kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বলিভিয়ায় ডানপন্থীদের কর্মকাণ্ড

ফরেস্ট হিলটন

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বলিভিয়ায় ১২ নভেম্বর ডানপন্থীদের অভ্যুত্থানের পর প্রেসিডেন্ট জেনিন আনেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব দ্রুত নিজেদের ক্ষমতা সংহত করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বৈধতা পেতেও তাদের খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। আনেজ সরকার ২০২০ সালে সাধারণ নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে তারা সাংবাদিক, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী, মানবাধিকার কর্মীর ওপর দমন-পীড়ন শুরু করে দিয়েছে। নিরস্ত্র, বিশেষ করে আদিবাসী বিক্ষোভকারীদের ওপর দুই দফা সরকারি শক্তি প্রয়োগে নিহত হয়েছে ১৯ জন। প্রথম ঘটনাটি ঘটে সেকাবাড গত ১৫ নভেম্বর। পরেরটি এলো আলতোতে ১৯ নভেম্বর।

১৯ নভেম্বরের সহিংসতার দুই দিন পর আল-আলতোর ভিন্ন মতাবলম্বীরা আটটি কফিনসহ রাজধানী লাপাজে আসে। আনেজের পদত্যাগের দাবি করে তারা। কিন্তু সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কফিনগুলো রাস্তায়ই পড়ে থাকে। পরে আবার তারা জড়ো হলে সরকার একই প্রতিক্রিয়া দেখায়।

পরের সপ্তাহে সামাজিক আন্দোলন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর আনেজ ২০০৫ সালের আইন পরিবর্তনের কথা ঘোষণা দেন। এটি অবশ্য ১৩ নভেম্বরই গোপনে গ্রহণ করা হয়েছিল। এই আইনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হয়।

এর মধ্যেই এক অডিও রেকর্ডিংয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে অবরোধ জোরদার এবং শহরের খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা যায়। দাবি করা হয়, তিনি সর্বাত্মক যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। আনেজ মোরালেসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনেন।

২০ অক্টোবর বলিভিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে মোরালেসের দল বড় ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ওএএস অবশ্য এখনো এই নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। আনেজ এরই মধ্যে এমএস নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আইন পাস করেন। এই আইনে বলা হয়, পরবর্তী নির্বাচনে মোরালেস বা তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট আলভারো গারসিয়া লিনেরা অংশ নিতে পারবেন না। এখন সন্ত্রাস দমনের কথা বলে চাপেরা ও ইয়ঙ্গাস প্রদেশের কোকো ক্ষেতগুলোতে ফের সাধারণ মানুষকে হত্যা করা শুরু হবে।

আর্জেন্টিনার একটি দল গত ২৮ নভেম্বর সান্তা ক্রুজ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাদের সেখানে আটকে কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা লাপাজে যেতে চাচ্ছিল। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর সাদা পোশাকের পুলিশ তাদের মারধর করে। নতুন পুলিশপ্রধান রদলফ মনতেরো বলেন, কিউবা, ভেনিজুয়েলা ও কলম্বিয়ার গ্রুপের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারীদের জন্য বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী গ্রুপ (সিইএটি) খোলা হবে।

নজরদারির মধ্যেই আর্জেন্টিনার মানবাধিকার প্রতিনিধিদল এল আলতোর পুলিশি নির্যাতনের শিকার কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তারা ধর্ষণ, নির্যাতন (শিশুসহ), নিখোঁজ, অভিযোগ ছাড়াই আটক, চিকিৎসাসেবা না দেওয়া, নারীদের অপুষ্টির কথা উল্লেখ করে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিয়ে এসব নির্যাতন চালিয়েছে।

অভ্যুত্থানকারীরা কখনোই তাঁদের অতি দক্ষিণপন্থী অবস্থান লুকানোর চেষ্টা করেননি। ২৯ নভেম্বর লুই ফারনান্দো কামাচো অভ্যুত্থানের নেপথ্যের প্রধান সংগঠন কমিতি সিভিকো দ্য সান্তা ক্রুজ থেকে পদত্যাগ করে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কামাচোর সঙ্গে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অভ্যুত্থানের আগে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরনেস্টো আরৌজোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। তবে সরকারের দৃষ্টিতে ক্ষমতাবান হলেও কামাচোর বা পুমারি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ভোট পাবেন বলে মনে হয় না। এবারের নির্বাচনে অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রথম পর্বের ভোটে হয়তো কেউই জিতবেন না।

এমএএস থেকে সম্ভবত আদ্রিয়ানা সালভাতিয়েরা প্রার্থী হবেন। তিনি গত ১০ নভেম্বর সিনেটের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আরো আছেন অ্যান্ড্রোনিকো রদ্রিগেজ। তিনি কোকো উত্পাদনকারী ছয়টি চাষি সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। এই সংগঠনই ইভো মোরালেস ও এমএএসের জন্ম দেয়। তবে সালভাতিয়েরা বা রদ্রিগুয়েজ—কেউই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জাতীয় রাজনীতিক নন। বয়সও কম। তাঁরা এক-তৃতীয়াংশ ভোটও পাবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। পাশাপাশি এই পরিবেশ-পরিস্থিতিতে তাঁরা প্রচার কতটা চালাতে পারবেন তা-ও দেখার বিষয়।

বলিভিয়ায় খ্রিস্টান মৌলবাদীদের প্রভাব বাড়ছে। এরই মধ্যে ব্রাজিল ও ইকুয়েডরে দক্ষিণপন্থী ব্যবস্থা সাফল্য পেয়েছে। ব্রাজিলের নেতৃত্বে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে লাতিন আমেরিকা জুড়ে। ভেনিজুয়েলায় আমরা অভিন্ন চেষ্টা দেখতে পাই।

 

লেখক : কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও রাজনীতির শিক্ষক

সূত্র : কাউন্টার পাঞ্চ

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা