kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ডেমোক্রেটিক পার্টি, ট্রাম্প ও অভিশংসন

পল ক্রেইগ রবার্টস

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ মনোযোগ দিলেই বিপাকে পড়বে ডেমোক্র্যাটরা। রাশিয়াগেট নিয়ে সুবিধা করতে না পেরে অ্যাডাম স্কিফ (ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান) একজন ভুয়া ‘হুইসেল ব্লোয়ারকে’ আমদানি করেন। যাকে সাক্ষ্য দেওয়ানোর জন্য প্রকাশ্যে আনার সাহস ডেমোক্র্যাটদের নেই। বরং তারা পররাষ্ট্র দপ্তরের ওপর নির্ভর করতে চায়। যে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো তথ্যই নিশ্চিতভাবে জানাতে পারে না।

ডেমোক্র্যাটরা এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে কেন? এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেই যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিচার-বিবেচনার কোনো বালাই নেই। তবে রাশিয়াগেট নিয়ে জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজির পর কী করে তারা আশা করে আমেরিকানরা এতটাই গর্দভ যে তাদের কথায় আবার বিশ্বাস করবে? 

কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, তথাকথিত এই অভিশংসনের তদন্ত নিয়ে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্র্যাটরা কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারবে না। কারণ তাদের কাছে কিছু নেই। তারা তরুণদের মধ্যে ট্রাম্প সম্পর্কে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য এ কাজ করছে। কারণ এখন বহু তরুণই কোনো কিছু খতিয়ে না দেখে নিজেকে ‘কুল’ দেখাতে বাজার চলতি গুজবে কান দেয়। ডেমোক্র্যাটরা দেখাতে চাইছে ট্রাম্পকে ঘৃণা করার মধ্যেই ‘স্মার্টনেস’ লুকিয়ে আছে। তারা তরুণদের বোঝাতে চাইছে, তাদের ভোট ডেমোক্র্যাটদের দেওয়া এবং ট্রাম্পকে ঘৃণা করার মধ্যেই লুকিয়ে আছে স্মার্টনেস।

আমি সম্প্রতি জানতে চেয়েছিলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল বার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাশিয়াগেট অভ্যুত্থানে ওবামা প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন সেগুলো কোথায়। প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? এর জবাবে কয়েকজন রিপাবলিকান বলেন, ভোটের সময়ের জন্য বার অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের আগে এমন একটি সময় এগুলো প্রকাশ করা হবে যখন ভোটারদের ওপর এর সর্বোচ্চ প্রভাব পড়বে। যদিও এই তথ্য সঠিক হয়, তবে তাঁরা ভুল করছেন। বার যত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করবে ততই ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণা বাড়বে। হয়তো এমন একটি সময় এসে উপস্থিত হবে, যখন ট্রাম্পের এই তথ্যবহুল খবর কোনো কাজেই আসবে না। বার যতই অপেক্ষা করবে ততই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি এই অভিশংসন সার্কাসের তলায় চাপা পড়তে থাকবে। বার যতই অপেক্ষা করবে, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ও হাউসের ডেমোক্র্যাটদের কারণে ততই রিপাবলিকানরা নেতিয়ে পড়তে থাকবে। অত্যন্ত নোংরাভাবে কিছু লোক যেকোনো মূল্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঘৃণা তৈরি করতে চাইছে। সৎ মানুষ কখনোই এই নোংরা চালের সঙ্গে তাল দেবে না।

বাস্তবতা হচ্ছে, এখন এমন বহু আমেরিকান আছেন যাঁরা প্রেসিডেন্টকে এতটাই ঘৃণা করেন যে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ট্রাম্পকে উত্খাত করা হলে তাতেও সমর্থন দেবেন। এ বিষয়টি নিয়ে তাঁরা এতটাই আবেগপ্রবণ যে একটি অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রের পরিণতি কী হতে পারে সে সম্পর্কেও তাঁদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এটাই হচ্ছে সেই পাহাড়ি ঢাল, যাতে পিছলে পড়ে গিয়েছিল রোমানরা। একবার এক সম্রাটকে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। সব সম্রাটকেই এভাবে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব। সরিয়ে দেওয়াও হয়। কিন্তু এর প্রেক্ষাপটে রাজ্যের অভ্যন্তরে যে তীব্র বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, তার প্রেক্ষাপটে পতন হয় রোমের। 

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে এমন বহু ইস্যু রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা খুব সহজেই এগুলো ব্যবহার করতে পারে। যার সঙ্গে বহু আমেরিকান একমত হবেন। বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মরালেসের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যে অভ্যুত্থান ঘটে গেল তার জন্য ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পরিবেশের সুরক্ষা কবচগুলো শিথিল করার অভিযোগ তুলতে পারে। জ্বালানি কম্পানিগুলো দেশের বনজ সম্পদে লুটপাট চালাচ্ছে—এমন অভিযোগও তোলা যায় সহজেই। সৎ সাংবাদিকতা চর্চার দায়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতা চালাচ্ছেন ট্রাম্প—এ অভিযোগও মিথ্যা নয়। তারা অভিযোগ করতে পারে, ট্রাম্প ইসরায়েলি স্বার্থ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছেন। এর সবই বাস্তবতা। এগুলো এবং আরো অনেক প্রকৃত ইস্যু রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তার পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে আমরা পাচ্ছি ধাপ্পাবাজি করা কেলেঙ্কারি।

এর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের মধ্যে দেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার মতো সমন্বয় নেই। যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মিথ্যা আর ঘৃণা ছাড়া কিছুই দিতে পারে না তখন আর যা-ই হোক গণতন্ত্রের চর্চা সম্ভব নয়। হাউস ডেমোক্র্যাট ও গণমাধ্যম কেন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে?

 

লেখক : অর্থনীতিবিদ, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি

সূত্র : ইনস্টিটিউট ফর পলিটিক্যাল ইকোনমি

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা