kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনলাইন থেকে

ব্রিটেনের তিন দলের নির্বাচনী ইশতেহার

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচন আগামী ১২ ডিসেম্বর। প্রধান তিনটি দল এরই মধ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সেগুলোর পর্যালোচনা করেছে গার্ডিয়ান পত্রিকা—

এক. লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জেরেমি করবিন—৩৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বৈপ্লবিক ইশতেহার। যাঁরা যুক্তরাজ্যে লক্ষণীয় পরিবর্তন আশা করেন, তাঁরা এতে সন্তুষ্টি বোধ করবেন। এ আওয়াজ তাঁদের কাছেই সবচেয়ে বেশি পৌঁছাবে, যাঁরা তাঁদের জীবন থমকে যেতে দেখেছেন, বিধ্বস্ত হতে দেখেছেন। যাঁরা বৈষম্যের ধারার পাল্টে যাওয়া দেখতে চান, রাষ্ট্রীয় সেবা খাতের পুনর্নবায়নের জন্য কর বৃদ্ধি চান এবং পাবলিক পলিসির কেন্দ্রে জলবায়ু সংকটকে দেখতে চান, তাঁরা এ ইশতেহারের আহ্বান শুনতে পাবেন।

লেবার ইশতেহারে সময়োপযোগী আকাঙ্ক্ষার কথা বলা হয়েছে। গ্রিন এজেন্ডা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। শহরাঞ্চলের প্রতি অবজ্ঞা, আধুনিক পরিবহন ও অবকাঠামোর চাহিদা, পুনর্দক্ষায়নের গুরুত্ব, নিয়োগবৈষম্য দূরীকরণ, স্বল্প ব্যয়ে আবাসন, শিশু ও প্রবীণ প্রযত্নসেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয় যুক্তিযুক্ত করা—সবই যথাযথভাবে বিবেচিত হয়েছে।

মিস্টার করবিন বলছেন, তিনি আশির দশকের ডি-রেগুলেটরি বিপ্লবের চাকা ঘুরিয়ে দিতে চান—কর ও ব্যয়, সামাজিক উৎপাদের জাতীয় বিধিব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় খাত পুনর্বহাল করতে চান। মার্গারেট থ্যাচার এসব রদ করেছিলেন। ওই সময়ে থমকে যাওয়া লেবার পার্টিকে তিনি অগ্রবর্তী করতে চান।

এবার নির্বাচনে এককভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ব্রেক্সিট। করবিনের ব্রেক্সিট-বিষয়ক প্রস্তাব স্পষ্ট নয়। এ অস্পষ্টতার কারণে লেবার পার্টি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। ট্রেড ইউনিয়ন এজেন্ডায়ও তিনি অস্পষ্ট। ‘ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিকূল আইন’ ও ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাকশনে অদরকারি নিয়ন্ত্রণ’ রদ করার কথা বলে লেবার পার্টি কী বোঝাতে চায়? অতিপরাক্রমশালী ট্রেড ইউনিয়নগুলো তো সত্তরের দশকের অন্ধকারপর্বে সম্পৃক্ত ছিল। লেবার পার্টি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে পারবে—এ ভরসা পুরোপুরি করা যায় না। ইশতেহার আরো স্বচ্ছ হওয়া দরকার ছিল।

দুই. রক্ষণশীল (টোরি) দলের ইশতেহার বেশ পরিশীলিত হলেও চমকিত হওয়ার মতো নয়। তাদের ইশতেহারের মূল বক্তব্য—ব্রেক্সিটে হ্যাঁ, কর বৃদ্ধিতে না এবং ঈশ্বর আপনাদের করবিনের হাত থেকে রক্ষা করুন। সরকারি পরিষেবা বাড়ানোর কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেষ্টাই করা হয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ পলিসি-অ্যাকশনের অভাব লক্ষণীয়। সম্প্রতি যেসব নির্বাচন হয়েছে, তাতে তাদের ঠোঁটের কোনায় হাসির রেখা বিরাজ করছে। একজন বিশ্লেষক বলেছেন, তারা ৪৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। যাই হোক, বরিস ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী—দুজনের ব্যাপারেই ভোটারদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা কাজ করছে।

বেশ কিছু খুচরা প্রস্তাবও আছে টোরি ইশতেহারে—মূলত তাদের ঘাঁটি এলাকার জন্য। ফাঁকফোকর বোজানোর জন্য প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দের প্রস্তাব না থাকলে শিশুপ্রযন্ত বিষয়ে এক বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি অনেক আকর্ষণীয় হতে পারত। পরিষেবাবিষয়ক প্রতিশ্রুতিতে নতুন কিছু আছে বলা যায় না। তাদের শাসনামলে লক্ষণীয় যেসব ক্ষতি হয়েছে তার কিছু প্রতিকারের চেষ্টা দেখা গেছে। ২০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ হবে, তবে ওই সংখ্যক পদ এরই মধ্যে খালি হয়েছে। লাখখানেক নতুন নার্স দরকার, এসব জায়গা খালি হয়ে আছে নার্সিং পেশাবিষয়ক পড়াশোনায় ফি সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার নীতির কারণে। ৮০টি নতুন হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। কার্যত নতুন ছয়টি হাসপাতাল হবে, বাকিগুলোতে সূচনামূলক অর্থায়ন করা হবে।

টোরি ইশতেহারের শিরোনাম—‘ব্রেক্সিট সম্পন্ন করুন, ব্রিটেনের সম্ভাবনা উন্মোচন করুন।’ স্লোগানটি কার্যকর, সমস্যা হলো বাস্তবতার সঙ্গে এর সম্পর্ক খুব ক্ষীণ। মিস্টার জনসন যে চুক্তি করতে চান তা ব্রিটেনকে মুক্ত করার চেয়ে আরো বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে। তবে তাঁদের প্রতিশ্রুতি ও কৌশল ভালো ফল দিতে পারে, যদি ভোটাররা সেসব ভালো করে খতিয়ে না দেখেন।

তিন. ব্রিটেনের নির্বাচনী ব্যবস্থা ছোট দলগুলোর জন্য নির্মম। মধ্যবর্তী স্থানীয় নির্বাচনে এবং উপনির্বাচনে তারা যে গুরুত্ব অর্জন করে, সাধারণ নির্বাচনে তা হারিয়ে যায়। লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের (লিবডেম) ক্ষেত্রেও তাই। দলটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নীতি হচ্ছে, আর্টিকল ৫০ বাতিল করে ব্রেক্সিট রদ করা। তাদের ইশতেহারে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় রেফারেন্ডাম হলে তারা ইইউ সদস্যপদের পক্ষে থাকবে। কিন্তু কিভাবে তা পরিষ্কার নয়।

এ নির্বাচন তাদের জন্য একটা সুযোগ নিয়ে এসেছে। লেবার ও টোরির যথাক্রমে বাঁয়ে ও ডানে শিফট হওয়ায় তাদের জন্য রাজনৈতিক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। তার জন্য লিবডেমকে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। জটিল বিষয়গুলোর ব্যাপারে সোজা কথা বলতে হবে, ভারসাম্যপূর্ণ কথা বলতে হবে। লিবডেম স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক তহবিলের জন্য আয়কর এক পেনি বাড়াবে, এটা স্বাগত জানানোর মতো বিষয়। তারা সুব্যবস্থিত গণপরিবহন ব্যবস্থা, সবুজ অর্থনীতি ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা চায়। তারা ব্যাপক সাংবিধানিক সংস্কার চায়, যার মধ্যে রয়েছে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ও ১৬ বছর বয়সীদের ভোটার করার বিষয়ও রয়েছে। তবে জনদৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান (ইউকে)

ভাষান্তর ও গ্রন্থনা : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা