককোনেল। তাঁর দাবি, ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে যা করেছেন তা যেকোনো প্রেসিডেন্টই করবেন। হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির উদ্যোগও তাঁর কারণে ভেস্তে গেছে। রিপাবলিকানরা সব কিছুর জন্যই ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করছেন।

ঘটনার এই ক্রম অনুমান করা গেলেও তা নজিরবিহীন। প্রতিটি ইমপিচমেন্টের অভিযোগই দলীয় রাজনীতি দিয়ে প্রভাবিত হয়েছে। তবে এবার যদি ম্যাককোনেল সফল হন, তাহলে এটিই হবে সিনেটের প্রথম বিচার, যেখানে সত্য ও প্রমাণের কোনো ধার ধারা হয়নি।

কয়েকজন উদারপন্থী রিপাবলিকান অবশ্য ম্যাককোনেলের পরিকল্পনার প্রতিবাদ করেছেন। সংখ্যায় তাঁরা মাত্র চারজন। তাঁদের পক্ষে ট্রাম্পের ভবিষ্যতে কোনো ছাপ ফেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বোল্টন যদি সাক্ষ্য দেন, তাহলেও তিনি এমন কিছু বলবেন না, যা রিপাবলিকানদের ট্রাম্পবিরোধী করে তুলতে পারে। যে সত্য এরই মধ্যে সামনে এসেছে, সেগুলোই তিনি বলবেন। কাজেই রিপাবলিকান পার্টি এ ক্ষেত্রে আরেকটু উদার হলেও মূল ফলাফলে তার কোনো প্রভাব পড়ত না।

 

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা