kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ব্রিটিশ নির্বাচন এবং ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন

অনলাইন থেকে

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ব্রিটিশ রাজনৈতিক দৃষ্টি লেজার রশ্মির মতো সেঁটে থাকবে। ব্রিটেন যদি নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে নাও থাকত, তবু তার দৃষ্টি একই রকম থাকত। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কারণে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অজনপ্রিয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের ওপর নজর অন্য সময়ের চেয়ে বেশি কৌতূহলী থাকবে। আশার (অথবা শঙ্কার) বিষয় হচ্ছে—মিস্টার ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় শেষ মুহূর্তের আতশবাজি করতে পারেন। বিষয়টি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এরই মধ্যে আঁচ করেছে মনে হয়। আগামী সপ্তাহে সাংবাদিকরা সারিবদ্ধ হয়ে তাঁকে এমন সব প্রশ্ন করবেন, যাতে তিনি আগুনে ঘৃতাহুতি দিতে পারেন।

লেবার পার্টি বা অন্য বিরোধী দলগুলো একান্তে বলাবলি করছে, তারা রোমাঞ্চিত বোধ করবে যদি মিস্টার ট্রাম্প তাদের অভিযোগকে নিশ্চিত করে বলেন, ব্রেক্সিটের পর যেকোনো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধের মূল্য সমন্বিত হতে হবে। তা-ই যদি ঘটে, তাহলে লেবারদের নড়বড়ে নির্বাচনী প্রচারণা দৈবাৎ জেটের গতি পাবে। মিস্টার ট্রাম্প যদি বরিস জনসনকে সমর্থন জানাতে বা জেরেমি করবিনকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করতে প্ররোচিত হন, তাহলে তো কথাই নেই।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখন কী করেন বা বলেন, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। রক্ষণশীল (টোরি) পার্টির কৌশলবিদরা বেশ আগে থেকেই অবহিত যে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন এবং তাতে ট্রাম্পের উপস্থিতি তাঁদের জন্য বিপজ্জনক মুহূর্ত সৃষ্টি করতে পারে। নিশ্চিত করেই যায়, তাঁরা অতিরিক্ত সময় ধরে ভাবছেন, কাজ করছেন—হোয়াইট হাউসকে এ কথা বোঝানোর জন্য যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত হবে স্বাগতিকদের প্রস্তুতকৃত স্ক্রিপ্টে নিষ্ঠ থাকা। টোরিরা চাইবে, মিস্টার ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী সমর্থন প্রকাশে রাষ্ট্রনায়কোচিত কথা বলুন, বেশি উচ্চকিত না হোন; আরো ভালো হয়, যদি তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে এনএইচএস বিষয়ে প্রবোধমূলক বাণী লেবার পার্টিকে বেচালে ফেলেন।

আগামী সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচারণা স্নায়ু-উত্তেজক দশায় পৌঁছবে—এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। ভাবনার বিষয় হচ্ছে, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন নিজেই কম আলোচিত থাকবে। এটা একই সঙ্গে দুর্ভাগ্য ও পরিহাসের বিষয় হবে। দুর্ভাগ্যজনক হবে এ কারণে যে সম্মেলনে তাৎপর্যপূর্ণ যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে, সেগুলো জটিল ও জরুরি এবং সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দরকার। আর পরিহাসমূলক এ কারণে যে আসন্ন নির্বাচনের আগের কোনো নির্বাচনে ব্রিটেনের বৈশ্বিক অবস্থান এত ঝুঁকিতে পড়েনি, আগের কোনো নির্বাচনে পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকা এবারের মতো কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে কম ছিল না।

ন্যাটোর বর্তমান সদস্যসংখ্যা ২৯। যুক্তরাষ্ট্রের পর ন্যাটোর প্রতি ব্রিটেনের অঙ্গীকার ও দায় সবচেয়ে বেশি। আগামী বুধবার ওয়াটফোর্ডে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করছে ব্রিটেন। কিন্তু ন্যাটো জোট ট্রাম্পের কাছ থেকে অনিশ্চিত অঙ্গীকারের ইঙ্গিত পাচ্ছে। অতি সম্প্রতি ওয়াশিংটন উত্তর সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করেছে, এতে তুরস্ক (ন্যাটো সদস্য) সেখানে আগ্রাসন চালানোর সুযোগ পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত আচরণ শুধু ট্রাম্প আমলের বিষয় নয়, আগেও দেখা গেছে। তাঁর নিকটবর্তী পূর্বসূরি বারাক ওবামা ও জর্জ বুশ জোটের ব্যাপারে, বিশেষ করে দায়ভার বহনের ব্যাপারে দোদুল্যমান ছিলেন।

ব্রিটেনের ভূমিকা এখন একটি বিষয়ে ঘনীভূত হয়েছে—ন্যাটো নিয়ে যা ঘটছে ঘটুক। কিন্তু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ যথা অর্থেই অনেক চ্যালেঞ্জিং। তিনি সিরিয়ার ব্যাপারে ন্যাটোর ভূমিকার সমালোচনা করে এটিকে ‘ব্রেন-ডেড’ অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিমত, সন্ত্রাসবাদের হুমকি (আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের সন্ত্রাসী হুমকিসহ) মোকাবেলায় নতুন ধরনের জোট ও নতুন ধরনের সহযোগিতা দরকার। তাঁর এ কথায় ন্যাটোর পূর্ব-ইউরোপীয় সদস্যরা উত্তপ্ত মন্তব্য করেছে। সন্ত্রাসবাদের চেয়েও রাশিয়াকে বড় হুমকি মনে করে।

সব বিষয়ই সামনে আসবে। তবে এসব প্রসঙ্গ সিদ্ধান্তমূলক প্রক্রিয়ায় নিরসিত হবে কি না তা এখনো পরিষ্কার নয়। আশা করা হচ্ছে, শীর্ষ সম্মেলনে মিস্টার ম্যাখোঁর অভিযোগের বিষয়াদি পর্যালোচনা করতে একটি ‘বিশেষজ্ঞ গ্রুপ’ গঠন করা হবে। যদিও ইত্যবসরে ন্যাটোর সামগ্রিক ব্যয় বেড়েছে। এ সপ্তাহের তথ্যচিত্রে দেখা গেছে, মোট সদস্যের ১৯ সদস্যেরই ব্যয় ২০১৪ সালে অনুমোদিত জিডিপির ২ শতাংশের নিচে রয়েছে।

ব্রিটেন ফ্রান্সের সঙ্গেই কাজ করবে—ইউরোপীয় পক্ষ থেকে ন্যাটোর ভূমিকা পুনর্নির্ধারণ করায় ও নেতৃত্ব দেওয়ায়। কিন্তু ব্রেক্সিট—টোরি মেনিফেস্টোতে যদিও বলা হয়েছে, ব্রিটেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো বড় ভূমিকা পালন করবে—উল্টো কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। (টোরিপক্ষের) দাবি যদি সত্যি হয়, তাহলে ন্যাটোর জটিল বিষয়গুলোর যথাযথ সমাধান হচ্ছে কি না সেদিকে সবার নজর থাকবে। কিন্তু দাবি সত্য নয়, এ কারণে সবার নজর থাকবে ট্রাম্পের ওপর এবং ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ যুক্তিতর্কে তাঁর প্রভাবের ওপর।

 

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা