kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

আশা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের গেমস

ইকরামউজ্জমান

৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আশা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের গেমস

সার্কভুক্ত সাতটি দেশের ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়রা এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে অবস্থান করছেন। নেপালে এসএ গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে কাল ১ ডিসেম্বর, রবিবার। আর সমাপনী ১০ ডিসেম্বর। তবে আগেভাগেই শুরু হয়ে গেছে ভলিবল।

অলিম্পিকের কথা বলছি না, এশিয়ান গেমসের ধারে-কাছেও নেই এসএ গেমসের মান এবং জৌলুস। কিন্তু এটা ঠিক, ১৭৫ কোটি মানুষের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক এই বৃহৎ স্পোর্টস এবং মৈত্রীর মেলায় অংশ নেন। অংশগ্রহণের বিষয়টি অবশ্যই বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ক্রীড়া পরিকল্পনা ও চিন্তার বিষয়। এখানে কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা যদি সার্কভুক্ত সাতটি দেশের পিছিয়ে থাকা ক্রীড়াঙ্গনের দিকে তাকাই, তাহলে এই বৃহৎ ক্রীড়ানুষ্ঠান প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ। বিশাল মানবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও জোটভুক্ত দেশগুলোর ক্রীড়াঙ্গন আঞ্চলিক ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে ভীষণভাবে পিছিয়ে আছে।

নেপালে এসএ গেমসের ১৩তম আসর। ১৯৮৪ সালে নেপালে শুরু হওয়া এই আঞ্চলিক গেমস ৩৫ বছর ধরে খুব সচলভাবে চলেছে—এটি বলা যাবে না, তবে বন্ধ হয়ে যায়নি। এটি অনেক বড় আশীর্বাদ সার্কভুক্ত দেশের খেলোয়াড়, ক্রীড়াবিদ এবং ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন সংগঠকদের জন্য। প্রথমে ছিল সাফ গেমস (সাফ ফেডারেশন গেমস)। এরপর হয়েছে এসএ গেমস (সাউথ এশিয়ান গেমস)।

যখন দেখি এসএ গেমসে অংশগ্রহণের জন্য দেশ থেকে কয়েক মাস প্রস্তুতি নিয়ে অনেক ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়ের বড় দল বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতে যায়—বিষয়টিকে ইতিবাচক মনে হয়। প্রস্তুতির প্রশিক্ষণের জন্য কিছু খেলার খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদরা দেশে ছাড়াও বিদেশেও প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। দেশে স্থানীয় ও বিদেশি কোচের অধীনে নিজ নিজ খেলার ফেডারেশনের নিয়ন্ত্রণে নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ মিলে। এসএ গেমস না থাকলে তো এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদরা। তা ছাড়া এই যে প্রশিক্ষণের সুযোগ, এতে তো ক্রীড়াঙ্গনে খেলার মানে কমবেশি প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব পড়ে।

আন্তর্জাতিক ‘মেগা স্পোর্টস ইভেন্ট’ শক্তিমান, বেগবান ও ক্ষমতাবানদের জন্য। আমাদের খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদরা প্রস্তুতি নিয়েছেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধ অবস্থার মধ্যে সম্ভব হয়েছে। এবার পরীক্ষা দেওয়ার পালা। পরীক্ষায় নিজের সামর্থ্যের সব কিছু ঢেলে দিয়ে ভালো করার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। পরীক্ষায় কে অংশ নিচ্ছে আর কে নিচ্ছে না, এটা মাথায় আনার সুযোগ নেই। এসএ গেমসকে ঘিরে আঞ্চলিক প্রতিটি দেশের খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদরা সব শক্তি, দক্ষতা উজাড় করে প্রাণপণে লড়বেন। এ লড়াইয়ে সঙ্গে শুধু ব্যক্তিগত বা দলগত কৃতিত্ব দেখানোর প্রশ্নই জড়িত নয়, জড়িত দেশের সম্মান ও মর্যাদা। চিন্তা করুন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে জিতলে বিভিন্ন  ভেন্যুতে বাজবে আমাদের জাতীয় সংগীত, আকাশে উড়বে প্রাণপ্রিয় লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা। যে পতাকা অর্জিত হয়েছে লাখো শহীদের রক্ত এবং অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। আমরা তো ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে অনেক দূরে যেতে পারিনি—আমাদের কাছে এসএ গেমস তাই ‘মিনি অলিম্পিকের’ সমতুল্য। আমরা সেই চেতনা ও বিশ্বাস পোষণ করি। এসএ গেমস আমাদের খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদদের কাছে অনেক বড় স্বপ্ন পূরণের তীর্থভূমি। অনেক কথাই উঠতে পারে, অনেক কথাই বলা যাবে, এসএ গেমস আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে কিন্তু সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এই গেমস আমাদের এগিয়ে চলার মানদণ্ড।

আমরা যত কথাই বলি না কেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গন কিন্তু এগিয়ে চলেছে। ক্রীড়াঙ্গনে এখন সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো সরকারের প্রত্যক্ষ সাহায্য-সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা। দেশের সরকারপ্রধান নিজে খেলাধুলায় ভীষণ আগ্রহী। ক্রীড়াঙ্গনের সর্বক্ষেত্রে তাঁর উপস্থিতি এবং প্রত্যক্ষ সহযোগিতা অনেক বড় প্রেরণা ও আস্থা।

২৫টি খেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। সব খেলায় ভালো করার সংকল্প নিয়েই খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদরা গেছেন। প্রত্যেকেরই নিজস্ব স্বপ্ন আছে। আছে দেশের জন্য ভালো কিছু করার তাগিদ। এ ক্ষেত্রে কে কোথায় অংশ নেবে না এটা ভাবার সুযোগ নেই—যেটা আগেই বলেছি। লক্ষ্য হতে হবে নিজের সেরাটা ঢেলে দেওয়া। আন্তর্জাতিক ‘মেগা স্পোর্টস ইভেন্ট’ কখনো দেশের হাতের মোয়া নয় যে সহজেই প্রাপ্তি সম্ভব। এখানে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না—খাটো করেও দেখে না।

বাংলাদেশ এ পর্যন্ত বিগত ১২টি গেমসে ৬৭টি সোনা ও ১৭৪টি রুপা জিতেছে। দেশের বাইরে কখনো ১০টি সোনা গেমসে জিততে পারিনি। আমাদের ভাবতে হবে নেপালে এগোবার কথা। দেশে ২০১০ সালে ১৮টি সোনা জয় সম্ভব হয়েছে, ৯ বছর পর এসএ গেমসে আমরা কেন ১৮টির বেশি সোনা জয় করতে পারব না। সব কিছুই নির্ভর করছে খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদদের মানসিকতা, দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস, জয়ের ক্ষুধা এবং গেমস চত্বরে নৈপুণ্য প্রদর্শনের ওপর। গুড লাক বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা