kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ম্যান্ডেলা দশক উন্নয়ন স্থিতি ও শান্তির বাসনা

অনলাইন থেকে

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাকুতে গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ১৮তম ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেয়। চূড়ান্ত বাকু ঘোষণায় ‘রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য, সর্বোচ্চ সম্মানবোধ, মিত্রতা ও শান্তি’ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষমতায়নের জন্য রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ সর্বোপরি নিজ নিজ জনগণের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছে।

এই নীতিগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন ২০১৯-২০২৮ সালকে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তির দশক ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। ২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি শীর্ষ সম্মেলন চলাকালে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

জাতিসংঘের ৭৩/১ প্রস্তাব অনুসারে ন্যাম জাতিসংঘ সনদ ও মানবাধিকারবিষয়ক বৈশ্বিক ঘোষণার  (ইউডিএইচআর) সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে তাদের মৌলিক নীতি স্মরণ করে। এতে বলা হয়, মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং মর্যাদা ও অধিকারের ক্ষেত্রে সমান অধিকারপ্রাপ্ত। পরস্পরের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে তারা কাজ করবে।

নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে বলা হয়, শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার জাতিসংঘ ব্যবস্থার স্তম্ভ। এগুলোই সমন্বিত নিরাপত্তা ও কল্যাণের ভিত্তি। উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার একে অপরের সঙ্গে আন্ত সম্পর্কিত।

এই সম্মেলনে আরো বলা হয়, মানুষের মর্যাদা, সম-অধিকার, জন্মগত স্বাধীনতার প্রতি সম্মান স্বীকৃত। বিশ্বের সামগ্রিকতা, ন্যায়বিচার ও শান্তি নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি মানব সমাজের প্রত্যেক সদস্য। এই দর্শনের ভিত্তিতেই ৭৩/১ নম্বর প্রস্তাবে বর্ণবাদ, বর্ণবাদী বৈষম্য, বিদেশিদের সম্পর্কে অহেতুক ভীতি এবং অসহনশীলতার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই প্রস্তাবে আরো বলা হয়, স্থায়ী শান্তি, সমঝোতা এবং মানুষ, জাতি, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ব্যক্তির মধ্যে বন্ধুপ্রতিম মনোভাবের জন্য সংস্কৃতি, জাতিগোষ্ঠী, বর্ণ ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি সহনশীলতা অপরিহার্য।

এই প্রস্তাবে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময়কে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তির দশক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই দশকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করারও তাগিদ দেওয়া হয়। এতে লিখিতভাবে প্রায় ১০০টি দেশ, তাদের সরকার ও প্রতিনিধিরা সব দেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং একই সঙ্গে হুমকি দেওয়া ও শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার জাতিসংঘ ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা ও কল্যাণের মূল ভিত্তি—এই বিষয়গুলোর স্বীকৃতিও তারা দিয়েছে। টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ সালের কর্মসূচির প্রতিও এই ঘোষণার সমর্থন রয়েছে।

গণ-অংশগ্রহণ এবং নারী ও তরুণদের পূর্ণ অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে নেতারা প্রতিশ্রুতি দেন যে আমরা শান্তিপূর্ণ, ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এই প্রতিশ্রুতি শুধু মুখের কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।’

এই প্রস্তাবে আরো বলা হয়, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংঘাত নির্মূলে সুধীসমাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শান্তি অব্যাহত রাখতে বহু লোক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা, বয়োজ্যেষ্ঠ গোষ্ঠী, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্যানেল অব দ্য ওয়াইজ, ব্যবসায়ী নেতা, ঐতিহ্যবাহী গোষ্ঠীর নেতা, ধর্মীয় নেতা, সাংস্কৃতিক নেতা, সম্প্রদায়ের নেতা, নারী ও তরুণ শিক্ষাবিদ প্রতিনিধি, ক্রীড়া তারকা এবং চলচ্চিত্র তারকারা। বিশেষ করে ক্রীড়া ও শিল্পের সঙ্গে জড়িত তারকারা মানুষের বোধ, সংস্কার, আচরণ পাল্টে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে মানুষকে উৎসাহিত করা, বর্ণ ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ভেঙে দেওয়া, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সংঘাতের উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারেন তাঁরা।

শুধু সামরিক সংঘাত বন্ধের মাধ্যমেই নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তির দশক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছে না; বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা ভাবা হচ্ছে সব বিরোধপূর্ণ ইস্যুর ইতিবাচক, প্রগতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক সংলাপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যার ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান, সমঝোতা, সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি দর্শন। শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় নেলসন ম্যান্ডেলার ভূমিকারই স্বীকৃতি দিয়েছে ন্যাম।

 

সূত্র: নয়া দিল্লি টাইমস

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা