kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

হ্যারি ও মেগান সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

অনলাইন থেকে

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০১৯ সাল একটি ওলটপালটের বছর ছিল—এমনকি রানিও এ কথা স্বীকার করেছেন। হাউস অব উইন্ডসর নতুন বছর শুরু করেছে অকূল এক সুড়ঙের দিকে যাত্রার মাধ্যমে। রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেসের উত্তরাধিকার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পেছনে কী পটভূমি ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তাঁদের এই ইচ্ছার দ্বিবিধ অর্থ দাঁড়ায়। ফলে একটি অস্পষ্টতা রয়েছে। মানুষের বাসনা থাকতেই পারে; কিন্তু তাতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হতে পারে, সেটি অস্বীকার করা যায় না।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে শুধু নিরাশ লোকজনই চাইবে, সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস সফল না হোন। বাকি সবারই কামনা, নতুন আয়োজনে তারা সুখী হবে—এখন যেমন আছে তার চেয়ে। পারিবারিক সংকটে (যেমনটি ঘটেছে) ঠিক কোথায় ভারসাম্য আনতে হবে, তা স্থির করা প্রায় ক্ষেত্রেই কঠিন, কখনো অসম্ভব প্রায়। যদিও এমন পরিস্থিতিতে ভারসাম্য খুঁজে পেলেও দোষারোপের কোনো প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখা যায় না বা থেমে থাকে না। সন্দেহ নেই, দোষারোপের প্রচুর ঘটনা ঘটবে।

এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের পেছনে যেসব যৌক্তিক কারণ রয়েছে, সেগুলোর অন্তত একটিকে কোনো বার্তা সংস্থা বা গণমাধ্যম নাকচ করতে চাইবে না। কারণটি কী? প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের মনে এই ভীতি রয়েছে যে ব্রিটিশ প্রেস তাঁদের এমনভাবে নজরে রাখবে, তাঁরা অস্বস্তি-ঝুঁকি বোধ করবেন, যে রকম হুমকি-ঝুঁকিবোধের মধ্যে ছিলেন প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানা। তাঁরা সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকে বেশির ভাগ মিডিয়ার প্ররোচনায় জনতা তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আর এর থেকেই বোঝা যায়, কোথায় কী সমস্যা হবে বা হতে পারে। যুক্তরাজ্য সবে একটি সরকার নির্বাচিত করেছে, যে সরকারের নেতা গল্প ফাঁদতে পটু এবং যাঁর ম্যানিফেস্টো সাংবাদিকতার রীতিনীতি লঙ্ঘনের জন্য মিডিয়াকে ফ্রি পাস দিয়েছে। অতএব পরিস্থিতি বোধগম্য।

পাবলিক ইনস্টিটিউশন হিসেবে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ক্ষেত্রে এ ঘটনার মর্মার্থ হচ্ছে, এ সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বেশ বড় আঘাত। এ আঘাত প্রচণ্ড। কারণ জেফ্রি এপস্টাইন অ্যাফেয়ার্সে জড়িয়ে প্রিন্স অ্যান্ড্রু অপদস্থ হয়েছেন এবং সাইডলাইনে চলে গেছেন। এরপর যথেষ্ট সময় না যেতেই এ ঘটনা ঘটল। প্রায় ২০ বছর আগে প্রিন্স অব ওয়েলসের বিবাহবিচ্ছেদ ও প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা এটি। এ ঘটনা ব্রিটিশ রাজতন্ত্রকে বড় সমালোচনার মুখে ফেলে দিয়েছে। রাজতন্ত্র হয়তো এ সপ্তাহের মধ্যেই ঝুঁকিতে পড়বে না, ১৯৩৬ সালের পরও তেমন সমস্যায় পড়েনি। তবে অনেকে বলেন, ১৯৯৭ সালে পড়েছিল। যা হোক, রাজবংশের ভঙ্গুরতা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি—রানি ও ডিউক অব এডিনবরার বয়স ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিবর্তনের যুগের সূচনা খুবই আসন্ন।

তলস্তয়ের বক্তব্য স্মরণযোগ্য। তিনি বলেছেন, সব অসুখী পরিবারের অসুখী হওয়ার কারণ আলাদা। কোনো না কোনো চ্যুতির ঘটনা তাদের মধ্যে ঘটে, সে পরিবার সাধারণ হোক আর রাজকীয়ই হোক। সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস এবং হাউস অব উইন্ডসরের মধ্যেও চ্যুতি ঘটেছে। বিষয়টি খুব অস্বস্তিকর—হাউস অব উইন্ডসর, যেমনটি দাবি করা হয়ে থাকে, তেমন মাত্রায় তাদের ডায়ানা-পরবর্তী অবস্থান থেকে পরিত্রাণ পায়নি। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে বলা যায়, রাজতন্ত্রকে আস্থার সংকটে পড়তে হবে—তারা রাজতন্ত্রের উদ্দেশ্যর সঙ্গে সংগতিহীন হয়ে পড়েছে।

রাজপরিবারের কনিষ্ঠ সন্তানদের অর্থাৎ সিংহাসনের কনিষ্ঠ উত্তরাধিকারীদের জীবিত থাকার কারণ একটিই—যদি কখনো সময় আসে, যেমন ১৯৩৬ সালে এসেছিল প্রিন্স আলবার্টের (পরে রাজা ষষ্ঠ জর্জ) কাছে, দায়িত্ব নিতে হবে। প্রিন্স হ্যারি ধারাক্রমে তাঁর পূর্ববর্তী প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও প্রিন্সেস মার্গারেটের মতোই নিয়তির জালে অবস্থান করেছেন বা করছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই প্রিন্স হ্যারি ও মেগান একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; যদিও তাঁদের পরিকল্পনা এখনো কার্যকর হয়নি। তবে তাঁদের প্রবৃত্তি যথা-সাড়া দিয়েছে। তাঁদের সিদ্ধান্ত সাহসিকতাপূর্ণ।

এই যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বজনিত নয়, এর কারণ হাউস অব উইন্ডসর উত্তরাধিকারীর তালিকা ছোট করতে পারেনি। এ কারণে উদ্ভট একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়ে আছে—সার্বভৌম (রাজা বা রানি) ও তাঁর নিকটতম উত্তরাধিকারী ছাড়া আর যাঁরা তালিকায় আছেন তাঁরা স্বাধীনভাবে পেশা গ্রহণের কথা ভাবতে পারেন না; সেভাবে প্রস্তুতিও নিতে পারেন না। অথচ জনপ্রিয় অনেক রাজপরিবারের ক্ষেত্রে এটি খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। শুধু ব্রিটিশ রাজপরিবার শিশুসুলভ একটি ধারণা নিয়ে বসে আছে। সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস একটি বিদ্রোহ ঘটিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের ত্রাণ করেছেন এবং সম্ভবত রাজপরিবারকেও।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান (ইউকে)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা