kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ

সেলিনা হোসেন

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ

বাংলা একাডেমিতে আমি ৩৪ বছর চাকরি করেছি। অনেক বিষয় আমার স্মৃতিতে আছে, কিন্তু শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে যে আয়োজন হয়েছিল, তা আমার এই সময়ের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি। অনবরত মনে করে নিজেকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করি।

তিরাশির ১৪ ডিসেম্বর উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী আনন্দ ও বেদনার। আনন্দ গৌরবের, অস্তিত্বের অহংকারের। আমরা তাঁদের উত্তরসূরি, যাঁদের ব্যবহৃত জিনিস শুধু প্রতিদিনের ব্যবহার্য দ্রব্য হিসেবে এখন আর বিবেচিত নয়, এসব দ্রব্য স্পর্শ করলে মুহূর্তে বদলে যায় রক্তের প্রবাহ। তাই এগুলো এখন পরবর্তী বংশধরদের প্রেরণার উৎস। এই প্রদর্শনী বেদনার, বুকের তল নিংড়ে বেরিয়ে আসা কান্নার স্রোত, রুদ্ধ হয়ে যায় কণ্ঠ। এসব জিনিসের দিকে তাকালে মনে হয়—এইতো ছিলেন মানুষটি, এখন নেই। অবচেতনে আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে ওঠে, হয়তো শুনতে পাব ডাক, এই যে তোমরা কেমন আছ? যদি কোনো দিন স্বপ্নেও শুনতে পাই—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব কি? বলতে পারব কি আপনাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ভূখণ্ডে আমরা সুখে আছি? মোটা কাপড়ে, মোটা ভাতে বেঁচে আছি। জানি কোনো দিন তাঁদের কণ্ঠ আমাদের কাছে আর পৌঁছবে না; কিন্তু বাংলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর প্রতিটি জিনিসই প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে জেগে থাকবে।

হলে ঢুকতেই বাঁয়ে ডা. ফজলে রাব্বি দিয়ে শুরু, পুরো ঘর ঘুরে বেরিয়ে আসার মুখে বাঁয়েই ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব দিয়ে শেষ। একজন চিকিৎসক, আরেকজন দার্শনিক, শিক্ষাবিদ। কর্মক্ষেত্র ভিন্ন হলেও একই বিন্দুতে তাঁদের অবস্থান ছিল সমান্তরাল, তাঁদের কণ্ঠে উৎসারিত হয়েছিল একই ধ্বনি। তাই ভিন্ন জগতের মানুষ হয়েও রেহাই পাননি কেউ। খুনিরা মনে করেছে, একটি জাতিকে এভাবেই পঙ্গু করে দেওয়া যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া যেন টেকে না।

যিশুখ্রিস্ট ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং সক্রেটিসকে বিষপান করতে হয়েছিল। মৃত্যুকে হাসিমুখে স্বীকার করেছিলেন গ্যালিলিও এবং তকি ইরানি। যাঁরা জীবনের পথপ্রদর্শক, তাঁরা জীবনদানে কুণ্ঠিত হন না।

মহাকালের এই অমোঘ বাণী নির্মম সত্য হয়ে নেমে এসেছিল সবুজ-শ্যামল পলিমাটির উর্বর সমতল বাংলাদেশে। কেননা তাঁরা ইতিহাসের বাঁকবদল চেয়েছিলেন—চেয়েছিলেন স্বাধীনতা নামক ঐশ্বর্যময় শব্দভরা ভূখণ্ড। তাই বিরান প্রান্তরের ইটের পাঁজায় মুখ থুবড়ে পড়ে রইলেন জাতির সূর্যসন্তানরা, যাঁরা স্বপ্নে, আকাঙ্ক্ষায় মানুষকে পৌঁছে দিয়েছিলেন দিগন্তের কাছাকাছি। তাঁরা প্রতিবাদে মুখর হতেন, আপসহীন অনমনীয় দৃঢ়তায় জনগণের পক্ষে কথা বলতেন। তাঁরা দুঃসময়ে, অন্ধকারে, সংগ্রামে-সংকটে জাতিকে তাঁদের সাহসী কণ্ঠস্বর শুনিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সোনালি উষার ক্রান্তিলগ্নে যাঁরা জীবন দিলেন, তাঁরা ইতিহাসের কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নন। তাই হেমলকের পেয়ালা তাঁদের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল। নািসরা সরাসরি খুন করত, তাদের কোনো বাছবিচার ছিল না। কিন্তু এ দেশের উদাহরণ নজিরবিহীন। এমন পরিকল্পিতভাবে একটি দেশের বুদ্ধিজীবীদের ধ্বংস করার পরিকল্পনা বোধ হয় নািসদেরও ছিল না। কবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে ইচ্ছা করে—

‘কবিতায় আর কি লিখব?

যখন বুকের রক্তে লিখেছি

একটি নাম,

বাংলাদেশ।’

এক কথা এক জাতির, যে জাতি বুকের রক্ত ঢেলে ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করে, লাখো বুলেটের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিরোধ, প্রতিবাদের ভাষা হয়ে। এ দেশের বুনোঘাসের সবুজ আস্তরে ভোরের শিউলি বিছিয়ে থাকত। একদিন সেই ঝরা শিউলি পায়ে দলে চলে গেল টগবগে তাজা তরুণ প্রাণ—গ্রেনেড, বেয়নেট, মেশিনগান হাতে। ওরা গেল হাসতে হাসতে, অকুতোভয়ে। কেউ ফিরল, কেউ ফিরল না। কোমলে-কঠোরে, শিউলি এবং আগুনের এত অপূর্ব সমন্বয় শুধু এ দেশের মানুষের পক্ষেই সম্ভব। তাই বদলে যায় ইতিহাস—বদলে যায় মানচিত্র।

এমন একজন মানুষ মুনীর চৌধুরীর উপস্থিতি ছিল আমাদের জীবনে। তিনি যখন বক্তৃতা করতেন উত্থানে, পতনে, আবেগে, ভালোবাসায় মুদ্রিত হয়ে যেত শ্রোতার চিত্তে। তিনি যখন পড়াতেন বিস্ময়ে বিমুগ্ধ হয়ে যেত ছাত্রের হৃদয়। তিনি যখন ভালোবাসতেন নির্মল ঔজ্জ্বল্যে ঝরে পড়ত ভোরের শিউলি মঞ্চের ওপর। এখন তিনি কী নিদারুণভাবে নিশ্চপ।

ফ্রেমে বাঁধানো কাচের আড়াল থেকে তাকিয়ে আছেন, তাকিয়েই আছেন। দেখছেন কী! পাশে তাঁর চশমা জোড়া। সফেদ পায়জামা আর পাঞ্জাবি এবং সেই কালো জহর কোটটি দেখলে স্মৃতিতাড়িত হয়ে ওঠে হৃদয়। এই কী ছিল তাঁর প্রিয় পোশাক? সব কিছু নিয়ে প্রবলভাবে নড়ে ওঠে না কেন মানুষটি? এখন শুধু কথা বলে তাঁর উদ্ভাবিত টাইপরাইটার মুনীর অপটিমা, কথা বলে তাঁর অসাধারণ গ্রন্থরাজি।

ঘরের মাঝখানের স্তম্ভটি ঘিরে গোলাকার বৃত্তের ওপর সাজানো হয়েছে এক পাশে জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা আর অন্য পাশে জহির রায়হানকে। জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা বুলেটের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার শেষ বুলেট তিনটি রেখে গেছেন জাতির সামনে। দেখলে শিহরিত হয় শরীর। বুলেট দিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়া যায় একটি জীবন; কিন্তু তার প্রবহমানতাকে থামিয়ে দেওয়া যায় না। সে রাতে সিগারেটের প্যাকেট খোলার সময় পাননি তিনি, পাকিস্তানের তৈরি ক্যাপস্টেন সিগারেটে ভরা প্যাকেটটি সযত্নে রক্ষা করেছেন শ্রীমতী বাসন্তী গুহঠাকুরতা। পরদিন সকালে ঘড়িতে চাবি দেওয়া হয়নি, সময় দেয়নি ঘাতকরা, বন্ধ ঘড়িতে ২৫ তারিখ। ১৩ বছর ব্যবধানে এখনো জ্বলজ্বল করে। কষ্ট হয় শিশু জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার ঝাপসা হয়ে আসা ছবির দিকে তাকালে। এত জিনিসপত্রের মধ্যে সেই কচি মুখ এক অনাবিল প্রশান্তি।

ঘুরে এসে দাঁড়াই জহির রায়হানের সামনে। ছোটখাটো দীপ্তিমান মানুষটি ছবির মধ্যেও সমান দীপ্রতায় উদ্ভাসিত। প্রতিবাদী চেতনা ছিল তাঁর জীবনদর্শন। কখনো আপস করেননি। জীবনের শেষ দিনটি ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনের দৃঢ়তায় অমলিন। কোথাও তিনি হার মানেননি, শুধু মৃত্যুর কাছ ছাড়া। কিন্তু তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ছবি আর দ্রব্যের সামনে দাঁড়িয়ে কি মনে হয় মৃত তাঁকে মুছে দিতে পেরেছে? আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন তিনি, লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই প্রদর্শনীর ঘরজুড়ে সর্বত্র তাঁর উপস্থিতি, সর্বত্রই প্রতিবাদী চেতনা। এটুকুই তো আমাদের সম্বল, এ দিয়েই এগিয়ে যাই।

ঘরের বাঁ দিক দিয়ে এগোলে পূর্ব-দক্ষিণ কোনায় এসে দাঁড়িয়ে যেতে হয় এক কিংবদন্তির হারমোনিয়ামের সামনে, স্তব্ধ হয়ে যায় হৃদয়। এই হারমোনিয়াম দিয়ে আলতাফ মাহমুদ জাতিকে যে অমর সংগীত উপহার দিয়েছিলেন, তা আজও আমাদের প্রেরণার উৎস, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কী ভুলিতে পারি?’ না, আমরা ভুলতে পারি না কিছুই। ভুলতে পারি না আলতাফ মাহমুদের মতো শত শত প্রিয় মুখ।

এই টাইপরাইটারে টাইপ হতো মুক্তিযুদ্ধের খবর। জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে নিজামুদ্দীন আহমদ যুদ্ধের খবর পাঠাতেন বিবিসিতে, যা ছড়িয়ে যেত দেশ-বিদেশে। ঘাতকরা যখন দরজায় কড়া নাড়ল, তখন তিনি খাচ্ছিলেন, খাওয়া রেখে চলে যেতে হয়েছিল তাঁকে, চলে যেতে হয়েছিল টাইপরাইটারে অর্ধসমাপ্ত কাগজ রেখে।

মঞ্চের ওপর গ্লাস, প্লেট, পাউডারের কৌটা, কাঁচি, বই, ডায়েরি ইত্যাদি জিনিসের মধ্যে ছড়িয়ে আছেন গিয়াসউদ্দিন আহমদ। দেখলে ভিজে ওঠে চোখ। কিন্তু এসবের ভেতরই গিয়াসউদ্দিনের প্রতিবাদী কণ্ঠও গমগম করে ওঠে, স্পর্শ করে হৃদয়। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তাঁর ছিল অপরিসীম দরদ, অথচ তাঁদের তিনি বিজয়ীর বেশে দেখার সুযোগ পাননি।

মঞ্চের ওপরে মুনীর চৌধুরীর পাশেই আছেন মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ছাত্রদের প্রিয় শিক্ষক। শুধু পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। উদার মানবিক চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংস্কারমুক্ত মানসিকতার শিক্ষাও দিতেন ছাত্রদের। তাঁর রবীন্দ্রপ্রীতি ছিল অসাধারণ।

পশ্চিম দিকের র‌্যাকে আছেন শহীদুল্লা কায়সার। সাহিত্য ও সাংবাদিকতার দিগ্বলয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মানুষের জন্য কল্যাণভিসারী আলোর যাত্রায় তাঁর ছিল অবাধ পদচারণ। চশমা ছাড়া শহীদুল্লা কায়সারকে কল্পনা করা যায় না, কিন্তু নিয়ে যাওয়ার সময় চশমা পরার সময় ঘাতকরা তাঁকে দেয়নি। ওরা জানত, তাঁর জীবনে চমশার আর কোনো প্রয়োজন হবে না।

শহীদুল্লা কায়সারের পাশে ছিলেন ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা। পেশায় চিকিৎসক হলেও তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য আপসহীন লড়েছেন। তাঁর গ্রন্থরাজির মধ্যে ছড়িয়ে আছেন তিনি। তাঁকে মুছে ফেলবে কে?

পাশের র‌্যাকে আছেন রাশীদুল হাসান, সৌম্য, ধীর। ইংরেজির অধ্যাপক, কিন্তু সমগ্র অস্তিত্বে ছিলেন বাঙালি—সাহিত্যচর্চা করতেন, সে সাহিত্য ছিল আমাদের প্রাণের ভাষায় রচিত। কী করে সহ্য হয় ঘাতকদের? ভাবে, এভাবে সরিয়ে ফেলতে পারলেই বুঝি ইতিহাস চিরতরে থেমে যাবে। এমনিভাবেই আরো ভাবে বাংলার অধ্যাপক আনোয়ার পাশার জীবন স্তব্ধ করে দিলে স্থবির হয়ে যাবে সাহিত্যের পাঠ; কিন্তু ওরা তখনো জানে না, ‘রাইফেল রোটি আওরত’-এর মতো যে দলিল তিনি রেখে গেলেন, তা চিরদিন তাদের ঘৃণার পাত্র হিসেবে চিহ্নিত করে দিয়ে গেল। বড় বড় টানা টানা চোখে আনোয়ার পাশা তাকিয়ে আছেন, মনে হয় এইমাত্র সাহিত্যের আনন্দময় পাঠটি পড়িয়ে এলেন ছাত্র-ছাত্রীদের।

আনোয়ার পাশার পাশের র‌্যাকেই তরুণ সাংবাদিক সৈয়দ নজমুল হক। ঘাতকরা ঠিকই বুঝেছিল, এই তারুণ্যে আছে স্বাধীনতার দুর্দমনীয় স্পৃহা, যতই সরকারি সংবাদ সংস্থায় কাজ করুন তিনি। টাই পরে, কালো চশমার ফাঁক দিয়ে সৈয়দ নজমুল হক চলমান মানুষ দেখছিলেন।

ঋষি পুরুষ গোবিন্দচন্দ্র দেব, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক, ছবির মধ্যে কাঁচা-পাকা অবিন্যস্ত চুল এবং শিশুসুলভ সরল হাসি দিয়ে যেন কাছে ডাকেন। বলেন, দুদণ্ড দাঁড়িয়ে যাও। দাঁড়াবার ক্ষমতা কি আছে? পা কাঁপে যে! চোখে চোখ রেখে চাইবার সাহস কি বুকে আছে? তাঁর দর্শন ছিল মানবকল্যাণের দর্শন। তাই তাঁর স্নেহচ্ছায়া যে কারো জন্যই ছিল নির্ভয় আশ্রয়। তাঁর কোনো ব্যবহৃত জিনিস পাওয়া যায়নি তাড়াহুড়ার কারণে, তবু গ্রন্থরাজির মাঝে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

নির্ভীক সাংবাদিক ছিলেন সিরাজুদ্দীন হোসেন। তাঁর দ্রব্যরাজির মধ্যে বড় বেশি জ্বলজ্বল করে কালো জুতা জোড়া। বাংলা সাহিত্যে জুতা শুধু পাদুকা হিসেবে ব্যবহৃত নয়, এই শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ওই কালো জুতা বারবার সে কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল। তিনি হাত দিয়ে জুতা মারেননি, লেখনী দিয়ে মেরেছিলেন। তাঁর কলম ছিল আপসহীন, প্রতিবাদমুখর। প্রতিবাদের ভাষা যাঁরা জানেন তাঁরা বুকে আগুন রাখেন। যাঁরা বুকে আগুন রাখেন, আগুনেই তাঁর নির্মম পরিণতি অবধারিত হয়ে যায়। মাত্র দুই দিনের আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের এই প্রদর্শনী শুধু তাত্ক্ষণিক স্মৃতিতাড়িত কোনো ব্যাপার নয়। এই প্রদর্শনী জাতির স্থায়ী সম্পদ, যে সম্পদ পরবর্তী বংশধরদের ঐতিহ্য ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এই জিনিসগুলো এখন আর ব্যক্তিগত কোনো শহীদের নয় কিংবা কোনো শহীদ পরিবারের—এ জিনিস অবিনশ্বর হয়ে থাকবে এ দেশের মানুষের হৃদয়জুড়ে।

লেখক : কথাশিল্পী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা