kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি বর্জন করুন

গ্রেটা থানবার্গ

১৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি বর্জন করুন

আমরা সদ্যই নতুন একটি দশকে পা রাখলাম। আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে তা নির্ধারণে এই দশকের প্রতিটি মাস, প্রতিটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ মাসের শেষ দিকে দাভোসে জড়ো হবেন বিভিন্ন কম্পানির প্রধান নির্বাহী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা।

সেখানে নেতাদের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য তরুণ জলবায়ু আন্দোলনকারী এবং এ আন্দোলনে যোগ দেওয়া স্কুল ছেড়ে আসা ছেলে-মেয়েরাও থাকবে।  

এ বছরের ফোরামে অংশগ্রহণকারী সব কম্পানি, ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান ও সরকারের কাছে আমাদের দাবি থাকবে, জীবাশ্ম জ্বালানির খোঁজ ও আহরণে সব ধরনের বিনিয়োগ এখনই বন্ধ করুন। জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করুন। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণভাবে এ মুহূর্তে সরে আসুন আপনারা।

আমরা এ কাজটি সম্পন্ন করতে ২০৫০, ২০৩০ বা ২০২১ সাল পর্যন্তও অপেক্ষা করতে চাই না। আমরা চাই, এ বিষয়টি সম্পন্ন হবে এখনই, এই মুহূর্তে।

আমরা জানি এবং খুব ভালো করেই বুঝি, বিশ্ব যথেষ্ট জটিল স্থান এবং আমরা যা চাইছি তা খুব সহজ নয়। কিন্তু জলবায়ু সংকটও অত্যন্ত জটিল এবং এটা জরুরি। জরুরি পরিস্থিতিতে পড়লে আপনাকে নিজের সুবিধাজনক অবস্থা থেকে বের হয়ে এসে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা সন্তোষজনক বা সুবিধাজনক নাও হতে পারে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জলবায়ু পরিবর্তন বা পরিবেশগত জরুরি অবস্থা কোনো সুবিধাজনক বা আরামদায়ক বা সহজ অবস্থায় নেই।

পরিণত প্রজন্ম এবং তাদের হাতে থাকা ক্ষমতার কারণে তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা পিছিয়ে পড়ছে। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, আমরা অনেক বেশি দাবি করে ফেলেছি। কিন্তু দ্রুত টেকসই পরিবর্তন শুরুর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সামান্য একটি পদক্ষেপ। আর বাস্তবতা হচ্ছে, ২০২০ সালে এসেও যে আমরা এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারিনি সেটাই বড় লজ্জার বিষয়।

রেইনফরেস্ট অ্যাকশন প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর বিশ্বের ৩৩টি প্রধান ব্যাংক সম্মিলিতভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ২০১৭ সালে আইএমএফ জানায়, জীবাশ্ম জ্বালানির পিছে তারা ৫.২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই প্রবণতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এই পৃথিবীর প্রতি, পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রজাতিগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতিটি কম্পানি ও এর সঙ্গে জড়িত সবারই এই পৃথিবীর প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। তবে ইতিহাস বলছে, করপোরেট বিশ্ব কখনোই এ ব্যাপারে নিজেদের দায়বদ্ধ বলে মনে করেনি। কাজেই এ দায়বদ্ধতা আমাদের, অর্থাৎ শিশুদের। আমরা বিশ্বনেতাদের প্রতি জীবাশ্ম জ্বালানি অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। এই গ্রহে যে সংকট চলছে তার মূল কারণই এটি; বরং তাদের উচিত টেকসই অর্থনীতি, গবেষণা এবং প্রকৃতির যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা কী করে উদ্ধার করা যায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার বিষয়ে আরো বিনিয়োগ করা। স্বল্পমেয়াদি মুনাফার জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল জীবনের সম্ভাবনা ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

এ বছরের দাভোস সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত ও টেকসই বিশ্বের জন্য অংশীদাররা’। ফোরামের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন রোধসংক্রান্ত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এসংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে নেতারা আলোচনা করবে। আমরা তাদের কাছে যে অনুরোধ জানাচ্ছি তা হয়তো খুব দূরদর্শী বিবেচনাযোগ্য নয়। কারণ তারা বারবারই বলছে, তারা এই জরুরি অবস্থার গুরুত্ব ভালো করেই বুঝতে পারছে এবং একে প্রাধান্যও দিচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বন্ধ করার চেয়ে কম যেকোনো কিছুই জীবনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। আজ যা ব্যবসা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে, কাল তাকেই বিবেচনা করা হবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে। আমরা নেতাদের প্রতি এই পাগলামি বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি। আমাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে, তাঁদের বিনিয়োগ হোক আমাদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে।

 

লেখক: সুইডেনের স্টকহোমের ১৭ বছর বয়সী পরিবেশবাদী আন্দোলনকারী। গ্রেটার সঙ্গে আরো বেশ কয়েকজন কিশোর-কিশোরী মিলে এই নিবন্ধ রচনা করেছে 

সূত্র: গার্ডিয়ান

ভাষান্তর: তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা